December 3, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, November 23rd, 2022, 9:32 pm

বিপিসির এলপিজি স্টোরেজ ও বটলিং প্লান্ট নির্মাণের উদ্যোগ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিপুল পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন ক্ষমতার স্টোরেজ ও বটলিং প্লান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে। ওই লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকু-ে এক লাখ টন এলপিজি মজুদে অবকাঠামো নির্মাণ করতে বিপিসি ইতোমধ্যে বোয়ালিয়া মৌজায় প্রায় ১৩ একর (১২.৮৮) জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এখনো বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাগজপত্রের জটিলতা চুকিয়ে ওই প্রকল্পের ভূমির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই বিপিসি প্রকল্পের সরেজমিন কার্যক্রম শুরু করবে বিপিসি। সীতাকু-ের ওই এলপিজি স্টোরেজ ও বটলিং প্লান্টে বিপিসি পুরো অর্থায়ন করবে। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিপিসির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল)। প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের লক্ষ্য গ্রাহকের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা। বিপিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারি কোম্পানি বর্তমানে এলপিজিএল বাজারে সাড়ে ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে ৫৯১ টাকায় (বিইআরসি নির্ধারিত)। বছরে সাড়ে ১২ হাজার টন এলপিজি সরবরাহের পুরোটাই স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসছে। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত এলপিজির মূল্য বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ করা এলপি গ্যাসের তুলনায় অর্ধেকের বেশি সাশ্রয়ী। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সরবরাহকৃত এলপি গ্যাসের মূল্য এখন ১ হাজার ২৫১ টাকা (নভেম্বরের জন্য)। বেসরকারি অপারেটররা সৌদি আরামকো কোম্পানি সিপি অনুযায়ী কমিশন নির্ধারিত দামে বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ করছে।
সূত্র জানায়, বিপিসি বাইরে থেকে এলপিজির কাঁচামাল আমদানি করে তা বটলিং করে জ¦ালানি তেল বিপণনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে বাজারজাত করবে। আর বিপিসির আমদানি করা এলপি গ্যাস বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী নির্ধারিত বাজারে বিক্রি হবে। বর্তমানে বেসরকারি এলপিজি খাতে এখন ৩০ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজার। ২৭টি প্রতিষ্ঠান ওই খাতে ব্যবসা করছে। ওসব অপারেটরের বর্তমান এলপিজি মজুদ সক্ষমতা এক লাখ টন। গত ৫ বছরে এলপি গ্যাস জনপ্রিয় ও চাহিদা বাড়ায় ওই খাতে বার্ষিক চাহিদা এখন প্রায় ১২ লাখ টন। বেসরকারি কোম্পানিগুলোই চাহিদার ৯৮ শতাংশ এলপি গ্যাস সরবরাহ করছে। বাকি ২ শতাংশ সরকারি এলপি গ্যাস কোম্পানি সরবরাহ করছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহে শীর্ষস্থান দখলে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির মার্কেট শেয়ার বর্তমানে ২০ শতাংশ।
সূত্র আরো জানায়, ইতোপূর্বে বিপিসি আরো বেশ কয়েকটি বড় পরিকল্পনা নিলেও সেগুলোর এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি নেই। বছরে ৩০ লাখ টন জ¦ালানি তেল পরিশোধনক্ষমতার ইস্টার্ন রিফাইনারি বা ইআরএল-২ ইউনিট নির্মাণ পরিকল্পনা করেছিল সরকার। ২০১০ সালে নেয়া ওই প্রকল্প বিপিসির বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু গত ১২ বছরেও ওই প্রকল্পের সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাছাড়া বিপিসির হাতে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের দায়িত্ব। আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরে শুরু হলেও ওই প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। ওই প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়েও সংশ্লিষ্টরা সন্দিহান।
এদিকে বেসরকারি খাতের এলপিজি উদ্যোক্তাদের মতে, বিপিসির এ উদ্যোগ এলপিজি খাতে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলবে। কারণ তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এমনিতেই ছোট কোম্পানিগুলো হিমশিম খাচ্ছে। তার ওপর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রাইসিং ফর্মুলায় ওই খাতের ব্যবসা সংকুচিত হয়ে আসছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে এলপিজির চাহিদার প্রায় পুরোটা বেসরকারি এলপিজি অপারেটররা সরবরাহ করছে। ছোট বাজারে দুই ডজনেরও বেশিসংখ্যক কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করায় ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বেশ কয়েকটি কোম্পানি এ খাত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। আর স্থানীয়ভাবে এলপি গ্যাসের যে চাহিদা তার প্রায় তিন গুণ সক্ষমতা বেসরকারি অপারেটরদের রয়েছে। বিপিসি যদি আমদানি করে এলপি গ্যাস বিক্রি করে সেক্ষেত্রে বেসরকারি অপারেটরদের চেয়ে কম মূল্যে সরবরাহ করা চ্যালেঞ্জিং।
অন্যদিকে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবু হানিফ জানান, এলপি গ্যাসের বিদ্যমান বাজার বিবেচনায় নিয়ে বিপিসি এলপিজি মজুদ বটলিং প্লান্ট প্রকল্প পরিকল্পনা করেছে। মূলত গ্রাহকের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস পৌঁছে দেয়ার জন্যই ওই ধরনের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সেটি নির্মাণ করা গেলে এলপি গ্যাস খাতের বাজার সাশ্রয়ী হতে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সরকারি এলপিজিএল কোম্পানি আরো বৃহৎ পরিসরে গ্রাহকের কাছে পণ্যটি পৌঁছাতে পারবে।
সার্বিক বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ জানান, উন্নয়ন পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেটি বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।