May 23, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, March 13th, 2023, 9:20 pm

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল দাম কমার প্রভাব দেশে পড়েনি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চলতি বছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে কমেছে। পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৭ ডলার থেকে এখন ১০৫ ডলারে নেমে এসেছে। তাতে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) জ্বালানি তেলের আমদানিতে প্রায় ১০ শতাংশ ব্যয় কমেছে। কিন্তু বিশ্ববাজারের দামের সাথে দেশে জ্বালানি তেলের দামে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বিপিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানিতে ৪২৮ কোটি ১৪ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) একই সময়ে ৩৮৬ কোটি ডলারের জ¦ালানি তেল আমদানি হয়েছে। ওই হিসাবে অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে জজ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় কমেছে ৪২ কোটি ১২ লাখ ডলার বা ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। পাশাপাশি এ সময়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় ছিল ৫৭ কোটি ১৭ লাখ ডলার, চলতি অর্থবছরের এ সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৫৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। তবে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয় ছিল ৩৭০ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, চলতি অর্থবছরের এ সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলারে। চলতি অর্থবছরে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ৮৫ শতাংশই পরিশোধিত ছিল। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে দেশে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৮ শতাংশই আসে। এ সংস্থাটিই দেশে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির একমাত্র প্রতিষ্ঠান। তবে আমদানি ব্যয় কমলেও চলতি অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ কমেনি। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাবে প্রায় একই পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করেও প্রতিষ্ঠানটির ৪২ কোটি ডলার কম ব্যয় হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৬৬ হাজার টন অপরিশোধিত এবং ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থবছরে মোট ৬৯ লাখ টনের কিছু বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করে। ওই পরিমাণ তেল আমদানি করতে সংস্থাটির ব্যয় হয়েছে ৪৭ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। ডলারের হিসাবে বিপিসি ৫৪৯ কোটি (৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করেছে। চলতি অর্থবছরে বিপিসি মোট ৭৩ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারকে প্রতি মাসে বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানিতেলের দাম সমন্বয় করার সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির কাছ থেকে ঋণ প্রাপ্তির শর্তের তালিকায় এটি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক মাস জ¦ালানি তেলের দাম নিম্নমুখী। ২০২০ সালের মাঝামাঝি বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৭০-৮০ ডলার। গত বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১৩৭ ডলার পর্যন্ত ওঠেছিল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি তেল ১০৫-১০৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। সূত্র আরো জানায়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে সরকার গত বছরের ৬ আগস্ট দেশের বাজারে দাম প্রায় ৫১ শতাংশ দাম বাড়ায়। প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৮০ থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ৮৯ থেকে বাড়িয়ে প্রতি লিটার অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৩৫ টাকা। পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৮৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকায় উন্নীত করা হয়। জ্বালানি তেলের রেকর্ড দাম বাড়ার প্রভাবে উসকে ওঠে মূল্যস্ফীতি। পরবর্তী সময়ে ২৯ আগস্ট সব ধরনের জ্বালানিতেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা কমানো হয়। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসার কোনো প্রভাব দেশের বাজারে পড়েনি। এ বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ জানান, বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় কিছুটা কমেছে। তবে এখনো মুনাফায় যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। বিশ্ববাজারে দাম কমায় বিপিসির আমদানি ব্যয় কমবে।