October 7, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, August 15th, 2022, 9:37 pm

বিশ্ব শ্রমবাজারে বাংলাদেশী শ্রমিকের চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভে আশার আলো দেখাচ্ছে

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ব শ্রমবাজারে বাংলাদেশী শ্রমিকদের চাহিদা বাড়ছে। দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশী শ্রমিকদের চাহিদা বেড়েছে। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে আশার আলো দেখাচ্ছে। চলতি বছরের ৭ মাসেই জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে গত বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। তার মধ্যে গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন দেশে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি জনশক্তি রফতানি হয়েছে। নতুন করে মালয়েশিয়া, ইতালি ও গ্রিসে শ্রমিক নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাছাড়া মহামারির ধাক্কা সামলে সউদী আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে জ¦ালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। তাতে ওসব দেশের অভিবাসী কর্মীর চাহিদাও বেড়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিও বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সউদী আরবে সর্বোচ্চ জনশক্তি রফতানি হচ্ছে। তাছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিশাসে কর্মী গমনের সংখ্যা বাড়ছে। পূর্ব এশিয়ার জাপানেও শিক্ষানবিস কর্মী যাওয়া শুরু হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থই বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের সবচেয়ে বড় উৎস। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনায় শ্রমবাজারে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। জনশক্তি রফতানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে সউদী আরব বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী নিচ্ছে। গত ১ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৯১৪ জন নারী-পুরুষ কর্মী সউদী আরবে চাকরি লাভ করেছে। একই সময়ে ওমানে ১৩ হাজার ৩১৩ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার ৬০৩ জন, সিঙ্গাপুরে ৫ হাজার ১১৪ জন, মরিশাসে ৪১৪ জন, পোল্যান্ডে ১০৩ জন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪২৬ জন কর্মী চাকরি লাভ করেছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারও চালু হচ্ছে।
সূত্র জানায়, দেশে বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের তীব্র সঙ্কটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গত জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা ১৭০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ৮ কোটি ডলার বেশি। আর সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বা ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। একক মাস হিসাবে তা গত ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং গত অর্থবছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণও বাড়বে। বিগত ২০২১ সালের জুলাই মাসে প্রবাসীরা ১৮৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের একই মাসে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। আর চলতি বছরের গত জুনে প্রবাসীরা ১৮৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। ফলে গত জুন মাসের তুলনায় সদ্য শেষ হওয়া জুলাইয়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৬ কোটি ডলার। আর আগস্টে রেমিট্যান্সের ঢল নেমেছে। এক সপ্তাহেই এলো ৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি মাসের প্রথম ৭ দিনে ৫৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছে প্রবাসীরা।
সূত্র আরো জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আরো বেশি জনশক্তি রফতানি সম্ভব। দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সরকার অতিসম্প্রতি সারাদেশে আরো ২৪টি টিটিসি উদ্বোধন করেছে। ২০২১ সালের প্রথম ৭ মাসে বিভিন্ন দেশে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৮৭ জন জনশক্তি রফতানি হয়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪২৬ জন জনশক্তি রফতানি হয়েছে। ২০২১ সালে পুরো বছরেই ওই সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ জন। বিগত ডিসেম্বরে বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১৬ জন। ২০২১ সালে মোট জনশক্তি রফতানির মধ্যে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২২৭ জনই গেছেন সউদী আরবে। অর্থাৎ ৭৪ শতাংশই গেছেন সউদী আরব। ২০২১ সালে ৮০ হাজার ১৪৩ নারী কর্মী কাজ নিয়ে বিদেশে গেছে। নারী কর্মীদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি সউদী আরবে গেছে ৪৬ হাজার ৩৬১ জন। তারপর জর্ডানে ১১ হাজার ৬৯৭ জন, আর ওমানে গেছে ৭ হাজার ৬৪৫ জন নারী কর্মী।
এদিকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে প্রচুর বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। দেশটির প্রায় ৪শ’ কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন জানিয়েছে। আর দ্রুত যাচাই বাছাই করে কর্মী নিয়োগের সত্যায়ন দেয়া হচ্ছে। তবে দালাল চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু হাজার হাজার কর্মী রাজধানীর সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারগুলোতে চড়া দামে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছে। যদিও ওসব কর্মী আদৌ দেশটিতে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মালয়েশিয়া কর্মী রফতানি প্রসঙ্গে বায়রার সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব ও আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আবুল বাশার গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রয়ি প্রতিদিনই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমতির জন্য কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে নতুন নতুন ফাইল জমা হচ্ছে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, উভয় দেশের চুক্তি অনুযায়ী বিএমইটির ডাটা ব্যাংক থেকে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মী নিয়োগের কথা। কিন্তু এজেন্সিগুলো এ ব্যাপারে এগিয়ে আসছে না। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ডাটা ব্যাংক থেকে কর্মী নেয়ার জন্য বিএমইটির ডিজির মাধ্যমে এজেন্সিগুলোকে চিঠি দেয়া হচ্ছে।