May 27, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, February 20th, 2022, 8:19 pm

বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে বন্ধ রয়েছে বিপুলসংখ্যক কারখানা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সারাদেশে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরগুলোতে ৫৯৪টি শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বিসিকের নীতিমালা অনুযায়ী কারখানা চালাতে না পারলে স্বেচ্ছায় বিক্রি করে দিতে হয়। তা না হলে বিসিক প্লট বাতিল করে নতুন উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বিপুলসংখ্যক কারখানাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও বিসিক কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করছে না। তবে বিসিক বলছে, প্লট নিয়ে যারা দীর্ঘদিনেও কাজ শুরু না করে ফেলে রেখেছে এবং যেসব কারখানা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ওসব প্লট বিসিক বাতিল করছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সুনির্দিষ্ট শিল্প-কারখানা করার প্রকল্প প্রস্তাবের ভিত্তিতেই বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অনেক উদ্যোক্তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কারখানা না করে প্লট ফেলে রাখে। এমন পরিস্থিতিতে এখন প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর সম্ভাব্যতা যাচাই করেই উদ্যোক্তাদের প্লট দেয়া হচ্ছে। আর প্লট নিয়ে প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে যদি কেউ কারখানা না করে তাহলে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা দীর্ঘ সময় ধরে কারখানা বন্ধ রেখেছে তাদের প্লটও বাতিল করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিসিকের ৭৯টি শিল্পনগরে মোট শিল্প প্লট সংখ্যা ১১ হাজার ৬৩৬টি। তার মধ্যে ১০ হাজার ৬৪৮টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওসব বরাদ্দ করা প্লটে ৫ হাজার ৯৯৮টি শিল্প-কারখানা থাকার কথা। কিন্তু সেখানে বর্তমানে উৎপাদনরত আছে ৪ হাজার ৭৬৯টি কারখানা। বাস্তবায়নাধীন আছে ৬৩৫টি আর রুগ্ন বা বন্ধ আছে ৫৯৪টি শিল্প-কারখানা। বেশির ভাগ শিল্প ইউনিটই একাধিক প্লট ব্যবহার করছে। ওই কারণেই বরাদ্দ করা প্লট আর গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার সংখ্যায় তারতম্য দেখা যায়।

সূত্র আরো জানায়, সারা দেশের মধ্যে হালকা প্রকৌশল মুন্সীগঞ্জ শিল্পনগরীতে সবচেয়ে বেশি প্লট খালি পড়ে আছে। সেখানে ৩৬২টি প্লটের মধ্যে সবকটিই খালি রয়েছে। তারপর গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণে শিল্পনগরে খালি আছে ১৩১টি প্লট। শ্রীমঙ্গল শিল্পনগরীতে খালি আছে ১২১টি প্লট। বরিশাল শিল্পনগরীতে খালি আছে ৯২টি প্লট। চুয়াডাঙ্গা শিল্পনগরীতে খালি আছে ৭৮টি, মাদারীপুর সম্প্রসারণ শিল্পনগরীতে ৩৮টি, বরগুনা শিল্পনগরীতে ৪০টি, ঝালকাঠি শিল্পনগরীতে ৩৯টি, খাগড়াছড়ি শিল্পনগরীতে ৩৩টি, সুনামগঞ্জ শিল্পনগরীতে ১০টি, লালমনিরহাট শিল্পনগরীতে ৯টি, মেহেরপুর শিল্পনগরীতে ৬টি, ভোলা শিল্পনগরীতে ৬টি, পটুয়াখালী শিল্পনগরীতে ৪টি, রাঙামাটি শিল্পনগরীতে ৫টি এবং কক্সবাজার শিল্পনগরীতে খালি আছে ৩টি প্লট।

এদিকে শিল্প প্লট বরাদ্দ বিষয়ে বিসিকের শিল্পনগরী ও সমন্বয় শাখার উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী নাসরীন রহিম জানান, বিসিকের নীতিমালা অনুযায়ী যারা প্লট বরাদ্দ নিয়েও কাজ শুরু করে না জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির মাধ্যমে সেগুলো বাতিল করা হয়। আবার বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর উদ্যোক্তারা অনেক সময় বিসিকের অনুমতি নিয়ে নতুন উদ্যোক্তার কাছে প্লট হস্তান্তর করে দেয়। তবে যারা হস্তান্তর না করে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ রাখে তাদের প্লট বাতিল করে দেয়া হয়। তবে প্লট বাতিল করার আগে স্থানীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে তাদের বারবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়। তারপরও কাজ না হলে জেলা বরাদ্দ কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।  আর প্লট খালি হলেই বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। প্লট নিতে সংশ্লিষ্ট জেলার বিসিক বরাবর বা সরাসরি বিসিকের চেয়ারম্যান বরাবরও আবেদন করা যায়। পরবর্তী সময়ে জেলা কার্যালয় আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির মাধ্যমে বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে বিসিকের পরিচালক (শিল্প উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ) মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, যারা প্লট বরাদ্দ নিয়েও দীর্ঘসময়ে কাজ শুরু করেনি জেলা কমিটিগুলো তাদের প্লট বাতিল করছে। আর যারা কারখানা বন্ধ রেখেছে তাদের প্লটও বাতিল করা হচ্ছে।