September 28, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, September 12th, 2022, 9:50 pm

বেড়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি এক ডজন ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেড়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি এক ডজন ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ। মূলত ঋণের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণের আধিক্যের কারণে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বেড়ে গেছে। ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি ১২টি ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বেড়ে যাওয়ায় তার বিপরীতে কাক্সিক্ষত হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি। ফলে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং মূলধন ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকির মাত্রাও বেড়েছে। গত জুন শেষে ওই ব্যাংকগুলোতে ২৯ হাজার ৩১ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি হয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৬টি সরকারি ও ৬টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। তার কম হলেই মূলধন ঘাটতি দেখা দেবে। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে না পারলে নানাবিধ সমস্যার আশঙ্কা থাকে। তাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষ্পত্তিতে ব্যয় বেড়ে যাবে। কারণ মূলধন ঘাটতি থাকলে ব্যাংকিং খাতের রেটিং খারাপ হয়ে পণ্য আমদানিতে ব্যাংকগুলোর গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে। তখন থার্ডপার্টি গ্যারান্টির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে হবে। তাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাবে ব্যয়।
সূত্র জানায়, সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বছরের পর বছর কোনো ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি থাকতে পারবে না। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত মেনে নেবে। তার পর মূলধন ঘাটতি হলে ওই ব্যাংককে হয় মার্জার অর্থাৎ অন্য কোনো ব্যাংকের সাথে একীভূত হয়ে যেতে হবে অথবা বন্ধ হয়ে যাবে। ওই কারণে কোনো ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হলে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কীভাবে মূলধন ঘাটতি পূরণ করবে তার পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে তা মনিটরিং করবে। এভাবে দুই বছর পর আইন অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বছরের পর বছর ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি দেখা দিলেও তার বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, জুন শেষে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ১২ ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ২ হাজার ১২৪ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ২৯৯ কোটি টাকা, পদ্মা ব্যাংকের ২৬৩ কোটি টাকা এবং নতুন প্রজন্মের বেঙ্গল ব্যাংকের ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।