May 27, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, March 7th, 2022, 9:47 pm

বৈদেশিক সহায়তার জন্য নির্ধারিত শতাধিক প্রকল্পের ভাগ্য অনিশ্চিত

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বৈদেশিক সহায়তার (ঋণ ও অনুদান) জন্য নির্ধারিত ১৩২টি উন্নয়ন প্রকল্প। ওসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫৮ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন। কিন্তু এখনো ওই অর্থের কোনো সংস্থান হয়নি। আর চলতি অর্থবছর (২০২১-২২) শেষ আসলেও এর মধ্যে টাকা জোগাড়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ওসব প্রকল্পের মধ্যে সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকারের ৯৬টি, মধ্য অগ্রাধিকারে ২৬টি এবং নিম্ন অগ্রাধিকারে রয়েছে ১০টি রয়েছে। তবে মূল এডিপিতে ওই তালিকায় ছিল ১৪১টি প্রকল্প। সেখান থেকে ৯টি কমেছে। ওসব প্রকল্প সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বৈদেশিক সহায্যপ্রাপ্তি সুবিধার্থে তালিকাভুক্ত করা হয়। বৈদেশিক অর্থায়নের সম্ভাব্য উৎস হিসাবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ধরা হয়েছে চীন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ভারত, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এবং কোরিয়া। পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, খাতভিত্তিক বৈদেশিক সহায়তার জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের মধ্যে পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বেশি ৬০টি প্রকল্প রয়েছে। ১৮টি প্রকল্প নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। ১৫টি প্রকল্প নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত খাত। তাছাড়া শিক্ষার ৯টি, পরিবেশ-জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদের ৭টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ৫টি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে ৩টি প্রকল্প রয়েছে। আরো আছে স্বাস্থ্য খাতে ৩টি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৩টি, জনশৃঙ্খলার ৩টি, সাধারণ সেবায় ২টি, সামাজিক সুরক্ষায় ২টি, কৃষিতে ২টি এবং ডাক ও টেলিযোগাযাগ খাতে ১টি প্রকল্প।
সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৯৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯৩ কোটি টাকা মোট ব্যয় ধরা হয়েছে। তার মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা এবং এডিবির ঋণ থেকে ধরা হয়েছে ৫৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটিকে সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকার হিসাবে ধরে চলতি মাস থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া ঢাকা ইনার সার্কুলার রুট (পার্ট-২) নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। তার মধ্যে বৈদেশিক ঋণ হিসাবে ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থের সম্ভাব্য উৎস হিসাবে বলা হয়েছে এআইআইবি। ঋণ পাওয়া গেলে আগামী জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। আর ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) সাউদার্ন রুট শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে এডিবির ঋণ হিসাবে ধরা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট (দ্বিতীয় পর্যায়, ইউনিট ৩, ৪) শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। তার মধ্যে জাইকা থেকে ঋণ হিসাবে ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা। ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে মোট ব্যয় ৮ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। তার মধ্যে এআইআইবির ঋণ হিসাবে ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৭২ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, সংশোধিত এডিপির বৈদেশিক অর্থায়ন প্রত্যাশার তালিকায় থাকা আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হচ্ছে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-থ্রি রংপুর-তিস্তা-বুড়িমারি মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। তার মধ্যে এডিবি থেকে ঋণ হিসাবে ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প। যমুনা নদীর ইকোনমিক করিডর উন্নয়ন প্রকল্প। আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট সিসিপিপি প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সান্তাহার থেকে বগুড়া-কাউনিয়া-লালমনিরহাট হয়ে বুড়িমারি পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইনের সমান্তরাল একটি নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প।
এদিকে এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, তালিকায় আছে বলেই চলতি অর্থবছরেই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন চূড়ান্ত হবে এমন নয়। এর মধ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। নেগোসিয়েশন চলবে। কোনোটির অর্থায়ন চূড়ান্ত হলে সেটি ওই তালিকা থেকে বেরিয়ে নতুন অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দসহ ঢুকবে। যেগুলোয় অর্থায়ন নিশ্চিত হবে না সেগুলো আবারও বরাদ্দহীন তালিকায় রয়ে যাবে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রাথমিক কথা বলেই হয়তো প্রকল্পগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে বিষয়টি দেখবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তবে তালিকায় থাকলে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসাবে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী উভয় পক্ষেরই সুবিধা হয়।