June 26, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, June 19th, 2022, 8:38 pm

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উজানের পানিতে আখাউড়া ও কসবা উপজেলার ৫ ইউনিয়ন প্লাবিত

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উজান (ভারতের) পানিতে আখাউড়া ও কসবা উপজেলার ৫ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। গত তিন চার দিনের বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে জেলার আখাউড়া ও কসবা উপজেলার অনেক গ্রাম প্লবিত হয়েছে এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পানি বন্দি অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চলাচল করতে পারছেনা, গৃহপালিত পশুর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে, রুপা আমন ধান তলিয়ে গেছে, অনেক পুকুর পানিতে ভরে এতে থাকা মাছ ভেসে যায়।
গ্রামের পানি বন্দি বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব নদী, খালে খড়া মৌসুমে পানির অভাবে কৃষিকাজ করতে পারে না, পানির অভাবে ক্ষেতে ফসল হয়না, অথচ বর্ষাকালে অথৈ পানি।
আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ইটনা গ্রামে শুক্রবার ১৭ জুন রাতে উজান (ভারতের) পানিতে হাওড়া নদীতে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার ৩ ইউনিয়ন মনিয়ন্দ, আখাউড়া দক্ষিণ ও মোগড়া ইউনিয়নের প্রায় ২০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে দেখা দিয়েছে অকাল বন্যা, ডুবে গেছে ফসলি জমি ও বাড়ি-ঘর, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। অনেকে ঘড়বাড়ি ছেড়ে অবস্থান করছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। মানুষ ও গৃহপালিত পশু চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিস্বত্তর বাঁধটি মেরামত করতে না পারলে আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আখাউড়ার মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল ভূইয়া বলেন, ইটনা এলাকায় হাওরা নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ইটনা, আইরল, তুলাশিমুল, শৌনলোহঘর, টনকিসহ আরো কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।
আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, ইউনিয়নের বীরচন্দ্রপুর, কালিকাপুর, হিরাপুর, আনুয়ারপুর, আব্দুল্লাপুরসহ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। কাঁচা বাড়ি রয়েছে এমন বেশ কিছু পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে।
আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মনির হোসেন জানান, ইউনিয়নের বাচিয়া, শান্তিপুর, নিলাখাদ, কানুয়াপাড়া, কুসুমবাগ, আদমপুর ও গোয়ালবাড়ি এলাকার বাড়ি-ঘর ডুবে গেছে। এদের জন্য খোলা হয়েছে দুটি আশ্রয় কেন্দ্র।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। হাওড়া নদীর রেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে তিনটি ইউনিয়নের ফসলি জমি ও বাড়ি-ঘর। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ছয় মেট্টিক টন চাউল। ঢাকা-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়ক প্লাবিত হয়ে বন্ধ রয়েছে আখাউড়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম।
কসবা উপজেলায় ও একই চিত্র টানা বর্ষণে ও উজান (ভারতের) পানি নেমে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জয়নগর-ধ্বজনগর সড়কের গোয়ালবাড়ি সেতু এলাকার সড়কটি ভেঙে গেছে। ইউনিয়নের রাজনগর, নোয়াগাঁও, ফতেহপুর, পাথারিয়াদ্বার, জেঠুয়ামুড়া, মধুপুর, জয়নগর, বিষ্ণাউড়ি ও বাহাদুরপুরসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
কসবার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম মান্নান জাহাঙ্গীর বলেন, গোপীনাথ গ্রামের বেশ কয়েকটি মাটির ঘর ভেঙে গেছে। রাস্তা ভেঙে কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা ইসলাম বলেন, উপজেলার গোপীনাথপুর ও বায়েক ইউনিয়নের রাস্তা ভেঙে ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। বন্যার্ত মানুষদের সার্বিক সহায়তা করছে উপজেলা প্রশাসন।