September 27, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, August 21st, 2022, 8:39 pm

ভাদ্রের শুরুতেই শেরপুরে খরা, হুমকিতে আমন ফসল

মোঃ আবু রায়হান, শেরপুর প্রতিনিধি:

বর্ষা শেষ হয়ে ভাদ্র মাস শুরু হয়েছে। বৃষ্টির রেশ কাটেনি অনেক জেলায়। দিন কয়েক থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে দেশের অন্যান্য জেলায়। তবে শেরপুর জেলায় ভিন্ন পরিস্থিতি। শেরপুর জেলায় চলছে দীর্ঘ খরা। খরার কারণে আবহাওয়া এতটাই উষ্ণ যে, মানুষের মাঝে অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। অনাবৃষ্টিতে খরা চলছে এখানে। দীর্ঘ খরার কারণে সদ্য রোপনকৃত রোপা আমন ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির। আমন ফসল লোকসান হওয়ার আশংকায় কৃষকের মাথায় হাত। যদিও এখন রোপা আমন চাষের উপযুক্ত সময়। কিন্তু আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতিতে হুমকিতে পড়েছে আমন চাষ।
ইতিমধ্যেই আমন ফসলের কিছু জমি চাষাবাদ করা হয়েছে এবং আরও অনেক জমিতে রোপন করা বাকী রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে বৃষ্টি না হওয়ায়, যে সমস্ত জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে এবং যেগুলি রোপন করা বাকী রয়েছে সব আমন ফসলি এখন হুমকির মুখে। গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ বৃষ্টি না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, শেরপুর জেলার সিংহ ভাগ লোক কৃষি ফসল রোপা আমনের উপর নির্ভরশীল। উক্ত রোপা আমন চাষ করে নিজেদের খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে, বাকী ধান দেশের অভ্যন্তরের খাদ্যের চাহিদা মিটাতে সহায়তা করে। এই বাড়তি ফসল বিক্রি করে কৃষকদের অন্যান্য চাহিদা পূর্ণ করে থাকেন।
কিন্তু এবছর শুরু থেকেই প্রকৃতির বৈরী আবহাওয়ার হাওয়ার কারণে দুর্ভোগ যেন ছাড়ছেই না। দু’দফা পাহাড়ী বন্যা, অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টির কারণে আবহাওয়া বিরূপ রূপ নেওয়ায় কৃষকরা হতাশায় পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ বৃষ্টি না হওয়ায় সমস্ত আমন ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদি চলতি সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে আমন মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় আশংকা দেখা দিতে পারে বলে জানান কৃষকরা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা হতাশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
কারণ অত্র জেলার কৃষকের আয়ের একমাত্র পথ আমন ফসল। এ ফসল যদি ঘরে তুলতে না পারেন, তহালে তাদের দিনাতি পাত করা অতি কষ্টকর হয়ে পড়বে। অপর দিকে দেশের খাদ্য ঘাড়তির আশংকাও দেখা দিবে। প্রকাশ থাকে যে, অত্র জেলার অধিকাংশ এলাকায় সেচ ব্যবস্থার জন্য কোন রকম গভীর নলকুপ না থাকায় এ পরিস্থিতির মোকাবেলা করা খুবই দূসাধ্য ব্যাপার। উল্লেখ্য, দীর্ঘ খরার কারণে নদী-নালা, খাল-বিলে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মাছেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।