December 6, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, July 29th, 2021, 1:00 pm

ভারী বর্ষণে বরগুনায় প্লাবিত ফসলের মাঠ, মাছের ঘের

ফাইল ছবি

জেলা প্রতিনিধি :

সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণে বরগুনার বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অতিবর্ষণের প্লাবনে লোকালয়ের পাশাপাশি আমনের বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়াও নদীতীরবর্তী এলাকার ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে চাষের মাছ বানের তোড়ে গেছে।

গত ২৪ ঘন্টায় বরগুনা জেলায় ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বঙ্গোসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় অতিবর্ষণের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদবপ্তর।

জেলা পানি উন্নয়ণ বোর্ডের পানি পরিমাপক মাহতাব হোসেন জানান, তিনটি প্রধান নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন অতিবর্ষণে বরগুনার পায়রা-বিশখালী ও বলেশ্বর এই তিনটি নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

অতিবর্ষণের সাথে ঝড়ো হাওয়ায় সৃষ্ট ঢেউয়ে জেলার বন্য নিয়ন্ত্রন বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপকূলীয় নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনার ৬ উপজেলার মধ্যে আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা ও বরগুনার সদরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

গত ৪ দিনের টানা ভারিবর্ষণে ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়েছে। এতে আমনের বীজতলা নিমজ্জিত রয়েছে। এছাড়াও আমনের চাষাবাদ বন্ধ রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এবার জেলায় এক লাখ ২২ হাজার ৯৯৪ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এসব জমিতে আমন আবাদের জন্য ১৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়। কিন্তু প্রবল বর্ষণের কারণে অধিকাংশ এলাকার বীজতলা এখন ডুবে আছে। এতে বীজতলার চারাগুলোতে পচন ধরার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও আমনের আবাদের মৌসুমে জমির চাষাবাদও বন্ধ হয়েছে।

অতিবর্ষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে উপকূলীয় বরগুনা জেলার মাছ চাষীদের। বিশেষ করে নদী তীরবর্তি এলাকার ঘেরগুলোর অধিকাংশই বর্ষণের পানিতে থইথই করছে। এস ঘেরের মাছ নেটজাল দিয়ে কোনোমতে আটকে রেখেছেন চাষিরা। তবে অনেকের মাছ লাফিয়ে বানের জলে ভেসে গিয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ বলেন, আমাদের ২২ টি পোল্ডারের ৮০০ কিলোমিটার বেরিবাধের বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন কবলিত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আমরা সেসব এলাকার বাঁধ রক্ষায় ব্যবস্থা নিচ্ছি।