May 29, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, April 10th, 2022, 9:23 pm

ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজে ধীরগতি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুষ্ঠু ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দেশের বড় বড় শহর যেমন মেট্রোপলিটন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের তার মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত প্রকল্পের কাজ সামান্য কিছু এগিয়েছে বলে জানা গেছে। অতিসম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ঢাকায় ডিপিডিসি ১২৮৭ কিলোমিটার ও ডেসকো ১৩৬৬ কিলোমিটার, পিডিবি সিলেটে ৩৮ কিলোমিটার নেসকো রাজশাহী ও রংপুরে ১১ কিলোমিটারসহ প্রায় ২ হাজার ৭০২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, দেশের সব শহর এলাকার বিদ্যুতের লাইন ২০২৫ সালের মধ্যে মাটির নিচে নিয়ে যাওয়া হবে। এজন্য ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর কর্মপরিকল্পনায় দেখা গেছে, ভূগর্ভে বিতরণ লাইন নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। কোম্পানিটি এরইমধ্যে এক হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন মাটির নিচে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া তারা এখন আরও ৯৬৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার লাইন মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেখা গেছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দুর্ঘটনা রোধ ও মেট্রোপলিটন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্যই সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। একসময় উৎপাদন কম ছিল, এখন উৎপাদন বেড়েছে। বিতরণ ও সঞ্চালনে যে সমস্যা রয়েছে, তা দূর করার চেষ্টা চলছে। ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের যেসব মাপকাঠি রয়েছে তার মধ্যে নিরাপত্তা একটা বড় বিষয়। ঢাকা শহরের মতো ঘিঞ্জি এলাকায় বিদ্যুতের নিরাপত্তা বিধান এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ব্যাঘাত মোকাবিলায় ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপন অত্যন্ত নিরাপদ ও সহায়ক এবং এতে সিস্টেম লসও কম হয়। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে শহরকেন্দ্রিক এলাকাতেই ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপনের ক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডার হিসেবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি, ডিটিসিএ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, ওয়াসা, রেলওয়ে, তিতাস, রোডস্ অ্যান্ড হাইওয়েসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরামর্শ ও অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপনে বিদ্যমান অবস্থা বজায় রেখে আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন নির্মাণ, মাটির নিচে বিদ্যমান বিভিন্ন ইউটিলিটি লাইনের বিষয় সুরাহা করা, রাস্তার সংকীর্ণতা, সময়ের সীমাবদ্ধতা, বায়ু ও শব্দ দূষণ, দীর্ঘ সময় বর্ষাকাল, সমন্বয় সভা দ্রুত না করা, সভার কার্যবিবরণী ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রাপ্তিতে সময়েক্ষেপণ এবং উভয় সিটি করপোরেশনের ডিভিশনের এস্টিমেটের ভিন্নতাসহ অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব কারণে ক্যাবল স্থাপনে অনেক অসুবিধা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় কাজ করার সময় উদ্ভুত কোনো সমস্যা সমাধানেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যেসব প্রতিবন্ধকতাগুলোর মধ্যে রয়েছে শহর এলাকায় অপ্রশস্ত ও জনবহুল রাস্তার পাশে ট্রান্সফরমার, রিং মেইন ইউনিট (আরএমইউ) ইত্যাদি স্থাপনে পর্যাপ্ত স্থানের অপ্রতুলতা। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরের রাস্তায় বিভিন্ন ইউটিলিটির ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও কেবল বিদ্যমান থাকায় বৈদ্যুতিক কেবল স্থাপনের জন্য রুট নির্ধারণ একটি দুরূহ কাজ। সব ইউটিলিটি একটি নির্দিষ্ট লাইন নির্মাণ করে কেবল স্থাপন করতে পারে। আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল স্থাপনের খরচ ওভারহেড লাইন নির্মাণের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এজন্য সব বিভাগীয় শহরের লাইন আন্ডারগ্রাউন্ডে স্থাপনে অর্থায়ন করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। ভূগর্ভস্থ কেবল স্থাপনে সিটি করপোরেশন থেকে সড়ক খননের প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রাপ্তি সময়সাপেক্ষ। তাছাড়া সড়ক খননের অনুমতি পাওয়ার পর কাজ বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সময় ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন ইউটিলিটির লাইন যেভাবে স্থাপন করা হয়েছে তার নকশা সংরক্ষণ নেই। অপরিকল্পিভাবে ইউটিলিটি লাইন নির্দিষ্ট লেয়ার মেইনটেইন না করে স্থাপন করার ঘটনাও ঘটেছে। ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সড়ক খননে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে সড়ক খননকাজ করা হয়েছে। খননকাজে অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহারও করা হয়েছে এক্সক্যাভেটর। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণের সময় বন্যা ও জলাবদ্ধতার বিষয়টি একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আন্ডারগ্রাউন্ড সিস্টেমের ওপর দক্ষ জনবল ও ভূগর্ভস্থ লাইন পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি। প্রকল্প গ্রহণের আগে বিস্তৃত ঘনবসতিপূর্ণ নগরীর অংশ, সরু রাস্তা দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল, অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য বিস্তারিত সমীক্ষা এবং ড্রইং ও ডিজাইন প্রণয়নেও ঘাটতি দেখা গেছে। এসব কারণে কেবল স্থাপনে অনেক অন্তরায় সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রকল্পের কাজে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ৪-৫ বছর আগে শহরগুলোতে ভূগর্ভস্থ ক্যাবল স্থাপনের জন্য অনুশাসন দিয়েছেন। ঢাকা শহরে ৩৩ – কেভি/হাইভোল্টেজ লাইনগুলোকে আন্ডারগ্রাউন্ড করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নকশা এবং বাস্তবতার মধ্যে মিল না থাকায় এবং ঠিকাদাররাও নকশা অনুযায়ী কাজ না করায় বিভিন্ন সংস্থা অনেক সময়ই তার কেটে ফেলে, যা ভবিষ্যতে একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে। তিনি জানান, ডিপিডিসি ২০১৬ সালে জিটুজি প্রকল্প নিলেও কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। ডেসকো ২০১৬ সালে নকশা তৈরির জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ করলেও এখনো নকশা তৈরি হয়নি। আরইবি ২০১৭ সালে কেরানীগঞ্জের একটি অংশের জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ করে ডিপিপি সম্পন্ন করতে পেরেছে। আরও ৪ টি উপজেলায় তারা কাজ শুরু করেছে। পিডিবি ২ বছর আগে কনসালটেন্ট নিয়োগ করলেও কোভিডের কারণে নকশা তৈরি হয়নি। নকশা তৈরির পর ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাজেট অনুমোদন, ডিপিপি তৈরি এবং টেন্ডার সম্পন্ন হতে আরও ৫-৭ বছর সময় লাগবে। ওজোপাডিকো কনসালটেন্ট নিয়োগ করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছে। নেসকো কেবলমাত্র কাজ শুরু করেছে। এভাবে কাজ শেষ করতে ৮-১০ বছর সময় অতিক্রান্ত হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।