July 24, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, February 7th, 2023, 12:02 pm

মই টেনে জীবিকার চাকা ঘুরাচ্ছেন কৃষাণী মনোয়ারা

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ (হালুয়াঘাট) :

বোরো আবাদে ধার করা মই দিয়ে ক্ষেত তৈরি করছেন এক হতদরিদ্র নারী। ফসলি ক্ষেত উচু নিচু সমান্তরাল করতে মই’র ওপর ভর করে বসে থাকেন ৫ বৎসরের ছোট শিশু। সোমবার ফসলের মাঠে এমন দৃশ্য আর যাপিত জীবনে দেখা মিলল ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভাট্রা নয়াপাড়া গ্রামের কৃষাণী মনোয়ারা বেগম (৫০) এর বেলায়।
হতদরিদ্র ওই পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩ সন্তানের জননী দরিদ্র কৃষক আবুল কাশেম স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। সন্তানরা বিয়ে করে সবাই আলাদা সংসার করছেন। স্বামীর ভিটেমাটি ছাড়া নেই কোন ফসলি জমি। টানপোড়েন আর অভাবের সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে বাড়তি রোজগারের টাকা দিয়ে বন্ধকী পন্থায় ১৫ শতাংশ সংগ্রহ করেন। গেল দুই বৎসর ধরে ফসলের মাঠে ঘাম ঝরিয়ে চাষাবাদ করে যাচ্ছেন। চাষ করার জন্য নেই তার কৃষি যন্ত্রপাতি বা হালের গরু। ফলে ট্রাক্টর (কলের নাঙ্গল) দিয়ে চাষ করছিলেন।
কিন্তু টাকার অভাবে কয়েকদিন ধরে ক্ষেতে মই দিতে পারছিলেন না। পরে প্রতিবেশী এক কৃষকের সহায়তায় মই সংগ্রহ কর অনেকটাই নিরুপায় হয়ে জোয়াল টানছেন মনোয়ারা বেগম ও তার কন্যা সন্তান (নাতনী) আঃ রহমান সহযোগিতা করছেন।
মনোয়ারা বেগম জানান, স্বামী একটি ঢাকার কারখানায় চাকরি করেন। ঠিকভাবে খোজ খবর রাখেন না। এছাড়াও সংসারে নেই কোন উপার্জনের লোক। তাই কিছু টাকা বাচানোর জন্য পরিবারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। কারও কাছে টাকা ধার চেয়ে সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে অনেক কথা শুনতে হয়। তাই দু’মুঠো ভাতের বাধ্য হয়ে এ কাজ করতে হচ্ছে।
প্রতিবেশী শামীম হোসেন বলেন, রোদ বৃষ্টি উপক্ষো করে প্রতিনিয়ত পরিশ্রম ধান চাষ করে যাচ্ছেন মনোয়ারা বেগম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, হালচাষের কোন যোগান না থাকায় নিজেই ক্ষেতে মই টানছেন। সরকারীভাবে কোন সহযোগিতা পেলে হয়ত একটু কষ্ট কম হত।
প্রবীণ কৃষক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কৃষক দিবসের উদ্যোক্তা আজগর আলী রূপক বলেন, সামাজিক রীতি ভেঙ্গে এই কৃষাণী বাংলাদেশের কৃষিতে এক দৃষ্টান্ত উদাহরণ। কৃষিতে চাষাবাদের মাধ্যমে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন তিনি । তার এই সাহসিকতায় প্রবীণ কৃষক কল্যাণ ফাউন্ডেশন সর্বদায় পাশে থাকবে।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, অভাবের তাড়নায় হাল চাষ করানো দুঃখজনক। তবে ওই কৃষাণী তাঁর সমস্যার কথা আমাদের জানালে আমরা সরকারি নিয়ম মেনে তাঁকে সহযোগিতা করা হবে।