September 28, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Saturday, September 17th, 2022, 2:38 pm

মজুদ বেশি থাকলেও সিলেট গ্যাসফিল্ডের উৎপাদন কম

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গ্যাসের মজুদ সিলেট গ্যাসফিল্ডে বেশি থাকলেও উৎপাদন কম। মূলত নতুন কূপ খনন না করা, পুরনো কূপ সংস্কার না হওয়া ও মজুদের তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহৎ মজুদ থাকার পরও গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সিলেট গ্যাসফিল্ড কোম্পানির আওতাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর কোনো উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। ফলে জাতীয় গ্রিডে কোম্পানিটির গ্যাস সরবরাহ সবচেয়ে কম। গত পাঁচ অর্থবছরে কোম্পানিটির উৎপাদন ৩২ শতাংশ কমেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কোম্পানিটির দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ১৪১ মিলিয়ন ঘনফুট থাকলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে তা নেমে ৯৭ মিলিয়ন ঘনফুটে আসে। জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশী-বিদেশী ৫টি গ্যাস উৎপাদন কোম্পানি দেশের জাতীয় গ্রিড গ্যাস সরবরাহ করছে। তার মধ্যে গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের (এসজিএফসিএল) সবচেয়ে বেশি গ্যাস মজুদ রয়েছে। অথচ ৫ বছর ধরেই পপ্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সবচেয়ে কম। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে সাড়ে ৯ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিটের (টিসিএফ) মতো গ্যাস মজুদ ছিল। তার মধ্যে সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতায় ৫টি গ্যাসক্ষেত্রে মজুদকৃত গ্যাস ছিল প্রায় সাড়ে ৪ টিসিএফ বা ৪ হাজার ৪০৯ বিসিএফ (বিলিয়ন কিউবিক ফিট)। আর কোম্পানিটির আওতায় দুটি গ্যাসক্ষেত্রেই ৩ হাজার ৭৭০ বিসিএফ গ্যাস রয়েছে। অথচ ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রিডে এসজিএফসিলের গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর সেখানে বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সরবরাহ ছিল ৬১৩ মিলিয়ন, বাপেক্সের ১৪১ মিলিয়ন, শেভরনের ১ হাজার ৪১২ মিলিয়ন ও তাল্লোর সরবরাহ ছিল ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সূত্র জানায়, বিগত ২০১৬ সালের পর থেকে এসজিএফসিলের আওতাধীন কোনো গ্যাসফিল্ডে নতুন কূপ খনন বা সংস্কার হয়নি। এমনকি উৎপাদন বাড়ানোরর মতো কোনো প্রকল্পও নেয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরেই কোম্পানিটির গ্যাস উৎপাদন কমছে। অথচ কোম্পানির গ্যাস কূপে বিনিয়োগ করা গেলে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসজিএফসিএলের আওতায় যেসব গ্যাসফিল্ড রয়েছে সেগুলো ৬ দশকেরও বেশি পুরনো। সেগুলো ১৯৬০ সালের শুরুর দিকে উৎপাদনে আসে। আর দীর্ঘদিন একটি কূপ উৎপাদনে থাকলে তার গ্যাসের চাপ কমে যায়। তখন কম্প্রেসার বসিয়ে গ্যাসের চাপ তৈরি করা হলেই উৎপাদন বাড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থানীয় কোম্পানিগুলোর আওতায় গ্যাসফিল্ডগুলোর কূপ সংস্কারে বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ বহুজাতিক কোম্পানি তাদের আওতাধীন গ্যাসফিল্ডগুলো কম্প্রেসার বসিয়ে গ্যাস উৎপাদন আগের অবস্থায় রেখেছে।
সূত্র আরো জানায়, জ্বালানি বিভাগ দেশের জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ২০২৫ সাল নাগাদ ৪৬টি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। ওই সময়ে ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার অংশ হিসেবে সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতায় ৬টি নতুন কূপ খনন এবং ৭টি কূপের সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও এসজিএফসিএল বলছে তারা মোট ১৫-১৮টি কূপ খনন ও সংস্কার করবে। বাপেক্সের রিগের বাইরে ভাড়া করা রিগ দিয়ে কোম্পানিটির ওসব কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ দেশের গ্যাস সংকটে সিলেট গ্যাসফিল্ডকে ভালোভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। কোম্পানিটির আওতায় গ্যাসফিল্ডগুলোর যথাযথ সংস্কার করা হলে আরো বেশি গ্যাস পাওয়া সম্ভব।
এদিকে এ বিষয়ে এসজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ও কূপ সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালকে লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে ৪টি কূপের ওয়ার্কওভার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার মাধ্যমে এসজিএফসিএলের জাতীয় গ্রিডে আগামী বছর নাগাদ আরো ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্তের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ডে কূপ খননকাজ শুরু করা হয়েছে। তবে কিছু কূপে কারিগরি জটিলতার কারণে ডাটা আপডেটের প্রয়োজন ছিল, যেটি এখন করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে পুরোদমে কাজ চলবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জানান, স্থানীয় সরবরাহ কত দ্রুত এবং কী পরিমাণ বাড়ানো যায় তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে সিলেট গ্যাসফিল্ডে কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। কোম্পানিটির আওতায় বৃহদংশ গ্যাসের মজুদ রয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করা যায় এ উদ্যোগ সফল হবে।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর অংশ হিসেবে গ্যাসকূপ খননে জোর দেয়া হচ্ছে।