June 28, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, June 5th, 2022, 9:35 pm

মতিঝিলে এখনও তারের জঞ্জাল, ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, অগ্রগতি কোথায় !

গণভবনের ঠিক বিপরীতে তারের জঞ্জাল। যে কোন সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। লাগতে পারে আগুন। ছবিটি রবিবার তোলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঝুলন্ত তার অপসারণে বিগত ১৪ বছর ধরেই ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও ক্যাবল অপারেটরদের (ডিস সংযোগ প্রদানকারী) আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে বার বার। কমিটি গঠন করে বিভিন্ন সময় একেকটি সড়কের ঝুলন্ত তারও কেটেছে ওই কমিটি। তবে তার কেটে দেয়ার ২-৪ ঘণ্টা পরেই আবারও তার ঝুলিয়ে সড়ককে পুরনো রূপে ফিরিয়ে নেয় আইএসপি ও ক্যাবল অপারেটররা। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্তান, পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, ধানমন্ডি মিরপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়ক কিংবা গলি পথ সর্বত্রই ঝুলছে তার। বিদ্যুতের পিলার ব্যবহার করে এসব তার ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীজুড়ে। প্রতিটি পিলারের সাথে পাকিয়ে ফেলা হয়েছে তারের কূন্ডলি। ঝুলে থাকা এসব তারের মাধ্যমেই মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হওয়াসহ নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটছে। জঞ্জালের মতো এসব তার নষ্ট করছে ঢাকার সৌন্দর্য্যও। রাজধানীর সড়কগুলোতে ঝুলন্ত তার (ক্যাবল) অপসারণে সরকার নানা পদক্ষেপের কথা বলেছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথেই কয়েক দফা বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী ও সচিব। দেয়া হয়েছে দফায় দফায় আল্টিমেটাম। তবে কোনো কিছুই কাজে আসছে না।

মতিঝিলের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যালয়ের সামনে এখনও তারের জঞ্জাল। যে কোন সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। লাগতে পারে আগুন। ছবিটি রবিবার তোলা।

রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটিতে এত বিপুলসংখ্যক তার জমে ওঠার একটি বড় কারণ হলো কেবল ও ইন্টারনেট অপারেটরদের কাণ্ডজ্ঞানের অভাব। তারগুলো সুশৃঙ্খলভাবে টানা হলে এবং অসংখ্য কুণ্ডলি পাকানো তার (কয়েল) ঝুলিয়ে না রাখলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভালো হত। যদিও এসব বিষয়ে কোনো সচেতনতা দেখা যায় না তাদের মাঝে। নগর কর্তৃপক্ষও এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নিলেও এখনও তা সঠিক ভাবে কার্যকর হয়নি।

জানা যায়, রাজধানীর সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং কম খরচে নিরবিচ্ছিন্ন  দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা দিতে ২০০৮ সালে ঝুলন্ত তার অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল বিটিআরসি। এজন্য বিটিআরসি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঞ্জুরুল আলম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভূ-গর্ভস্থ কমন নেটওয়ার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি এনটিটিএন গাইডলাইন তৈরি করেন। ওই গাইডলাইন অনুযায়ী, ফাইবার অ্যাট হোম এবং সামিট কমিউনিকেশন্স রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ শেষ করেছে। কিন্তু বেশিরভাগ এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাবল টিভি অপারেটররা অভিন্ন এই নেটওয়ার্কে যুক্ত না হয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ক্যাবল টেনেছে।

রাজধানীতে ইন্টারনেট আর কেবল টিভির তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার কথা প্রায় এক দশক আগে থেকেই চলছে। সরকারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে তারগুলো ঝুলানোই থাকছে। আর সেই ঝুলানো তারের নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ পথচারীররা। কোথাও কোথাও তারের ভারে কাত হয়ে পড়েছে খুঁটি। তারের জটলা হাঁটার সময় পথচারীদের মাথাও ছুঁয়ে যায়। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি, বিটিআরসি সূত্র জানায়, ঝুলন্ত তারের মাত্র ২০-৩০ শতাংশ ভূগর্ভে স্থানান্তরিত হয়েছে। বাকি ৭০-৮০ শতাংশ এখনো রাস্তায় ঝুলছে। শুধু তাই নয়, বড় রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ঝুলন্ত তার সরিয়ে নেয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে আইএসপি এবং ক্যাবল টিভি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো গলিপথে আরো ঝুঁকিপূর্ণভাবে তার ঝুলিয়েছে। মূল সড়কের ঝুলন্ত তার এখন সরু গলিপথেও ছড়িয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে রাজধানীতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রায় ৬০টি আইএসপি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংযোগের প্রায় পুরোটাই বিদ্যুতের খুঁটি নির্ভর।

সম্প্রতি সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বেকায়দায় পড়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে বারবার ধরণা দিচ্ছে এখনই যাতে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হয়। অভিযোগ আছে, বিটিআরসি, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার কারণেই রাস্তায় ঝুলন্ত তার সরানোর কাজে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে বিপজ্জনক তারের জট থেকে নগরবাসী মুক্তি পাচ্ছে না।