December 5, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Saturday, October 2nd, 2021, 7:38 pm

মাদক মামলার সিংহভাগ আসামী’র সাজা হচ্ছে না

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে ‘আইনের ফাঁকফোকর’ শব্দটি একটি প্রবাদে পরিণত হয়েছে। আইনের ফাঁক গলিয়ে এ দেশে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে বিনা বিচারে, বিনা অপরাধে জেল খাটারও।
দেশে মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা বলা হলেও এ-সংক্রান্ত মামলায় ৬০ ভাগ আসামীই খালাস পেয়ে যাচ্ছে। তাদের সাজা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার মধ্যে ২৩ হাজার ৫৩৫ মামলায় সব আসামি খালাস পেয়ে গেছেন। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ২৬ হাজার ১৩৮। এই আসামিরা মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল। কিন্তু এজাহার ও তদন্তে দুর্বলতা, সাক্ষী হাজির করায় ব্যর্থতাসহ নানা কারণে এসব আসামির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। ফলে আদালত এই বিপুলসংখ্যক মামলায় আসামিদের খালাস দেন।
গত ২০ বছরে নিষ্পত্তি হওয়া মামলা পর্যালোচনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালন (অপারেশনস) শাখা এই চিত্র পেয়েছে। ২০০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া মামলার তথ্য-উপাত্ত তাদের বিশ্লেষণে স্থান পায়। এই সময়ে মোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৬ হাজার ৯০৭টি। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক (৫০ দশমিক ১৭ শতাংশ) মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও রাষ্ট্রপক্ষ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে এমন তথ্য পাওয়া যাওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। অধিদপ্তর বলছে, তাদের দেয়া মামলাগুলোর বিচারে আসামি খালাস হওয়ার হার অতিরিক্ত। অথচ এসব আসামীর প্রায় সবাইকেই মাদকসহ গ্রেফতার করেছিল তারা। ডিএনসির কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে উদ্ধার হওয়া মাদকের নমুনা পরীক্ষায় এর সবই মাদক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। এর পরও এত আসামি খালাস পেয়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে উদ্বিগ্ন অধিদপ্তরসহ পর্যবেক্ষকরা।
ডিএনসির কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা’র ভাষ্য, নিয়মিত ভাবেই মাদকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি পরীক্ষায় নমুনাগুলো মাদক হিসেবে চিহ্নিত হলে সে হিসাবে প্রতিবেদন দেয়া হয়। প্রতিবেদন মামলায় অপরাধ প্রমাণের বড় উপাদান। এর পরও আসামিরা কেন খালাস পাচ্ছে, তা চিহ্নিত হওয়া উচিত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে মামলা হয়েছে ৬৯ হাজার ৭৮৭ টি। সেসব মামলায় আসামীর সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৮৯৯। তার মধ্যে ১১ হাজার ৬৩২ টি মামলা আদালতে বিচারের জন্য ওঠে। তাতে ৪ হাজার ৮৭৭ টি মামলায় সাজা দেয়া হয়। ৬ হাজার ৭৫৫ টি মামলা খালাস হয়ে যায়। দেশের আদালতগুলোতে বিচারের জন্য ওঠা মামলার নিষ্পত্তির হিসাবে দেখা যায়, ১১ হাজার ৬৩২ টি মামলায় আসামীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৮১২জন। সাজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৯২। আর খালাস পেয়েছেন ৮ হাজার ২১১জন।
খালাস পাওয়ার নেপথ্য কারণঃ আসামীদের খালাস পাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মামলার শুরু থেকে পুলিশের তদন্তে দুর্বলতা, অভিযোগপত্রে ত্রুটি ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তবে ঠিকমতো সাক্ষী হাজির করতে না পারা এবং বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনায় তদারকির অভাবই মাদক ব্যবসায়ীসহ আসামীদের খালাস পাওয়ার পথ করে দিচ্ছে।
মাদক মামলার তদন্তকারী পুলিশ, আইনজীবী ও আদালত সূত্র জানায়, মাদক মামলার বাদী হন উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা। অনেক মামলায় আবার অভিযোগকারীকেই (বাদী) তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এজন্য বিচারের সময় তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ক্ষেত্রে আসামীও খালাস পেয়ে যান। তা ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অল্প মাদকসহ আসামি আটক করে আদালতে পাঠালেও পরে বিচার নিশ্চিতের জন্য পর্যাপ্ত তদারকি করেন না।
পুলিশ ও ডিএনসি কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা খালাস পেয়ে আবার পুরনো পেশায় ফিরে যাচ্ছে। জামিন নিয়ে বেরিয়েও তারা পুরনো ব্যবসা শুরু করছে। এসব কারণে মাদক নির্মূলে সব সংস্থার অভিযান চললেও কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না।
সাক্ষীর অনুপস্থিতি অন্যতম সংকটঃ ঢাকা মহানগর আদালতের একাধিক পাবলিক প্রসিকিউটর, এবং অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতে, মাদকের মামলা তদন্তে পুলিশের দুর্বলতা রয়েছে। মাদক উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতার হলেও সুনির্দিষ্টভাবে সাক্ষী রাখা হয় না। এজাহার বা অভিযোগপত্রে থাকা সাক্ষীর ঠিকানাও ঠিক থাকে না। ফলে আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।
তারা বলেন, হয়তো মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের নিযুক্ত আইনজীবীদের কিছু ব্যত্যয় আছে। তবে সাক্ষীকে ঠিকমতো হাজির করতে পারলে মাদক মামলায় আরও বেশি আসামির সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য মামলায় সাক্ষী করতে হবে স্থায়ী ঠিকানার লোকজনকে।
মাদক মামলা পরিচালনা করেছেন এমন একজন আইনজীবী বলেন, পূর্বশত্রুতা বা অন্য কারণে শুধু হয়রানি করার জন্যই অনেককে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসব মামলায় অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।
পুলিশের অভিমত, মাদকের মামলায় এত বেশি আসামি খালাস পাওয়ার পেছনে তদন্ত ঘাটতি বড় নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা আসামি গ্রেফতারের দীর্ঘদিন পর বিচারকাজ শুরু হওয়ায় সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যায় না। ততদিনে তদন্ত কর্মকর্তাও বদলি হয়ে যান। ভয়ভীতির কারণে অনেকে সাক্ষ্য দিতে চান না। নানা প্ররোচনায় অনেকে মিথ্যা সাক্ষী দেন। ছোটখাটো মামলাগুলোয় নজর না থাকলেও মাদকের বড় চালান বা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও মনে করছেন মাদক মামলায় বেশিরভাগ আসামি আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আলামতসহ হাতেনাতে ধরার পরও আসামি খালাস পাচ্ছে। এর কারণ চিহ্নিত করে আসামিদের সাজা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তারা।
তারা বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ অনুযায়ী, আসামিসহ মাদক ধরা পড়লে ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ঢাকায় অবস্থিত রাসায়নিক পরীক্ষাগার থেকে মাদকের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনও নিতে হয়। সময় স্বল্পতার কারণে অভিযোগপত্রে বা মামলার নথিতে অনেক ভুলভ্রান্তি থেকে যায়।
ডিএনসির ভাষ্য, মাদক মামলাগুলো বিভিম্ন আদালতে বিচারাধীন। জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় তারা জানতেও পারেন না, কোন মামলা কোন আদালতে রয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে আদালতে নিলে তাদের পক্ষে অভিজ্ঞ অনেক আইনজীবী দাঁড়িয়ে যান। আইন অনুযায়ী এটা দোষের না। তবে তুলনামূলক বিচারে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তেমন পাওয়া যায় না।
ত্রুটিপূর্ণ এজাহার ও বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী উপস্থাপনে ব্যর্থতাসহ আট কারণে মাদক মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন। গত এক দশকে নিষ্পন্ন হওয়া মামলা পর্যালোচনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এই কারণগুলো চিহ্নিত করেছে বলে ২০১৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে জানানো হয়।
অন্য কারণগুলো হলো, মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা একই ব্যক্তি হওয়া, আইনের বিধান অনুযায়ী জব্দ তালিকা তৈরি না করা, জব্দ তালিকার সাক্ষীদের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্যে অমিল, বাদী ও অভিযানকারী দলের সদস্যদের বক্তব্যে অমিল, আদালতে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতা এবং অনেক ক্ষেত্রে মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাও সাক্ষ্য দিতে আসেন না।
চার বছর আগে কুষ্টিয়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে দৌলতপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৮০০ গ্রাম হেরোইনসহ দুজনকে আটক করেন। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির সঙ্গে তাঁদের আট সহযোগীকে শনাক্ত করে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দৌলতপুর থানা-পুলিশ। কিন্তু আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আট সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। ২০১৯ সালের অক্টোবরে এই মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদ- দেন আদালত। কিন্তু তাঁদের আট সহযোগীকে খালাস দেওয়া হয়।
এই মামলার বাদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক তারেক মাহামুদের ভাষ্য, গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে এজাহারে উল্লেখ করা আটজন একই মাদক চক্রের সদস্য। সেই অনুযায়ী মামলা করা হয়। আদালত আট সহযোগীকে খালাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে তো আর করার কিছু নেই।
তদন্ত কর্মকর্তা এজাহারভুক্ত আসামিদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দেন। অনেক মামলায় এজাহারের বাইরে কোনো তথ্য পাওয়া গেলেও তা উল্লেখ করেন না তদন্ত কর্মকর্তা। আবার আসামির সহযোগীদের অপরাধের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তও করেন না কেউ কেউ। এসব ক্ষেত্রে সহযোগীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান আইনজীবীরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) এ এফ এম মাসুম রব্বানী এর আগে দুই বছর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভাষ্য, মাদক আইনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। তারপরও কোনো পর্যায়ের মানসম্পন্ন তদন্ত হলে সহযোগীসহ আসামিদের সাজা নিশ্চিত করা যায়, তাতে জোর দিতে হবে। আবার মানসম্পন্ন তদন্তের পরও কোনো একটি বিষয়ে যদি আদালত সন্তুষ্ট না হন, তাহলে সাজা না দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর আছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয় নাঃ ২০১৭ সালের মে মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি মামলার রায়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার আসামিকে খালাস দেন পিরোজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, মামলার বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তা একই ব্যক্তি। তাঁকে নিরপেক্ষ সাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ সব সাক্ষী হাজির না করায় আসামিপক্ষ সুবিধা পেয়েছে। আসামিকে হাতেনাতে মাদকসহ আটকের বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ মামলার রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন। তদন্তের নানা দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। গ্রহণযোগ্য সাক্ষী হাজির করতে না করার কথা বলেন। মামলার বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতির কথাও পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। কিন্তু এসব বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে আবারও একই দুর্বলতাসহ মামলা ও তদন্ত করায় আসামি খালাসের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুস সবুর ম-লের মতে, ‘আদালত অনেক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রায় দেন। আসামিদের অপরাধ প্রমাণে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকে না। মামলার এজাহার দায়ের এবং তদন্তে যেন ত্রুটি না থাকে সে জন্য কর্মকর্তাদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-তে বলা হয়েছে, বিচারের জন্য অভিযোগ আমলে নেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। তা না হলে আরও ৩০ কার্যদিবস বাড়ানো যাবে। এর মধ্যে না হলে আরও ১৫ কার্যদিবস বাড়ানো যাবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘মাদক মামলার সাক্ষী হাজিরের ক্ষেত্রে সরকারপক্ষের প্রসিকিউটরের অনীহা দেখা যায়। আর পুলিশ যেখানে সাক্ষী সেখানে সাক্ষী হাজির করানো হয় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে। যখন সাক্ষী হাজির হয় না তখন সে বিষয়টি মনিটরিং করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।’