May 21, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, February 24th, 2022, 8:24 pm

মিলছে না ন্যায্যমূল্য, লোকসানে চুয়াডাঙ্গার পান চাষিরা

চুয়াডাঙ্গার প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে পান। পান চাষে এই জেলার অসংখ্য চাষি স্বাবলম্বীও হয়েছেন। এ জেলার পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো। কিন্তু বর্তমানে করোনাসহ নানা কারণে এখন রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া অসময়ে বৃষ্টি, ছত্রাকজনিত নানা রোগ, কুয়াশা ও তীব্র শীতে পান পেকে যাওয়া, সার, কীটনাশক, মজুরিসহ উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে পান চাষিদের। তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের পানের ন্যায্যমূল্যে নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে, অধিক খরচ আর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দিনে দিনে পান চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার পান চাষিরা। প্রতি বছর লোকসান গুনতে গুনতে অনেকেই পানের বরজ ভেঙে অন্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন। এরই মধ্যে নতুন করে পানের বাজারে বড় দরপতনে আবারও পান চাষ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ জেলায় প্রচুর পান হয়ে থাকে। তুলানামূলক উঁচু জমিতে পান আবাদ ভালো হওয়ায় যুগযুগ ধরে পানের আবাদ করে আসছে এখানকার চাষিরা। পানকে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল বলা হলেও বর্তমানে তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। এখনকার বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। এক সময়ে এ পানের আবাদকে কেন্দ্র করেই জেলায় ঘুরেছে অর্থনীতির চাকা। ধীরে ধীরে সে চাকার গতিও কমে আসছে। পানের চাষ পরিবর্তন করে অনেকেই শুরু করেছেন ভুট্টা, ধানসহ নানা ধরনের ফসলের আবাদ।

তবে স্থানীয়রা পান চাষিদের অভিযোগ,‘যে দামে পান বিক্রি করতে হচ্ছে তা দিয়ে উৎপাদন খরচ উঠছে না। কষ্ট করে পানের আবাদ করি আমরা (চাষিরা) আর মুনাফা যায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পকেটে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০১৮ সালে ১৭৭৪ হেক্টর, ২০১৯ সালে ১৭৩০ হেক্টর, ২০২০ সালে ১৬৭০ হেক্টর, ২০২১ সালে ১৬০৯ হেক্টর ও ২০২২ সালে ১৬৩৩ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। তবে ক্রমান্বয়ে এই পান চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমেছে বলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়।

আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পানবাজারে পানের আড়তে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্রির জন্য চাষিরা পান নিয়ে এসেছেন। বাজারে ক্রেতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বাইরের ক্রেতা নেই বললেই চলে, শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পান কিনছেন। ছোট আকারের পান প্রতি পন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় আকারের পান প্রতি পন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাষিরা জানান, মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের জন্য চুয়াডাঙ্গা বেশ উপযোগী। জেলার চার উপজেলাতের বিভিন্ন গ্রামে পান চাষ হয়। এই অঞ্চলে সাধারণত দুই জাতের মিষ্টি পান ও সাচি পানের আবাদ করা হয়।

চাষি রবিন আলী বলেন, চলতি বছর এক একর জমিতে পানের আবাদ করেছি। আবাদও ভালো হয়েছে। কিন্তু পানের দাম একেবারে কমে গেছে। যে পান গত সপ্তাহে বিক্রি করেছি প্রতি পন ১১০ টাকা, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সে পান দাম কমে বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০ টাকায়।

পানচাষী ইদ্রিস আলী বলেন, আমাদের পানের বরজে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু পানের মূল্য সেভাবে পাচ্ছি না। এ বছরই আমি বরজ ভেঙে ফেলবো।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, পানের তুলনায় অন্যান্য ফসলে ভালো লাভ পাওয়ায় সেদিকে ঝুঁকছেন অনেকে। তবে আমরা চাষিদের পান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক পদ্ধতিতে পানের আবাদে আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আব্দুল মাজেদ বলেন, পানচাষিরা বহুমূখী সংকটে রয়েছেন। বাজারে পানের ভালো দাম পেলে তারা বৈরি আবহাওয়াজনিত বরজের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারতেন। তাছাড়া কৃষকদের পানের ন্যায্যমূল্যে নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

পান চাষিরা যেন সিন্ডিকেটের কবলে না পড়ে এ জন্য নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

—ইউএনবি