June 17, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, February 10th, 2023, 7:56 pm

রংপুরকে উড়িয়ে সিলেটের সামনে কুমিল্লা

অনলাইন ডেস্ক :

আগুনে এক লড়াইয়ের মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়ে দুই দলই ছুটছিল অপরাজেয় পথচলায়। হাতছানি ছিল শীর্ষ দুইয়ে ওঠার। দারুণ ম্যাচের আশায় ছুটির দিনে গ্যালারিতে ভীড় করেছিল হাজার বিশেক দর্শক। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন পড়ল সামান্যই। কুমিল্লার দাপুটে ক্রিকেটের সামনে লড়াই জমাতেই পারল না রংপুর। রংপুর রাইডার্সকে ৭০ রানে উড়িয়ে দুই নম্বরে থেকে বিপিএলের লিগ পর্ব শেষ করল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্রথম ৩ ম্যাচ হেরে আসর শুরু করা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা জিতল বিপিএল রেকর্ড টানা ৯ ম্যাচ! আগামীকাল রোববার টুর্নামেন্টের প্রথম কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লা খেলবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে। সেদিনই এলিমিনেটর ম্যাচে ফরচুন বরিশালের মুখোমুখি হবে রংপুর। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার কুমিল্লা ২০ ওভারে তোলে ১৭৭ রান। রংপুর গুটিয়ে যায় ১০৭ রানে। কুমিল্লার হয়ে এ দিন ফিফটি করতে পারেননি একজনও। তবে শুরুতে কার্যকর ইনিংস খেলেন লিটন কুমার দাস, শেষ দিকে ঝড়ো জুটিতে দলকে দ্রুত রান এনে দেন খুশদিল শাহ ও জাকের আলি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা কুমিল্লাকে আগ্রাসী শুরু এনে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও লিটন। রংপুরের মূল স্ট্রাইক বোলার আজমতউল্লাহ ওমারজাইকেই বেছে নেন তারা আক্রমণের জন্য। আফগান এই পেসারের প্রথম ওভারে লিটনের বাউন্ডারিতে শুরু, পরের ওভারে রিজওয়ান মারেন চার ও ছক্কা। পঞ্চম ওভারে ওমারজাইকেই ছক্কা ও চার মারেন লিটন। রংপুর প্রথম ব্রেক থ্রু পায় ওই ওভারেই। ওমারজাইয়ের বাড়তি লাফানো ডেলিভারি ঠিকমতো খেলতে পারেননি রিজওয়ান, উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ নেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। উইকেটে রিজওয়ানের সঙ্গী লিটন অবশ্য আম্পায়ারদের বলছিলেন, দ্বিতীয় বাউন্সারের জন্য এটি ‘নো বল হওয়া উচিত। রিপ্লে দেখে তার দাবির পক্ষে যুক্তি জোরাল বলেই মনে হয়েছে। কুমিল্লার রানের ¯্রােত অবশ্য তাতে থামেনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রিপন ম-লকে চার ও ছক্কা মারেন লিটন। তিনে নামা সুনিল নারাইনও শুরু করেন টানা দুই বাউন্ডারিতে। তবে ক্যারিবিয়ান তারকা থেমে যান সেখানেই। রিপনের সোজা বল স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি লাইন মিস করে। পাওয়ার প্লেতে তবু ৬৩ রান তুলতে পারে কুমিল্লা। লিটন তখন ছিলেন ১২ বলে ২৯ রানে। রংপুরের হয়ে সুবিধা করতে পারেননি মৌসুমে প্রথম খেলতে নামা আফগান পেসার নাভিন-উল-হক। পাওয়ার প্লে শেষে একটু ‘ধীরে চলো’ নীতিতে এগোতে থাকেন লিটন। ইমরুল কায়েসও সময় নেন কিছুটা। পরের ৫ ওভারে রান আসে ২৯। লিটন পরে গতি বদলানোর চেষ্টা করেন নাভিনকে ছক্কায় উড়িয়ে। কিন্তু ফিফটি পর্যন্ত যেতে পারেননি। রাকিবুল হাসানকে উড়িয়ে মেরে সীমানায় ধরা পড়েন তিনি ৩৩ বলে ৪৭ রান করে। রিপনকে পুল করে বিশাল এক ছক্কা মারলেও কুমিল্লা অধিনায়ক ইমরুল ২০ বল খেলে করতে পারেন কেবল ১৯ রান। দলের ইনিংস সেসময় গতি হারায় কিছুটা। পরের জুটিতে জাকের ও খুশদিল আবার পথে ফেরান দলকে। রিপনের বলে চার ও ছক্কা মেরে চাপ সরিয়ে দেন জাকের। পরে তিনি হাসান মাহমুদকে ছক্কা মারেন চোখধাঁধানো এক আপার কাটে। নাভিনকে টানা দুই বলে ছক্কা-চার মারেন খুশদিল। নাভিনের পরের ওভারে পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান আদায় করেন আরও একটি বাউন্ডারি ও দুই ছক্কা। আন্দ্রে রাসেলকে ড্রেসিং রুমে অপেক্ষায় রেখে দুজনে জুটি গড়েন ৩৯ বলে ৭২ রানের। শেষ ওভারে হাসানকে আরেকটি ছক্কায় উড়িয়ে জাকের বিদায় নেন ইনিংস শেষের এক বল আগে। তিন ছক্কায় ২৩ বলে করেন তিনি ৩৪। শেষ বল খেলে রাসেল পারেননি ব্যাটে-বলে করতে। খুশদিল অপরাজিত থাকেন ২০ বলে ৪০ করে। শেষ ৬ ওভারে কুমিল্লা তোলে ৬৯ রান। রান তাড়ায় রংপুর এক মুহূর্তে আক্রমণ চালিয়েছে তো পরমুহূর্তেই গেছে মিইয়ে। শুরুটা মোহাম্মদ নাইম শেখকে দিয়ে। বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করা ওপেনার তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামকে স্লগ করে। পরের ওভারে সুনিল নারাইনকে দুর্দান্ত ছক্কায় স্বাগত জানান রনি তালুকদার। পরের বলেই তিনি বোল্ড হয়ে যান বাজে শটে। উইকেট পতনের ধারা চলতে থাকে। তানভিরের সোজা বলে বিভ্রান্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হন ইংলিশ ব্যাটসম্যান টম কোহলার-ক্যাডমোর। আন্দ্রে রাসেলকে ছক্কা মারার পরের বলে দৃষ্টিকটূভাবে বিদায় নেন অধিনায়ক সোহান। পাওয়ার প্লেতেই রংপুর হারায় ৪ উইকেট। রাসেলের ওই ওভারেই দারুণ এক পুল শটে ছক্কায় শুরু করেন শামীম হোসেন। একটু পর তার বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় রিজওয়ানের অসাধারণ এক ক্যাচে। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে শামীমের ব্যাট ছুঁয়ে আসা বল বেরিয়ে যাচ্ছিল প্রথম স্লিপ দিয়ে। রিজওয়ান বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পুরো শরীর হাওয়ায় ভাসিয়ে এক হাতে গ্লাভসবন্দি করেন বল। টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচগুলির একটি এটি। ¯্রােতের বিপরীতে একটু চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। কিন্তু তাকেও ২৯ রানে (২২ বলে) বিদায় করে দেন মুস্তাফিজ। এরপর কেবল শেষের অপেক্ষা। রংপুরের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরাও কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। বড় হারেই তাই প্রাথমিক পর্ব শেষ করল রংপুর। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচ সেরা হন তানভির। আগের ম্যাচে ৫ উইকেট শিকারি মুকিদুল ইসলাম বোলিং করতে পারেন কেবল ১ ওভার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১৭৭/৫ (রিজওয়ান ২৪, লিটন ৪৭, নারাইন ৮, ইমরুল ১৯, জাকের ৩৪, খুশদিল ৪০*, রাসেল ০*, ওমারজাই ৪-০-৩৪-২, রাকিবুল ৪-০-১৮-১, নাভিন ৪-০-৪৯-০, রিপন ৪-০-৪৫-১, হাসান ৪-০-৩১-১)
রংপুর রাইডার্স: ১৭ ওভারে ১০৭ (নাঈম ৬, রনি ১৩, গুরবাজ ২৯, কোহলার-ক্যাডমোর ১, সোহান ৭, শামীম ১১, ওমারজাই ১৫, রকিবুল ১৬, রিপন ৫, নাভিন ০, হাসান ২*; তানভির ৪-০-২৬-২, রাসেল ২-০-১৬-১, নারাইন ৪-০-২৭-২, খুশদিল ২-০-১৬-০, মুস্তাফিজ ৩-০-১৮-৩, মুকিদুল ১-০-৩-০, মোসাদ্দেক ১-০-১-০)
ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৭০ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানভির ইসলাম