November 30, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, November 14th, 2022, 4:54 pm

রংপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর :

এমপিও ভুক্ত বিশেষ শিক্ষা বিদ্যালয়ে কর্মরত নন বিএসএড শিক্ষকগণের স্থগিতকৃত মাসিক বেতন ভাতা, পে-স্কেল ২০১৫ মোতাবেক পুন্য প্রদানসহ জাতীয়করণের দাবীতে রংপুরে মানববন্ধণ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে স্বারকলিপি প্রদান করেছেন রংপুর বিভাগের আট জেলার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রংপুর প্রেস ক্লাবে চত্ত্বরে সিনিয়র শিক্ষক নাজমা বেগম লিলি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সুফিয়া বেগম, উমা রানী ঘোস, বিজলী বেগম, কয়সার আলী, দেলোয়ারা বেগম, বদরুল আলম, আফরোজা বেগম, রেহানা বেগমসহ রংপুর, লালমনিরহাট, আদিতমারী, কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ভরতখালী ও দিনাজপুর জেলার অন্যান্য বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১০ সনে এমপিও ভুক্ত হয়ে জাতীয় প্রতিবন্ধী উনয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত বে-সরকারি বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়সমূহ দেশের অবহেলিত প্রতিবন্ধীদের মানসম্মত মেধাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি কল্যাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করে আসছি। যার ফলশ্রুতিতে দেশ-বিদেশে স্পেশাল অলিম্পিকে অংশগ্রহন করে কয়েকবার স্বর্ণপদক অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ভাতায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। ২০১৫ সালে ঘোষিত পে-স্কেল ঘোষণা করায় অনেকটা উপকৃত হয়েছি। দুঃখের বিষয় এইসব বিশেষ শিক্ষা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকগণের ঘোষিত পে-স্কেল ২০১৫ মোতাবেক মাসিক বেতন ভাতা পেয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ (জাতীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়) সেপ্টেম্বর ২০২১ইং থেকে পূর্বাপেক্ষা একধাপ নিয়ে আগস্ট ২০২২ইং পর্যন্ত প্রদান করেন। কর্তৃপক্ষ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং থেকে সমূদয় মাসিক বেতন ভাতা প্রদান স্থগিত করেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমতাবস্থায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। কর্তৃপক্ষ বেতন ভাতা স্থগিতের কারণ হিসাবে আমাদের বিএসএড (ব্যাচেলর অফ স্পেশাল এডুকেশন) প্রশিক্ষণ না থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। আমরা কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকগণের বর্তমান বয়স চাকুরির শেষ প্রান্তে। তাদের নিয়োগ ২০০৯ নীতিমালার পূর্বে। এই দীর্ঘকালীন দায়িত্ব পালনের পরেও অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধার অদ্যাবধি কোন সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকায় চাকুরী শেষে আমাদের নিজেদেরই প্রতিবন্ধীত্ব জীবন যাপনের পদার্পণ করতে যাচ্ছি। সে অদৃশ্য আশংকায় আমরা চরম ভীত সন্ত্রস্থ। বিশেষ শিক্ষা নীতিমালার আলোকে নয়।
মানবিক কারণে আমাদের স্থগিতকৃত মাসিক বেতন ভাতা পুনঃ প্রদানসহ চাকুরী জাতীয়করণে দাবী জানাচ্ছি।
বক্তব্যে বলেন, ২০১৯ সালে নীতিমালা জন্য ১১৮ জন শিক্ষকের মর্ধ্যে ৬২ জন শিক্ষকের বেতন বন্ধআছে । বৃহত্তর রংপুর আট জেলায় ২৯ জনসহ সার দেশে ১১৮ জন ওই শিক্ষক বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মানববন্ধন শেষে রংপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মরকলিপি প্রদান করা হয়।