October 3, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, September 20th, 2022, 2:27 pm

রংপুরে মোটরসাইকেল চুরি চক্রের মূল হোতাকে সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর :

রংপুরে আন্তঃ জেলা মোটরসাইকেল চুরি চক্রের মূল হোতা ইদুল মিয়াকে (৩৩) তার অন্যতম সহযোগী রাজু আহম্মেদকে সহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র‌্যাব-১৩ রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ র‌্যাব-১৩ রংপুরের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত এক মাসে রংপুর মহানগর ও এর আশেপাশের জেলায় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। এ ধরনের মোটরসাইকেল চুরির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ঘটনাগুলো নিয়ে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। রংপুরের হারাগাছ থানা এলাকার এমনি একজন ভিকটিম সোহাগ হাসানের (৩০) মোটরসাইকেলটি মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা যুবক চুরি করে নিয়ে চলে যায়। মোটরসাইকেল স্টার্ট দেওয়ার শব্দ শুনে সে তৎক্ষনিক বাইর আসে কিন্তু ততক্ষনে চোর চক্রটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে তিনি অজ্ঞাতনামা চোরদের আসামী করে হারাগাছ থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
এই ঘটনায় র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের নজরে আসে এবং গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩, রংপুর এর একটি আভিযানিক দল গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার গোবদা গ্রাম থেকে মৃত আমজাদ হোসেনের পুত্র ইদুল মিয়া (৩৩) কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, ইদুল মিয়া (৩৩) তার অপরাধ স্বীকার করে জানায় যে, সে ও তার অপর সহযোগী একই গ্রামের বাবুলের পুত্র আলম (৩১) এই দুজনে মিলে গত ১১ ই সেপ্টেম্বর দুপুরে সোহাগ হাসান (৩০) এর মোটরসাইকেলটি তার বাড়ির সামনে থেকে চুরি করে। অপর সহযোগী রংপুুরের কাউনিয়া উপজেলার-খোর্দ্দ ভূতছড়া গ্রামের ইসহাক চৌধুরীর পুত্র রাজু আহম্মেদের (৩৭) কাছে রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানার কামালকাছনা পূর্ব শালবন এর ভাড়া বাসায় গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে আসে। এছাড়াও সে খবির আলীর পুত্র আব্দুল হাকিম মিয়ার (৪০) কাছেও বিভিন্ন সময় চোরাই মোটরসাইকেলগুলো বিক্রি করে থাকে। সেই রাজু আহম্মেদ ইদুল মিয়া কে মোটর সাইকেল প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে চোরাই মোটরসাইকেল এর ইঞ্জিন নম্বর, চেসিস নম্বর টেম্পারিং এবং ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে মোটর সাইকেলের মালিক সেজে দ্বিতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেয়। ইদুল মিয়া এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর আসামী কোতয়ালী থানাধীন পূর্ব শালবন এলাকার রাজু আহম্মেদ এর ভাড়া বাসার নীচতলা থেকে চোরাই মোটরসাইকেলের পর্যাপ্ত আলামত, বিআরটিএ এর জাল সীলমোহর, মোটর সাইকেল লক খোলার মাস্টার কী, বিভিন্ন নামের জাতীয় পরিচয় পত্র, বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সাইজের ছবি, বেনামী ব্যক্তির একাধিক সীম, এফিডেভিড সীল মোহর সম্বলিত বাইক বিক্রির তৈরীকৃত ভূয়া কাগজপত্র, মোটরসাইকেল এর জাল রেজিস্ট্রেশন কার্ড/স্মার্টকার্ড উদ্ধারসহ চুরি করা মোটরসাইকেল গুলোর মূল কাগজপত্র ও স্মার্টকার্ড উদ্ধার করা হয়। ইদুল মিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার জাকলাটারি গ্রামের খবির আলীর পুত্র আব্দুল হাকিম মিয়ার (৪০) নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সদ্য চোরাইকৃত মোটরসাইকেল এর টুল কীট, রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেটের ব্যাকপার্ট, ইঞ্জিন নম্বর এবং চেসিস নম্বর টেম্পারিং করার কাজে ব্যবহৃত রেতি, মোটরসাইকেল খোলা জোড়া করার যাবতীয় টুলস্্ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আব্দুল হাকিম পলাতক ছিল।
উল্লেখ্য ইদুল মিয়া ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানায় একটি ডাকাতি মামলার ১নং আসামী এবং নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার সদর থানায় মোটরসাইকেল চুরি মামলাসহ সর্বমোট ১০টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি রংপুর মহানগরীতে যে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে তার মূল হোতা ইদুল মিয়া। চুরি হওয়ার মোটরসাইকেলগুলোর বেশ কয়েকটি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করেছে কিন্তু মূল হোতা ইদুল মিয়া ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিল। আটক ইদুল মিয়া ও রাজু আহম্মেদকে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সংযুক্ত সীম, চোরাইকৃত একটি এপাচি (১৫০সিসি) নীল সাদা রংয়ের মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেল চুরির সরঞ্জামসহ হারাগাছ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।# #