April 25, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, February 27th, 2024, 8:41 pm

রমজানের আগে বেড়েই চলেছে দ্রব্যমূল্য, সংকটে ভোক্তারা

ফাইল ছবি

সরকার লাগাম টেনে ধরার পরও রোজার মাস রমজানে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। বাজার জরিপে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এই প্রতিবেদক দেখেন, সম্প্রতি সরকার যেসব পণ্যে ভ্যাট-করের হার কমিয়েছে, সেগুলোও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজার, মহাখালী, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, মালিবাগ, রামপুরা, বনশ্রীর মতো কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদক গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখতে পেয়েছেন।

মঙ্গলবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) এসব বাজারে দেশি রসুনের কেজি ২৫০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৫০ টাকা।

দেশি হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, যা দুই মাস আগে ছিল ২৪০ টাকা। আমদানি করা হলুদ বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকা কেজি, যা গত বছরের চেয়ে ৮০ টাকা বেশি। দেশি আদা পাওয়া যাচ্ছে ২৮০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ২০০ টাকা।

খুচরা বাজারে দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নভেম্বর মাসে প্রতি কেজি চিনি ১৩৫ টাকায় পাওয়া গেলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। ভালো মানের মসুর ডাল নভেম্বরে প্রতি কেজি ১৩০ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নভেম্বরে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে এসে সেটি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে নভেম্বর মাসে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৫০ টাকায় পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬০ টাকায়। নভেম্বরে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৮ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ১৭২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নভেম্বর মাসে তিউনিসিয়ার খেজুর ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ফেব্রুয়ারিতে তা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

নভেম্বরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া নভেম্বর মাসে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, যা ছিল ১৮৫ টাকা। তবে নভেম্বর থেকে গরুর মাংসের দাম কমছে। সে সময় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকায়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান ইউএনবিকে বলেন, বাংলাদেশে পণ্যের দাম একবার বাড়লে তা আর কমে না।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি হতো। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ টাকায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কেজিতে লাফিয়ে ওঠে ৮০-৮৫ টাকায়। একইভাবে বেড়েছে মাংস, মুরগির মাংস, সয়াবিন তেল, ডিমসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম।

তিনি আরও বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হার। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল বছরে ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা গত অক্টোবরে এই দশকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হার ছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এক্ষেত্রে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেশি।’

বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের ৭১ শতাংশ পরিবার খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে সীমিত বা কমিয়ে দিচ্ছে।

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় জনসংখ্যার একটি অংশকে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিয়েছে। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাইকে প্রভাবিত করছে।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর ইউএনবিকে বলেন, বাজার মনিটরিং, ওএমএস, টিসিবি কার্ড ইস্যু এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মতো পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও বাজার নিয়ন্ত্রণহীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন আমদানিকারকরা ব্যাংক থেকে নির্ধারিত হারে মার্কিন ডলার পাবেন এবং মুদ্রা ছাপানোর পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরিতে উদ্যোগ নিচ্ছে এবং সেসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নেও বিলম্ব হচ্ছে। ফলে অর্থনীতি সংক্রান্ত নীতি কাজ করছে না।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও।

তিনি বলেন, আয় না বাড়লেও সব শ্রেণির মানুষের ব্যয় বাড়ছে।

ক্যাব সভাপতি বলেন, ‘যৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বেড়েছে কি না তা সংশ্লিষ্টদের দেখতে হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া উচিত।’

—-ইউএনবি