December 8, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, October 23rd, 2022, 9:28 pm

রাজধানীতে আরো দুটি মেট্রোর কাজ শুরু হলে যানজটের ব্যাপকতা বাড়ার শঙ্কা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোর (এমআরটি-১) কাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ শুরু হবে। আর আগামী বছর হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোর (এমআরটি-৫, নর্দার্ন রুট) কাজ শুরু হবে। মেট্রো দুটির নির্মাণকাজ ২০২৬ ও ২০২৮ সালে শেষ হবে। শুরুতে করা হবে ডিপোর ভূমি উন্নয়ন ও অবকাঠামো তৈরির কাজ। তারপর গতিপথে থাকা বিভিন্ন সংস্থার পরিষেবা স্থানান্তর করে শুরু হবে মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ। বিগত ২০১৬ সালে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলের (এমআরটি-৬) নির্মাণকাজ শুরু হয়। বিভিন্ন সংস্থার মাটির নিচে থাকা পরিষেবা স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে এ কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। আর তখন থেকেই শুরু হয় মেট্রোর গতিপথে থাকা সড়ক ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ। শুরুতে মিরপুর থেকে আগারগাঁও এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। ২০১৯ সাল থেকে দুর্ভোগ ফার্মগেট-মতিঝিল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। সড়কের একটা বড় অংশ দখল করে চলা নির্মাণকাজ আর দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মেট্রো প্রকল্পটি ঢাকার যানজট বাড়িয়ে দেয় এবং তা এখনো চলমান। এখন প্রথম মেট্রোর দুর্ভোগের রেশ কাটতে না কাটতে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে আরো দুটি মেট্রোর কাজ। ওই মেট্রো দুটির কাজ শুরু হলে ঢাকায় যানজটের ব্যাপকতা আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রথম মেট্রোর নির্মাণকাজে শুধু রাজধানীর ভেতরে যানবাহন চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। কিন্তু বিমানবন্দর-কমলাপুর ও হেমায়েতপুর-ভাটারার মধ্যে থাকা মেট্রো দুটির কাজ শুরু হলে ঢাকার প্রবেশমুখে থাকা যানবাহনগুলোও যানজটে পড়বে। সঠিক ব্যবস্থাপনা করা না হলে ওই যানজট ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে ঢাকার ব্যস্ততম অংশে দুটি মেট্রোই পাতালপথে তৈরি করা হচ্ছে। আর মাটির নিচে কাজ করার কারণে তা সড়কের যানজটে খুব একটা প্রভাব না ফেললেও স্টেশন এলাকাগুলোর অবকাঠামো তৈরির জন্য সড়কের একটা বড় অংশ ব্যবহার করতে হবে। ওই কারণে যেসব স্থানে পাতাল মেট্রোর স্টেশন রয়েছে, সেসব জায়গায় সড়কের ওপর যানবাহন চলাচলে কিছুটা বিরূপ প্রভাব পড়বে। ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার বিমানবন্দরে পড়েছে বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোর গতিপথ। সিলেট, ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চল থেকে আসা পরিবহনগুলোর একটা বড় অংশ বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। শহরের ভেতরে বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত পড়েছে ওই মেট্রোর গতিপথ। বিমানবন্দর-বাড্ডা-কমলাপুর সড়কের নিচে পুরো গতিপথটি পড়েছে। এমনিতেই ওই সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন আর পথচারীর চাপ এবং অনিয়ম-বিশৃঙ্খলায় দিনভর যানজট লেগে থাকে। আর রাতে সাধারণ যানবাহনের সঙ্গে যোগ হয় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্রেইলারের মতো ভারী যানবাহন। ঢাকার আরেক প্রবেশদ্বার হেমায়েতপুরে হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোর গতিপথ পড়েছে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহনগুলোর একটা বড় অংশ হেমায়েতপুর দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। শহরের ভেতরে ওই মেট্রো গাবতলী, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, বনানী, নতুনবাজার সড়কের নিচ দিয়ে তৈরি করা হবে আর হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও নতুনবাজার থেকে ভাটারা অংশ বিদ্যমান সড়কের ওপর দিয়ে তৈরি করা হবে। সেটি ঢাকার অন্যতম একটি ব্যস্ত সড়ক।
সূত্র জানায়, বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোর পাতাল অংশে ১২টি স্টেশন তৈরি করা হবে। স্টেশনগুলো হবে বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩, খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল পূর্ব, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ ও কমলাপুর। আর হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোর ৯টি স্টেশন মাটির নিচে হবে। সেগুলো হলো গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২ ও নতুনবাজার। দুটি মেট্রোর স্টেশনের সব পয়েন্টই ঢাকার যানজটের অন্যতম কেন্দ্র। ইতোমধ্যে এমআরটি-১-এর জন্য প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, ধারণাগত নকশা ও বিশদ নকশা তৈরি করা হয়েছে। ১২টি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। তার মধ্যে প্রথম প্যাকেজের (সিপি-১) মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডিপো গড়ে তোলা হবে। ডিএমটিসিএল দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঠিকাদার নিয়োগ প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে। আরো ৪টি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মেট্রোটির নির্মাণকাজ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা। আর এমআরটি-৫-এর নর্দার্ন রুটের ডিপো উন্নয়নের জন্য ডিএমটিসিএল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। বর্তমানে বিশদ নকশা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ওই মেট্রোর কাজ শেষ হবে।
এদিকে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন চলাকালে যানজট ব্যাপক আকার ধারণ করছে। মূলত মেট্রোরেলের সঙ্গে অন্য প্রকল্পের সমন্বয়ের অভাবের কারণেই যানজট পরিস্থিতি অনেক প্রকট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সরকার ২০১০ সালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু করেছিল এবং ২০১৩ সালে সেটি চালু হওয়ার কথা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলোয় যখন মেট্রোরেল, বিআরটির মতো কাজ শুরু হবে তখন মানুষ যেন বিকল্প হিসেবে সেটি ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এখনো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করা যায়নি। তার মধ্যেই একটির কাজ শেষ পর্যায়ে এনে আরো দুটি মেট্রোর কাজ শুরু হচ্ছে। ফলে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ আগে শুরু করার যে উদ্দেশ্য ছিল তা কাজে লাগেনি। রাজধানীতে যানজট সহনীয় মাত্রায় রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় গণপরিবহন ব্যবস্থায় জোর দেয়া। প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশার মতো ছোট ছোট যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শুধু একতলা, দোতলা বাস চলবে। আর সেটা করতে পারলেই নির্মাণকাজ চলাকালে জনভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।
অন্যদিকে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক জানান, বিমানবন্দর-কমলাপুর ও হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোর নির্মাণকাজের প্রভাব ঢাকার যানজটে খুব একটা পড়বে না। মেট্রো দুটির সিংহভাগ অংশই মাটির নিচে হচ্ছে। মাটির ৩০ মিটার নিচে টানেল বোরিং মেশিন দিয়ে কাজ করা হবে। তবে ওপেন কাট পদ্ধতিতে স্টেশনে অবকাঠামো তৈরি করা হবে। কাজ শুরুর ৬ মাসের মধ্যে স্টেশনের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক করে দেয়া হবে। ফলে সড়কের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।