October 6, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, August 26th, 2022, 8:19 pm

রাজধানীতে বাস মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ

ফাইল ছবি

নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতির মধ্যে আবার বাস মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে পল্টন পর্যন্ত ‘গ্রিন ঢাকা’ নামের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে ভাড়া হিসেবে তাকে বর্তমানে ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে। আগে এর ভাড়া ছিলো ৬০ টাকা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত ৬ আগস্ট রাজধানীর বাস মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে আগের প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ১৫ পয়সা থেকে ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২টাকা ৫০ পয়সা আদায়ের অনুমতি দেয়।

এ হিসেবে ‘গ্রিন ঢাকা’ নামের বাসটির ভাড়া বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিকরকম বেশি।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান গেট থেকে পল্টন পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার।

গ্রিন ঢাকা যদি বিআরটিএ-র নির্দেশনা অনুসরণ করত, তাহলে জান্নাতুলের দৈনিক বাস ভাড়া মাত্র ৩ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ত। যা বর্তমানে অতিরিক্ত আদায়কৃত ৪০ টাকার প্রায় দশগুণ কম।

গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, অকটেন ৪৬ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে।

তবে অনেক যাত্রী ইউএনবির কাছে দাবি করেছেন যে সাম্প্রতিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস মালিকেরা নির্ধারিত ভাড়া বৃদ্ধির চেয়েও বেশি ভাড়া নিচ্ছে।

মুন্না নামে একজন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, মিরপুর ১১-১২ থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ‘বিকল্প পরিবহন’ বাসে ১১ কিলোমিটার যাতায়াতের জন্য আমি আগের ৪০ টাকার পরিবর্তে বর্তমানে ৫৫ টাকা ভাড়া দিচ্ছি।

অপর এক যাত্রী ফারুক বলেন, আমরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।

বাসের চালক ও তাদের সহকারীরা অবশ্য বলেছেন, তারা শুধু তাদের মালিকের নির্দেশ পালন করছেন।

রাইদা বাসের চালক রুহুল আমিন বলেন, ‘আমাদের মালিক তার নির্দেশ অনুযায়ী ভাড়া না আদায় করলে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা অসহায়।’

কর্তৃপক্ষ কি চোখ বন্ধ করে আছে?

বিআরটিএ বিভিন্ন রুটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সত্ত্বেও বাস অপারেটররা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি (জেকেএস) এর সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিআরটিএ শুধুমাত্র একটি রুটে অভিযান পরিচালনা করে। তাই বাস মালিকরা নির্বিঘ্নে যাত্রীদের লুট করে চলেছে।’

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা প্রতিটি বাস মালিককে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ভাড়া আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছি।’

বিআরটিএর চেয়াম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘কোনও গণপরিবহন মালিক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হবে।’

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নিতে পারবে না বলে ইতোমধ্যেই বাস মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সচিব সরকারের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, বাস মালিকদের প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা না নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,‘তা না হলে অমান্যকারীদের পরিণাম ভোগ করতে হবে।’

—-ইউএনবি