October 8, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, January 11th, 2022, 8:50 pm

রামগড়ে স্ত্রী ও শিশুকন্যার ঘাতক সোলেমান হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি :
খাগড়াছড়ির রামগড়ে পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেয়ায় স্ত্রী ও চার মাস বয়সী শিশু সন্তানকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনার আসামী সোলেমান হোসেন(৩৫)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন পর সোমবার (১০ জানুয়ারি)
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে সেই খুনি সোলেমান হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিং এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এদিকে, মামলার তদন্ত কমকর্তা(আই ও) চট্টগ্রাম সি আই ডি’র ইন্সপেক্টর মো: নুর হোসেনও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩ জানুয়ারি রামগড় উপজেলার মধুপুর গ্রামের সোলেমানের ঘর থেকে খালেদা আক্তার পিংকি (২৫) ও তার চার মাস বয়সী মেয়ে সালমা আক্তার জান্নাতের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রত্যন্ত মধূপুর গ্রামের পাহাড়ের পদদেশে অবস্থিত
সোলেমানের তালাবদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন পুলিশেকে খবর দেয় । পরে পুলিশ এসে তালাভেঙ্গে ঘরের ভিততে খাটের উপর লেপ তোষকে মোড়ানো অবস্থায় মা ও শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ হত্যায়
ব্যবহৃত দা’টিও জব্দ করে।
এ ঘটনায় পিংকির বাবা আব্দুল খালেক দুলাল বাদী হয়ে রামগড় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট এলাকা থেকে একমাত্র আসামি সোলেমান হোসেনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিং এ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর।
গ্রেফতার হওয়া সোলেমান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সিআইডিকে জানান, তিনি আগে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৩ সালে তার সঙ্গে পিংকির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর
তিনি রামগড়ে গ্রামের বাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাদের সংসারে ফারিয়া সুলতানা (৫) ও চার মাস বয়সী সালমা আক্তার জান্নাত দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে (পরকীয়া) বাধা দেওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর স্ত্রী ও চার মাস বয়সী শিশু সন্তানকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেন তিনি।
এরপর মরদেহ লেপ তোষকে মুড়িয়ে শোয়ার খারে উপর রেখে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান সোলেমান।