November 27, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, October 5th, 2021, 7:57 pm

রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে যা বললেন এমবাপে

অনলাইন ডেস্ক :

গ্রীষ্মের দলবদলের পুরোটা সময় জুড়েই ছিল পিএসজি থেকে কিলিয়ান এমবাপের রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নিত্য-নতুন খবর। শেষ পর্যন্ত যা আলোর মুখ দেখেনি। পুরো বিষয়টি নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন এই ফরাসি তারকা। জানালেন, শুধুমাত্র রিয়ালে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাতেই ক্লাব ছাড়তে উদগ্রীব ছিলেন তিনি। অগাস্টে শেষ হওয়া দলবদলের শেষ দিন পর্যন্ত রিয়াল চেষ্টা করেছিল এমবাপেকে দলে ভেড়াতে। পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মাত্র এক বছর বাকি থাকা এই তারকাকে পেতে স্পেনের ক্লাবটি রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিতেও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কোনোভাবেই সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি পিএসজি। স্পেন ও ফ্রান্সের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে পেতে প্রথম দফায় ১৬ কোটি এবং পরে ১৮ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দেয় রিয়াল। কিন্তু কোনোটিই পছন্দ হয়নি পিএসজির। দলবদলের শেষ দিনে ২০ কোটি ইউরো দিতেও নাকি রাজি ছিল ইউরোপের সফলতম দলটি। কিন্তু তাতেও সাড়া দেয়নি ফরাসি ক্লাবটি। আগামী জুনে পিএসজির সঙ্গে এমবাপের চুক্তি শেষ হবে। তার আগে আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই নতুন ঠিকানা বেছে নিতে পারবেন ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্ট ও লেকিপেতে মঙ্গলবার এমবাপের একটি বিশদ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, সেখানেই তিনি দলবদলের সময়ের বর্ণনা দিয়েছেন। “গ্রীষ্মে আমি যদি (পিএসজি) ছেড়ে যেতাম, তাহলে কেবল রিয়াল মাদ্রিদের জন্যই যেতাম।” “ভেবেছিলাম, এখানে আমার রোমাঞ্চকর অভিযানের সেটাই শেষ। তাই আমি নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে চেয়েছিলাম। আমি ছয় বা সাত বছর (৬ বছর) ধরে লিগ ওয়ানে আছি, আমি পিএসজিকে সর্বোচ্চটা দিয়েছি এবং ভালো করেছি। তাই চলে যাওয়াই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে ভেবেছিলাম।” এমবাপের ক্লাব ছাড়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল-খেলাইফি। তিনি বেশ কয়েক বার সরাসরিই বলেন, এই তারকাকে তারা ছাড়তে চান না। আর ছাড়তে হলেও সেটা হবে তাদের চাওয়া অনুযায়ী। প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর অবস্থান চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল এমবাপেকে। “যখন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কোনো খেলোয়াড়ের বিষয়ে বলেন, সে কোথাও যাচ্ছে না এবং গেলেও বিনামূল্যে নয়, তখন চিন্তার যথেষ্ট কারণ আছে। আমিও তখন চিন্তিত ছিলাম। আমি মিথ্যা বলব না।” “আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করলাম, যদি আমাকে বিনামূল্যে চলে না যেতে দেওয়া হয় তাহলে আমার কী হবে? আমার ক্যারিয়ারের কী হতে পারে? আসলে সেটা ছিল আমাকে ধরে রাখতে তাদের অনড় অবস্থান দেখানোর উপায়। এর মানে হলো, ক্লাব আমাকে চায় এবং আমাকে ছেড়ে দিতে চায় না।” অনেক অপেক্ষার পর গত দলবদলে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে না যোগ দিতে পেরে কিছুটা হতাশ ছিলেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা। এমবাপে বললেন, সময়টা বেশ কঠিন ছিল তার জন্য। “আমি তখন কিছুটা (হতাশ) ছিলাম। যখন কেউ চলে যেতে চেয়েও যেতে পারে না তখন ভালো লাগার কিছু থাকে না।” “কিন্তু আমি দ্রুত সেই খারাপ লাগা কাটিয়ে উঠেছি। দুর্ভাগ্যবশত আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় চোট পাই। বাড়ি ফিরে গিয়েছিলাম, কোনো খেলা না থাকায় কেঁদেছিলাম। তারপর আমি ক্লাবে ফিরে এসে গোল করি এবং আবারও ভালো করেছি।” রিয়ালে যোগ দিতে চাওয়ার কথা সরাসরি জানিয়ে দিলেও পিএসজির সঙ্গে ঝামেলা করে ক্লাব ছাড়তে চাননি এমবাপে। সব ভুলে বাকি সময়ে দলের জন্য শতভাগ উজাড় করে দিতে চান তিনি। “এটা অকৃতজ্ঞের মতো হতো। যেই ক্লাব আমাকে ১৮ বছর বয়সে স্বাগত জানিয়েছিল এবং আমাকে দুর্দান্ত চারটি বছর উপহার দিয়েছে, এভাবে চলে গেলে সেটা তাদের প্রতি অকৃতজ্ঞের মতো আচরণ হতো।” “পাশাপাশি, আমি সবসময় খেলতে চাই, দেখাতে চাই যে আমি একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় এবং কোনো কিছুই আমাকে প্রভাবিত করে না, এমনকি একটি ব্যর্থ দলবদলও নয়। এখানে আমার শেষ দিন পর্যন্ত আমি পার্থক্য গড়ে দিতে পারি।”