December 6, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, January 27th, 2022, 9:00 pm

রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ের দুর্ঘটনা রোধের উদ্যোগ নেই

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সাথে বিভিন্ন যানবাহনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তারপরও রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ের দুর্ঘটনা রোধের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং। বর্তমানে সারা দেশে রেলপথে মোট ক্রসিং ২ হাজার ৮৫৬টি রয়েছে। তার মধ্যে ১ হাজার ৩৬১টিরই অনুমোদন নেই। আর ১ হাজার ৪৯৫টি বৈধ ক্রসিংয়ের মধ্যে ৬৩২টি ক্রসিংয়েই গেটম্যান নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রেল দুর্ঘটনায় গত প্রায় ৪ বছরে সহ¯্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আর আহত ও পঙ্গু হয়েছে দেড় সহ¯্রাধিক মানুষ। মূলত অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটছে। অথচ রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংগুলোর (বৈধ-অবৈধ) প্রায় ৮৪ শতাংশই অরক্ষিত। আর ওসব ক্রসিংয়ে প্রায়ই ঝরছে সাধারণ মানুষের প্রাণ। কিন্তু ওসব ক্রসিং নিরাপদ করার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকারে নেই। গত বুধবারও নীলফামারীর দারোয়ানীতে লেভেল ক্রসিংয়ে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ৪ জন নিহত এবং গুরুতর আহত হয়েছে ৫ জন।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিগত এক যুগে ১ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ের দুর্ঘটনা রোধকল্পে বড় অঙ্কের অর্থের প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। অথচ এখন পর্যন্ত রেলে যে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে এবং চলমান যে বরাদ্দ আছে তার ১ শতাংশের কম বিনিয়োগ করেই রেলপথ নিরাপদ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের সেদিকে মনোযোগ না দেয়ায় একটি দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরো দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ছোট একটি সতর্কীকরণ নোটিশ টাঙিয়েই দায় শেষ করছে। আর যখনই দুর্ঘটনা ঘটে তখন দায়ী ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাছাড়া দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও ওসব কমিটির রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
সূত্র আরো জানায়, সারা দেশে ২ হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। ওই রেলপথের ওপর দিয়ে কোথাও কোথাও সড়ক চলে গেছে। রেল আর সড়কের ওই সংযোগস্থলকেই লেভেল ক্রসিং বলা হয়। সেগুলোকে বৈধ-অবৈধ, পাহারাদার আছে (ম্যানড), পাহারাদার নেই (আনম্যানড)-এভাবে শ্রেণিবিন্যাস করে রেল কর্তৃপক্ষ। যেসব ক্রসিংয়ে পাহারাদার আছে সেগুলোতে লোহার প্রতিবন্ধক থাকে। পাহারাদার ট্রেন আসার সংকেত পেয়ে প্রতিবন্ধক নামিয়ে অন্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে পাহারাদার ভুল না করলে যানবাহনের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা কম। সেজন্যই পাহারাদার ও প্রতিবন্ধক থাকা রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাও খুব কম ঘটে। আর পাহারাদার নেই তেমন ক্রসিংগুলো অরক্ষিত। বেশির ভাগ সংস্থা রেলপথের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের সময় রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেয়ায় রেলও সেদিকে তেমন নজর দিচ্ছে না। রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে এমন ধারণা যে, রেলক্রসিংয়ে যানবাহন চাপা পড়ে প্রাণহানির দায় তাদের নয়। অথচ রেলের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নির্মাণ করা বৈধ রেলক্রসিংয়েরও ৬১.৫৮ শতাংশই অরক্ষিত। রেলক্রসিং পারাপারের সময় যেসব পথচারী প্রাণ হারায় ওই হিসাবও রেল কর্তৃপক্ষ প্রায়ই সংরক্ষণ করে না।
এদিকে এ ব্যাপারে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানান, অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেনে যথাযথ গতি নিয়ে চলতে পারছে না। ওসব ক্রসিংয়ে ট্রেনযাত্রীসহ সাধারণ মানুষেরও প্রাণ যাচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন না নিয়ে অবৈধ লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করছে, দুর্ঘটনার জন্য তারাই দায়ী। রেলপথ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিচ্ছে কীভাবে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। কিভাবে রেলপথকে নিরাপদ করা যায়। এখন যেসব নতুন রেলপথ করা হচ্ছে সেগুলোয় লেভেল ক্রসিং এড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া যেসব বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে সেগুলোর মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাসহ অবৈধ ক্রসিংগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।