March 1, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, February 13th, 2023, 9:50 pm

রেললাইনে বাড়ছে ট্রেনে কাটা পড়া মৃত্যু

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়া মৃত্যু বাড়ছে। দেশের নানা প্রান্তের রেললাইন থেকে গত ৫ বছরে ৪ হাজার ৫২৩ লাশ মিলেছে। গড় হিসাবে প্রতি মাসে দাঁড়ায় ৭৫ জন। আর যেসব লাশ পাওয়া গেছে তার মধ্যে ইয়ারফোন থাকায় ৫৫ জন মারা গেছে। আর তাড়াহুড়া করে রেললাইন পার হতে গিয়ে ১ হাজার ৭৭৩ এবং রেললাইনের ওপর বসে থাকা বা চলাচলের সময় আরো ১ হাজার ৯৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা রেলপথ থানা এলাকাতেই ওসব মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশ ঘটেছে। আর বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণই অসচেতনতা-অসতর্কতা। রেলপথ পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ভেতর দিয়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগরে রেললাইন অংশে ট্রেনের ধাক্কায় বা কাটা পড়ে মৃত্যুর হার বেশি। তার মধ্যে কুড়িল, বনানী ও মহাখালী এলাকায় প্রায়ই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাছাড়া মহাখালী, কারওয়ান বাজার ও মগবাজার এলাকায় যানবাহন ও জনচলাচল ঠেকাতে লেভেলক্রসিং বার (যান চলাচল প্রতিবন্ধক) নামানোর ব্যবস্থা থাকলেও ট্রেন কিছুটা দূরে আছে ভেবে লোকজন প্রতিবন্ধকের পাশ দিয়ে পার হয় এবং দুর্ঘটনায়। ঢাকায় কিছু স্থানে রেললাইনের পাশে বেড়া দেয়া হলেও লোকজন ওই বেড়া কেটে চলার পথ তৈরি করে নিয়েছে। সূত্র জানায়, রেললাইনে বিগত ২০১৮ সালে ১ হাজার ২, ২০১৯ সালে ৯৮০, ২০২০ সালে ৭১৩, ২০২১ সালে ৭৭৮ ও ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০ জনের লাশ পাওয়া যায়। তার মধ্যে ৩১১ শিক্ষার্থী, ৩৭০ জন চাকরিজীবী ও ২ হাজার ৬৪ জন শ্রমজীবী ছিলেন। নিহতদের ৩ হাজার ৪৫৮ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৬৫ জন নারী। তবে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা, সংখ্যায় তা ২ হাজার ৯৯৩ জন। আবার নিহত ৩৫৩ জনের বয়স ১৮ বছর বা এর চেয়ে কম। পঞ্চাশোর্ধ্ব ছিলেন ১ হাজার ১৭৭ জন। ঢাকা রেলপথ থানা এলাকার ট্রেন লাইনে গত ৫ বছরে ১ হাজার ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে ২০১৮ সালে ২২৮, ২০১৯ সালে ২৭১, ২০২০ সালে ২১৯, ২০২১ সালে ২৪৩ ও ২০২২ সালে ২৮৭ জন মারা যায়। ঢাকায় মূলত তেজগাঁও থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রেললাইনে মৃত্যু ঘটছে বেশি। অমনোযোগী হয়ে, ইয়ারফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পারাপারের সময় ওসব মৃত্যু হয়। তবে রেললাইন থেকে যত লাশ উদ্ধার হয় তার সবই যে দুর্ঘটনা এমন নয়। অনেক সময় হত্যাকা- আড়াল করতে লাশ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে উদ্ধার করা লাশের মধ্যে ১০২ জন ছিল হত্যাক-ের শিকার। তার বাইরে কিছু ঘটনা তদন্তে আত্মহত্যা হিসেবেও প্রমাণিত হয়। এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার ভেতরে মাটির ওপর দিয়ে রেল চালানো দূরদর্শী পরিকল্পনা নয়। কারণ যানজটের শহরে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মানুষ অনেক সময় বাধ্য হয়েই শর্টকার্ট হিসেবে রেললাইন পার হয়। তাছাড়া চারপাশে অনেক শব্দের কারণে ট্রেনের আওয়াজ শোনা যায় না। ঢাকায় রেললাইনের পাশে বেড়া-দেয়াল দেওয়া হলেও কার্যকর সুফল মেলেনি। এ ক্ষেত্রে শুধু অসতর্কতা বা অসচেতনতাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। বরং যাঁরা সব দিক না ভেবে, সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া এসব করেছেন, তারা এই মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেন না। ঢাকার প্রেক্ষাপটে সাধারণ ট্রেনের চলাচলও উড়ালপথে হওয়া উচিত। তাতে যেমন দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে, তেমনি রেলের গতি বাড়বে। বর্তমানের ৫০-৬০ কিলোমিটারের বদলে যদি ১৫০-২০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব হয়, তাহলে কম সংখ্যক ট্রেন দিয়ে আরো ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে এ বিষয়ে রেলপথ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক দিদার আহম্মেদ জানান, মানুষকে সচেতন করতে রেলপুলিশ নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। আর গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে রেললাইনের পাশে বেড়া এবং কোথাও কোথাও রেলগেট নির্মাণ করা দরকার। এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করার পর কিছু নির্মাণ করেছে, কিছু বাকি রয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান জানান, রেললাইনে সব সময় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। সেখানে কারও যাওয়ার কথা নয়। তবে প্রায়ই দেখা যায় লোকজন মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটছেন বা লাইনে বসে আছেন। আসলে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটা যাবে না।