May 21, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, April 13th, 2022, 8:15 pm

রোমাঞ্চকর ম্যাচে চেলসিকে হারিয়ে শেষ চারে রিয়াল মাদ্রিদ

অনলাইন ডেস্ক :

লুকা মড্রিচ ও করিম বেনজেমার অসাধারণ পারফরমেন্সে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেলসিকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের নাটকীয় ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের পর চেলসি ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ চার নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে প্রথম লেগের ম্যাচে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে কার্যত মূল দায়িত্বটুকু সেড়ে রেখেছিল রিয়াল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে চেলসিও ছেড়ে কথা বলেনি। ম্যাসন মাউন্ড, এন্টোনিও রুডিগার ও টিমো ওয়ার্নার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদেও জয়ের প্রায় দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ৩৬ বছর বয়সী ক্রোয়েট তারকা মড্রিচ আরো একবার প্রমান দিলেন এখনো তিনি ফুরিয়ে যাননি। তার দুর্দান্ত পাসেই রডরিগো প্রথম গোলটি করে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে যায়। লন্ডনের মাঠে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করা বেনজেমার গোল করা যে তখনো বাকি ছিল। এই ফ্রেঞ্চম্যানের গোলেই শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গ্যালাকটিকোরা। রুডিগারের এসিস্টে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান বেনজেমা। ম্যাচ শেষে মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘বার্নাব্যুতে পরাজয়ের বিষয় কখনো কেউ চিন্তাই করতেই পারেনা। আজকের ম্যাচ সম্পর্কে আমি কোন ব্যাখ্যা দিতে পারবোনা। কিন্তু এই স্টেডিয়ামে নিশ্চয় কোন যাদু আছে যা সবসময়ই আমাদের সহযোগিতা করে।’ শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে মিড্রচ ও বেনজেমা মাটিয়ে বসে পড়েন। এই দুজনের মিলিত বয়স ৭০ বছর। আর বয়স যে শুধুমাত্র একটি সংখ্যা তা দুজনেই প্রতিনিয়ত প্রমান করে চলেছেন। এই দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের হাত ধরেই মাদ্রিদ ১৪তম ইউরোপিয়ান কাপ শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটি ও এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মধ্যকার বিজয়ী দল। ব্রেন্টফোর্ডের কাছে প্রিমিয়ার লিগে বিধ্বস্ত হবার পর গত সপ্তাহে প্রথম লেগে মাদ্রিদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছিল থমাস টাচেলের দল। কিন্তু লিগের পরের ম্যাচে সাউদাম্পটনকে ছয় গোল দিয়ে রিয়ালের বিপক্ষে প্রস্তুতিটা ভালভাবেই সেড়ে নিয়েছিল লন্ডনের জায়ান্টরা। সোমবার ম্যাচের আগে চেলসি বস টাচেল বলেছিলেন রিয়ালের বিপক্ষে আমাদের ফিরে আসতে হলে গল্পকে সত্যি করে তুলতে হবে। একসময় তা হয়েও গিয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে যদি মড্রিচ ও বেনজেমার মত খেলোয়াড় থাকে তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতেই হয়। অতীতে যার প্রমান বহুবার মিলেছে। টাচেল বলেন, ‘আমাদের দূর্ভাগ্য, আর এ কারনেই আমরা হতাশ। আজ আমরা পুরোপুরি ব্যক্তিগত প্রতিভার কাছে হেরে গেছি, একইসাথে আমাদের নিজস্ব ভুলও ছিল। সেমিফাইনালে যাওয়াটা আমাদের প্রাপ্য ছিল।’ ১৫ মিনিটে মাউন্টের গোলে এগিয়ে যায় চেলসি। মাদ্রিদ শিবির যদিও এই গোলে মোটেও বিচলিত হয়ে পড়েনি। এই গোলের মূল কারিগর ছিলেন মাতেও কোভাচিচ। তার দ্রুতগতির পাস থেকে রুবেন লফতাস-চিকের কাছ থেকে বল পেয়ে যান ওয়ার্নার। জার্মান এই তারকার থ্রু বলে মাউন্ট থিবাট কুর্তোয়াকে পরাস্ত করেন। এরপর পুরো ২০ মিনিট কর্তৃত্ব খাটিয়েছে চেলসি। তাদেরকে প্রতিরোধ করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে মাদ্রিদের রক্ষনভাগ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে চেলসি। রুডিগারের হেডে ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে ব্লুজরা। ডানি কারভাহালের স্লাইডি ট্যাকেলকে উপেক্ষা করে মার্কোস আলোনসো বল জালে জড়ালে নিশ্চুপ হয়ে যায় সান্তিয়াগোর সমর্থকরা। কিন্তু ভিএআর আলোনসোর হ্যান্ডবলের বিষয়টি নিশ্চিত করলে গোলটি বাতির করা হয়। ২৮ মিনিট বাকি থাকতে ম্যাচে কিছুটা হলেও সমতা ফিরে। বেনজেমার হেড ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে। ৭৩ মিনিটে কোভাচিচের এসিস্টে ওয়ার্নার ঠান্ডা মাথায় দুজন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে বল জালে জড়ালে প্রথমবারের মত এগিয়ে যায় চেলসি। ৮০ মিনিটে মড্রিচের পাসে বদলী খেলোয়াড় রডরিগো আবারো ম্যাচে সমতা ফেরান। কেই হাভার্টজের ক্রসে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের শট মাত্র ছয় গজ সামনে থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। ৯৬ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ফ্লোটেড পাসে হেডের সাহায্যে মাদ্রিদকে জয় উপহার দেন বেনজেমা। শেষ কয়েক মিনিট বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালিয়েও সফল হতে পারেনি চেলসি। ওয়ার্নারের শত কোনমতে আটকে দেন কুর্তোয়া। থিয়াগো সিলভার শট ব্লক করেন ফেডে ভালভার্দে।