October 3, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, August 22nd, 2022, 9:29 pm

শিগগিরই আসছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শিগগিরই বাড়তে যাচ্ছে বিদ্যুতের দাম। এ ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে। চলতি মাসেই তার ঘোষণা আসছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবিত পাইকারি দাম ৬৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবনার বিপরীতে অন্তত ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিইআরসি গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণশুনানিতে পাইকারি পর্যায়ে গড়ে প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেক্ষেত্রে ভোক্তা পর্যায়ে দাম না বাড়ালে পাইকারি মূল্যহার কার্যকর করা সম্ভব হবে না। গণশুনানিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুতের দাম ইফনিটপ্রতি পাইকারি ৩ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৫৬ পয়সা করার প্রস্তাব করে। সরকার এতোদিন ৩ টাকা ৩৯ পয়সা ভর্তুকি দিয়ে আসছিল। আর গ্যাসের তখনকার দর বিবেচনায় বিপিডিবির ওই প্রস্তাব ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদ্যুতের একক ক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উৎপাদন খরচ বাড়ার অজুহাতে গত মার্চ মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনা বিইআরসির কাছে জমা দেয়। ওই প্রস্তাবনার বিপরীতে বিইআরসি গত ১৮ মে গণশুনানি করে। নিয়ম অনুযায়ী শুনানির পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই হিসাবে চলতি মাসের শেষেই বিদ্যুতেরও দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে।
সূত্র জানায়, কতটুকু দাম বাড়ালে জনগণের সহনীয় পর্যায়ে থাকবে তা বিবেচনা করা হবে। বিদ্যুতে যে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে তা কমানো দরকার। কারণ বিপিডিবিও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসির মতো লোকসানে চলছে। আর সরকারের কাছ থেকে বিপিডিবি আর কত ভর্তুকি চাইতে পারে। সেজন্যই বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন।
এদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ¦ালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে পাইকারি বিদ্যুতে আর্থিক ঘাটতি প্রায় ৩০ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। বিদ্যমান পাইকারি মূল্য হার ৫ টাকা ১৭ পয়সা। মূল্যহার ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে পাইকারি বিদ্যুতের রাজস্ব চাহিদা প্রাক্কলন করা হয়েছে এবং মূল্যহার ৮ টাকা ৫৮ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু ঘাটতি সমন্বয়ে সরকারি ভর্তুকি বিবেচনা করা হয়নি।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের ব্যাপারে আমরা অপেক্ষায় আছি। গ্যাসের ব্যাপারে আমরা আরেকটা সমন্বয়ে যেতে চাচ্ছি।
এ বিষয়ে বিইআরসির বিদ্রুৎ বিভাগের পরিচালক রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানির প্রস্তাব ও সুপারিশ বিশ্লেষণ-পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে কিছু না কিছু দাম যে বাড়বেই তাতে কোন সন্দেহ নেই।