December 3, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, October 16th, 2022, 9:43 pm

সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও সঞ্চালন লাইন নগন্য। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন লাইনে গুরুত্ব দেয়া হলে সাম্প্রতিক বিদ্যুতের সঙ্কট এতোটা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা কম ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বার বার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে ভারত থেকে আমদানি করা আদানির বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাছাড়া পায়রা-গোপালগঞ্জ-আমিনবাজার ৪০০ কিলোভোল্ট (কেভি) ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। অথচ গত এক যুগে দেশে ২০ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে বিদ্যুৎ সক্ষমতা ছাড়িয়েছে। ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ¦ালানিসহ তা ২৫ হাজার ৭৩০ মেগাওয়াটেরও বেশি। ওই সময় নতুন করে ১২৭ বিদ্যুৎ কেন্দ্রও নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সক্ষমতা ও চাহিদার বিপরীতে সঞ্চালন লাইন একেবারেই আশানুরূপ নয়। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এখন পর্যন্ত রূপপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঞ্চালন লাইনের একবিন্দু কাজ হয়নি। ফলে সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও তা জাতীয় গ্রিে যোগ হওয়ার দ্রুত সম্ভাবনা নেই। রামপালের বিদ্যুৎও শুধু সঞ্চালন লাইন তৈরি না হওয়ার কারণে জাতীয় গ্রিডে যোগ করা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগামী বছরের জানুয়ারির আগে ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট চালিয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় তা সরাসরি গোপালগঞ্জে চলে যায়। সেখান থেকে সাবস্টেশনে বিতরণ হয়। মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পর্যন্ত ওই বিদ্যুত সরবরাহ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, কেন্দ্র থেকে বিতরণ সংস্থা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা নিরসনে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) বর্তমানে ২১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীসহ নানা জটিলতায় তা পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয়, ওসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষে বর্তমান সক্ষমতার সঙ্গে আরো নতুন ১১৭টি গ্রিড উপকেন্দ্র সংযুক্ত করার কথা ছিল। ৮ হাজার সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মিত হবে। যার জন্য ২০২৮ সালকে টার্গেট করা হয়েছিল। ওই লক্ষ্যে আরো ৮টি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু ওসব প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের রাইট অব ওয়ে প্রাপ্তিসহ সামগ্রিক প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পিজিসিবি ওসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে অন্তর্বর্তীকালীন কার্যক্রম এবং স্থায়ীভাবে দূর করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সেগুলো দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত হবে।
সূত্র আরো জানায়, দেশে বর্তমানে ময়মনসিংহ, ভালুকা ও নেত্রকোনা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের লো-ভোল্টেজজনিত সমস্যা রয়েছে। জিটুজি প্রকল্পের আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট লাইনের ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। ওই অবকাঠামো নির্মিত হলে ভবিষ্যতে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হবে না। আর লো-ভোল্টেজ সমস্যা নিরসনে পিজিসিবির নিজস্ব অর্থায়নে ময়মনসিংহ, ভালুকা, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্রে ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ কালিয়াকৈর-শম্ভুগঞ্জ ৪০০ কেভি লাইন এবং শম্ভুগঞ্জ ৪০০/১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণে মাঠ পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। আর চলমান রয়েছে শ্রীপুর ২৩০/৩৩ কেভি উপকেন্দ্র ও শ্রীপুর-ভালুকা ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ। তাছাড়া ২০২৩ সাল নাগাদপূর্ব সাদীপুর ২৩০/১৩২ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র এবং বড়পুকুরিয়া-পূর্ব সাদীপুর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হবে। পার্বতীপুর ২৩০ কেভি সুইচিং স্টেশন, রংপুর ২৩০/১৩২ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র এবং বড়পুকুরিয়া-রংপুর ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ ২০২৩ সালের শুরুতে শেষ হবে। আর বগুড়া-পার্বতীপুর ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনটি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হবে। ওসব প্রকল্প শেষ হলে রংপুর বিভাগে বিদ্যুত সরবরাহে নিরবচ্ছিন্নতা বাড়বে।
এদিকে দেশে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের বিষয়টি পিজিসিবির একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোয় কিছু বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করলেও সঞ্চালন ব্যবস্থার সার্বিক কর্তৃত্ব পিজিসিবির কাছেই আছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ওসব প্রকল্পের অধিকাংশই স্থবির হয়ে পড়ে। কোভিডকালে বিদেশী কর্মীদের প্রকল্প এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাসহ নানা কারণে ওই সঙ্কট প্রলম্বিত হয়। তাছাড়া প্রকল্পের সমীক্ষা যাচাই, পরামর্শক নিয়োগ, দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নির্বাচনেই নির্ধারিত সময়ের সিংহভাগ চলে গেছে।
এ প্রসঙ্গে পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া জানান, সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতা কাটাতে পিজিসিবি গত এক দশকে ৫৪টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে ২৫টি বাস্তবায়িত হয়েছে আর চলমান রয়েছে ২১টি প্রকল্পের কাজ। আরো ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৮ সাল নাগাদসেগুলোর মেয়াদ শেষ হবে। আর চলমান ও পরিকল্পনাধীন প্রকল্পগুলো শেষ হলে দেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দুর্বলতা অনেকটাই কেটে যাবে।