December 9, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, November 15th, 2021, 1:10 pm

সমুদ্রতীরে ডলফিনের খেলা, বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে পর্যটকদের

কক্সবাজারের সমুদ্রতীরে আবারও দেখা মিলেছে ডলফিনের। এবার নিরিবলি পরিবেশে নয় মানুষের কোলাহলে বিচরণ করছে ডলফিনগুলো। সৈকত তীরে ডলফিনের খেলায় আনন্দে মেতে উঠেছে পর্যটকরা।

কক্সবাজার অঞ্চলে শীত শুরু হতেই সমুদ্রে ডলফিনের পাল দলবেঁধে খেলায় মেতেছে। সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্টের মাঝামাঝি সমুদ্র সীমানায় সূর্যের রশ্মিতে কয়েকটি ডলফিনকে খেলা করতে দেখা গেছে।

এর আগে সর্বশেষ করোনার লকডাউন সময়ে যখন সমুদ্রসৈকত বন্ধ ছিল তখন ডলফিনের নাচ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার শীতের শুরুতে অদূর সমুদ্রে দলবেঁধে দাপাদাপি করছে ডলফিনগুলো।

শুক্রবার ও শনিবার (১২ ও ১৩ নভেম্বর) ভোরে ও সকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টের কিছুদূর সমুদ্রে ডলফিনের খেলা দেখেন পর্যটকরা।

তারা জানান, ভোরের কুয়াশা ছেদ করে যখন সূর্যরশ্মি সাগরের নীল জলে পড়ে তখন লোকজনের আনাগোনা কম থাকায় ডলফিনগুলো সমুদ্রকূলের কাছে এসে আপন মনে খেলা করছে। কখনও দু’একটা আবার কখনও দলবেঁধে সাগরজলে খেলায় মেতে উঠছে এই স্তন্যপায়ী প্রাণিগুলো।

সমুদ্রে জেটস্কিচালক সোনামিয়া বলেন, ‘শুক্রবার সকালে যখন জেটস্কি রাউড করে একটু দূরে যাই তখন ডলফিনের পাল দেখে প্রায় ১৩ মিনিট ধরে তাদের নাচের দৃশ্য ধারণ করি। সাধারণত শীত মৌসুমে ডলফিনগুলো মাছ শিকারের জন্য চলে আসে সাগরের কিনারায়।

স্থানীয় জেলেরা বলেন, গত বছর লকডাউনের সময় সমুদ্রসৈকতে কিছু ডলফিনকে খেলা করতে দেখা যায়। এরপর উধাও হয়ে যায়। গত দুই দিন সমুদ্রসৈকতে ডলফিনের বিচরণ দেখা গেলো।

সমিতিপাড়ার জমির হোছাইন মাঝি বলেন, ‘যখন মাছ শিকারে গভীর সমুদ্রে যাই তখন সেখানেই ডলফিনগুলো দেখি। শীতের শুরুতে সাগরের ছোট ও মাঝারি ধরণের মাছগুলো সাগরের কিনারায় চলে আসে। সেই মাছগুলো শিকার করতে মূলত ডলফিনগুলো গভীর সমুদ্র থেকে কূলের খুব কাছে চলে আসে।

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বায়োলজিক্যাল ওশানোগ্রাফি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘কক্সবাজারের সোনাদিয়া ও মহেশখালীর বঙ্গোপসাগর চ্যানেলে দুটি ডলফিন পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। একেকটি পরিবারে ১০-১২টির বেশি ডলফিন থাকে। সাগরে মূলত তারা দলবেঁধে চলাফেরা করে। বর্তমানে চ্যানেলগুলোতে প্রতিনিয়ত তাদের দেখা মেলে। যেহেতু নিরিবিলি স্থান পছন্দ করে, সেহেতু সাগরের জনমানবহীন নীরবতার সুযোগে লাবনী পয়েন্টে চলে এসেছে ডলফিনগুলো।’

—ইউএনবি