December 3, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, November 25th, 2021, 8:05 pm

সম্মুখযুদ্ধে নেমেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক :

ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এই নেতা বিদ্রোহী টাইগ্রে বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে নেমে পড়েছেন বুধবার। সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়ে বলছে, টাইগ্রে অঞ্চলের বিদ্রোহী টাইগ্রে বাহিনী রাজধানী আদ্দিস আবাবা দখলে নেয়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছে- এমন খবরে তিনি আগেই যুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এএফপি বলছে বুধবারই তিনি সেই ঘোষণা অনুযায়ী যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। ওদিকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ধাবিত হতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে আহ্বান জোরালো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটি ছাড়তে ফ্রান্স, জার্মানি, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র সহ অনেক দেশ তার নাগরিকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে। জাতিসংঘে কাজ করা স্টাফদের পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্টাফদের রাখা হয়েছে নিরাপদ অবস্থায়। আফ্রিকার উত্তরে অবস্থিত এই দেশটিতে এক বছরের মতো হলো ট্রাইগ্রে বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে সরকারের। ৬ মাসের জরুরি অবস্থা দিয়েছে সরকার সেখানে। এটি আফ্রিকার দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ। এরইমধ্যে এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। কয়েক লাখ মানুষ পড়েছেন দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে। এমন অবস্থায় দেশকে বাঁচাতে ট্রাইগ্রে বাহিনীর বিরুদ্ধে মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন ২০১৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। দেশটির সম্প্রচার মাধ্যম ফানা ব্রডকাস্টিং করপোরেট ঘোষণা করেছে, গত বুধবার থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তবে তিনি দেশটির কোথায় বা কোন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি। আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর সাবেক রেডিও অপারেটর। তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে আসীন হয়েছিলেন। তার যুদ্ধে অংশ নেয়ার ছবি প্রকাশ করেনি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া। তিনি কোথায় আছেন, এ প্রশ্নে কোনো উত্তর দেননি কর্মকর্তারা। এমন খবরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার সতর্কতা দিয়েছে। বলেছে, ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধের সমাধান সামরিক উপায়ে হবে না। মুখপাত্র বলেছেন, আমরা সব পক্ষকেই উস্কানিমূলক এবং বিরোধমূলক বাগাড়ম্বরতা থেকে বিরত থাকতে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে, মানবিক সহায়তার পথ উন্মুক্ত রাখতে এবং বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানাই। ওদিকে একদিন আগে হর্ন অব আফ্রিকা বিষয়ক ওয়াশিংটনের বিশেষ দূত জেফ্রে ফেল্টম্যান বলেছেন, নতুন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশি অন্য দূতরাও উন্মত্তের মতো যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কলম্বো সরকার এবং সাবেক ফার্স বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তিচুক্তির ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে কলম্বো সফরে রয়েছেন তিনি। সেখান থেকে এই মন্তব্য করেন গুতেরাঁ। গত সোমবার আবি আহমেদ ঘোষণা দেন দেশকে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে তিনি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেবেন। এরপর রাজধানীর কোলফে অঞ্চলে এক অনুষ্ঠানে কয়েক শত যুবককে লড়াইয়ে নতুন করে রিক্রুট করা হয়েছে।