May 28, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Saturday, April 16th, 2022, 7:38 pm

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশজুড়ে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। আর প্রধান শিক্ষক না থাকা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রশাসনিকসহ নানা কাজকর্মে জটিলতা দেখা দিয়েছে। পদোন্নতির অপেক্ষায় থেকে অনেক শিক্ষকই অবসরে চলে গেছেন, আবার কেউ বা যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ৩৫২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪২৩ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির উপযুক্ত। কিন্তু প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ২৪৪টি। ওই শূন্য পদগুলো পূরণ করা ছাড়াও ১৮ জনকে করা হচ্ছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এখন প্রধান শিক্ষকের সঙ্কট তীব্র। বহু জেলায় সরকারি হাই স্কুলে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। কোনো কোনো বিভাগে মাত্র দুই থেকে তিনজন প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি স্কুলগুলো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে ৩৫১টি প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে। তার মধ্যে ২৩৩টি শূন্য। ফলে বাধ্য হয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক অথবা যেখানে সহকারী প্রধান শিক্ষক নেই, সেখানে জ্যেষ্ঠ কোনো সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত পদ দিয়ে কোনো রকমে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কেবল প্রধান শিক্ষকই নয়, সহকারী প্রধান শিক্ষকেরও বিপুলসংখ্যক পদ ফাঁকা। সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৪৭৭টি পদ থাকলেও ১৫২টি সরকারি স্কুলে ওই পদে কেউ নেই। তাছাড়া বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদমর্যাদার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ১৮টি পদও শূন্য। ফলে ওসব জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি করারও কেউ নেই। যেসব জেলায় কোনো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নেই সেগুলো হলো- ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, ঝালকাঠি, ভোলা, জামালপুর, নেত্রকোনা, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, বান্দরবান, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ।
সূত্র জানায়, প্রতিবছরই শিক্ষকরা অবসরে যাচ্ছেন। কিন্তু ওসব শূন্য পদ পূরণ করতে সময় লেগে যাচ্ছে। কারণ নিয়োগবিধি অনুসারে ফিডার পদ পূর্ণ হলে তবেই পদোন্নতি দেয়া যায়। তবে সরকার চাইলে প্রমার্জন করেও পদোন্নতি দিতে পারে। এবার দুই বছর প্রমার্জন করায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলো। মূলত ভয়াবহ প্রধান শিক্ষক সংকট দেখা দেয়ায় সরকার ফিডার পদ দুই বছর প্রমার্জন করে ওসব শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। পদোন্নতির পর ওই শিক্ষকরা পদে যোগ দিলে প্রধান শিক্ষক পদের সংকট প্রায় পুরোটাই কেটে যাবে। তবে এ মুহূর্তে ২৪৪টি প্রধান শিক্ষক পদ ফাঁকা থাকলেও সবকটি এখনই পূরণ হবে না। কারণ নিয়োগবিধি অনুসারে মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। বাকি ২০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ হবে।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে নতুন জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়সহ সারাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৮৩টি। পুরোনো ৩৫২টি সরকারি স্কুলের অধিকাংশ বিদ্যালয়ই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া জেলা পর্যায়ে ১৮টি জেলায় নেই কোনো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। ওই অচলাবস্থা দূর করতেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তার আগে সরকার ফিডার পদ পূর্ণ না হওয়ায় ওই পদে নিয়োগ দিতে পারেনি। কারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হতে হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ৫ বছর কর্মরত থাকতে হবে। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কেউ না থাকায় এতোদিন পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এবার ৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার নিয়ম ২ বছর কমিয়ে প্রমার্জন করে পদোন্নতি দিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই ওই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সর্বশেষ বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির বৈঠকের পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর পদোন্নতি ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে অনেক শিক্ষকের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) হারিয়ে যায়। ফলে সর্বশেষ পদোন্নতি কমিটির ওই বৈঠক স্থগিত করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে পদোন্নতির ঘোষণা না হওয়ায় পেছনের সিরিয়ালের একাধিক শিক্ষক পদোন্নতির সুযোগ পেতে যাচ্ছে। কারণ গত ৩ মাসে অন্তত ৫০-৬০ জন শিক্ষক অবসরে গেছেন। তবে প্রধান শিক্ষকের পদ এবার বেশি শূন্য থাকলেও একশ্রেণির শিক্ষক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হতেই বেশি আগ্রহী। কারণ একজন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ বেশি। তাছাড়া অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে ঘুষ, দুর্নীতি ও এসিআর হারানোর বা গায়েবের মতো ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে তদবির ও বাণিজ্য।
এদিকে পদোন্নতির বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক বেলাল হোসাইন জানান, পদোন্নতির ডিপিসি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হতে পারে। আশা করা যাচ্ছে, ঈদের আগেই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি যে সিনিয়র শিক্ষক পদোন্নতি হয়েছে, ওই গ্রেডেশন তালিকার ভিত্তিতেই পদোন্নতি দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১) ডা. সৈয়দ ইমামুল হোসেন জানান, পদোন্নতি পাওয়ার জন্য জল্পনা-কল্পনার কিছু নেই। নিয়মমাফিক বিধিবিধান অনুসরণ করে পদোন্নতি দেয়া হবে।