December 2, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, October 26th, 2022, 9:14 pm

সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস নিতে মরিয়া শিল্পোদ্যোক্তারা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস নিতে মরিয়া শিল্পোদ্যোক্তারা। কিন্তু ওই ধরনের সরবরাহের জন্য স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। তারপরও দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যেই সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডারে গ্যাস দেয়ার সময় দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং আরো ৪ জন গুরুতর দগ্ধ হয়। ওই দুর্ঘটনার পর সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হলেও এক সপ্তাহ পর তা আবার শুরু হয়েছে। সিএনজি স্টেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেশ সিএনজি স্টেশন থেকে শিল্প কারখানায় সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের আইনগত অনুমোদন থাকলেও বাংলাদেশে তা নেই। স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিল্প-কারখানা সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস নিচ্ছিল। মূলত গ্যাসের চাপ কম পেয়ে শিল্পমালিকরা গ্যাস কিনতে আগ্রহী। আবার শিল্প এলাকার স্টেশনগুলোও বাড়তি লাভের আশায় সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রিতে জড়িত। আর গ্যাস সঙ্কটের কারণে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারাও না দেখার ভান করে অনানুষ্ঠানিক বেচাকেনায় সম্মতি দিয়ে আসছে।
সূত্র জানায়, দেশে গ্যাস সঙ্কট বাড়তে থাকায় সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস নিতে শিল্পোদ্যোক্তারা আগ্রহী হলেও দুর্ঘটনার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর শিল্পমালিকরা সিএনজি স্টেশন মালিক এবং সরকারের জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা ও তদবির শুরু করে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফেকচার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) পেট্রোবাংলা এবং সিএনজি স্টেশন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারসন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে সিএনজি স্টেশনগুলো থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেয়। বিজিএমইএ থেকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের চাপ কম থাকায় এবং অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ৮টার পর থেকে গ্যাসের প্রেসার কমে কমে শূন্য পিএসআই হয়ে যায়। আবার রাত ১১টার পর কিছুটা উন্নতি হয়। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। এমন অবস্থায় সিএনজি স্টেশন থেকে যে সব কারখানা গ্যাস সরবরাহ নিতে চায় তাদেরকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করার বিষয়ে একান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু স্টেশনগুলো গ্যাস সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আর বিসিএমইএ থেকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, গত ৬ মাসের বেশি সময় ধরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত একটানা ১২ ঘণ্টা কারখানায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি মাঝে মাঝে একটানা কয়েক দিন পর্যন্তও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। এমন অবস্থায় আমদানি বিকল্প ও রপ্তানিমুখী সিরামিক শিল্পে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সিএনজি স্টেশন হতে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে অনুরোধ জানানো হয়।
সূত্র আরো জানায়, সিএনজি ধারণের জন্য নির্ধারিত মানদ-ের সিলিন্ডার দরকার হয়। কিন্তু অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানই অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইডের সিলিন্ডার দিওে গ্যাস নিয়ে যায়। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার এ প্রক্রিয়াকে একটি বিধি ও নিয়মের মধ্যে আনলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ প্রসঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারসন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর জানান, শিল্পের প্রয়োজনে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নেয়া অনেক দেশেই স্বাভাবিক ঘটনা। স্টেশন ও জননিরাপত্তা বিবেচনায় দেশেও এ প্রক্রিয়াটি যতো দ্রুত সম্ভব বিধিসম্মত করা দরকার। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। এটি যতো দ্রুত করা যায় ততোই মঙ্গল।