August 14, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, June 27th, 2022, 8:50 pm

সিরাজগঞ্জে পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সোমবার সকালে রেকর্ড অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) নাসির উদ্দিন জানান, যমুনার পানি খুব দ্রুত কমে বন্যাকবলিত এলাকার অনেক বাড়ি-ঘর থেকে পানি নেমে গেছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যেই বেশির ভাগ নিম্নাঞ্চল থেকেও পানি নেমে যেতে পারে। সেই সঙ্গে যমুনার পানি কমে যাওয়ায় জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও দ্রুত কমতে শুরু করেছে।

তিনি জানান, যমুনা তীরবর্তী সদর, চৌহালি, বেলকুচি, শাহজাদপুর, কাজীপুর এই পাঁচ উপজেলার ৩৮ ইউনিয়নের অর্ধ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। বাড়ি-ঘর থেকে দ্রুত পানি নেমে গিয়ে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অনেক স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দেয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

এদিকে, যমুনায় পানি কমতে থাকায় যমুনা তীরবর্তী পাঁচ উপজেলায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙনরোধে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ নিক্ষেপ এবং বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড নজর রাখছে।

ত্রাণ নিয়ে জেলার বানভাসিদের দাবি, সরকারের অপ্রতুল ত্রাণ সামগ্রি বেসরকারি এনজিও সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোরও তেমন তৎপরতা না থাকাও বানভাসিদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া জেলার নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের ৮৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বন্যার্তদের জন্য ১৮৪ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাছাড়া ২৩টি মেডিকেল টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বন্যায় জেলায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, তিল, মরিচ, বাদাম, রোপা আমন, শাক-সবজি, বীজতলাসহ উঠতি ফসল পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়েছে। এবারের বন্যায় জেলার কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষকদের ক্ষতির কথা স্বীকারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, কৃষকের এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লেগে যাবে।

—ইউএনবি