July 4, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, June 19th, 2022, 9:27 pm

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপরে

উজানের পাহাড়ি ঢলের পানিতে ও প্রবল বর্ষণে সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার সকালের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও কাজিপুর পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গত দুইদিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করায় বন্যা কবলিত এলাকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

রবিবার সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বিয়ারঘাটের বাঁধ অভ্যন্তরের একটি কাঁচা রাস্তার ৩০ ফুট ভেঙ্গে যমুনা নদীর পানি প্রবেশ করায় নিম্নাঞ্চলের তিন শতাধিক বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসময় একটি দোকান ও তিনটি টিনের ঘর ভেঙ্গে গেছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (হেডকোয়ার্টার) জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কয়েকদিন ধরে পাহাড়ি ঢল ও দফায় দফায় বর্ষণে যমুনা নদীতে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এতে চরাঞ্চলের বাদাম ও পাটসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে এবং অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে। এ ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এনায়েতপুরসহ অনেক স্থানে এ ভাঙন রোধে স্থানীয় পাউবো জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করছে। যমুনায় পানি বাড়তে থাকায় বিশেষ করে শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে এবং চরাঞ্চলের অনেক পরিবার এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজর রাখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে যমুনার পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ শাখা নদী ও চলনবিল অধ্যুষিত উল্লাপাড়া, তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলার করতোয়া, বড়াল, ইছামতি, ফুলজোড় নদীতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হচ্ছে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলও।

—ইউএনবি