December 2, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, October 19th, 2022, 12:29 pm

সিলেটে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আমন আবাদ ভাল ফলনের আশাবাদী কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট :
এবার সিলেট অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন রোপন ও এর পরিচর্যায় কৃষকরা মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। তাদের মতে এ ধারা অব্যাহত থাকলে আসন্ন মৌসুমে আমনের ভাল ফলন পাবেন বলে আশাবাদী। ফলে এ নিয়ে কৃষি কর্মকর্তাদেরও আগ্রহের শেষ নেই।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দক্ষিণ সুরমার জালালপুর এলাকায় দেখা যায়, উপজেলার কৃষিবহুল জনপদ জালালপুরের প্রায় প্রতিটি এলাকায়ই আমনের চাষ হয়েছে। কৃষকরা ফসলের মাঠে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও পোকা থেকে ধানকে রক্ষা করতে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক ফজর আলী বলেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমন ধানের জন্য অনুকুলে রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে।
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটের চার জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩ হাজার ২৮০ হেক্টর। গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমি আমন আবাদ হয়েছে। শুধুমাত্র সিলেট জেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতিমধ্যে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
সময়মতো বৃষ্টি ও বন্যামুক্ত হওয়ায় সিলেট বিভাগে ২১ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। বীজতলা তৈরিতে সিলেট জেলা এগিয়ে। ৭ হাজার ৫০৮ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বীজতলা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৫ হেক্টরে। অগ্রগতি ৫ শতাংশ বেশি।
ঠিকমতো বীজতলা তৈরি করার সুবাদে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমি আবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তারা। তাদের মতে এ বছর এখন পর্যন্ত আমন আবাদের জন্য উপযোগী আবহাওয়া বিরাজ করছে। প্রতিদিন রাতের বেলা পর্যাপ্ত বৃষ্টি চলতি আমন মৌসুমের জন্য খুবই উপকারী। ভয়াবহ বন্যায় আউশ ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমনের প্রতি কৃষকরা যতœবান।
সিলেট জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র সরকার বলেন, এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সিলেট বিভাগে আমনের ভালো ফলন হবে। এতে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হয়েছেন। রোপা আমন চাষিরা দ্বিগুণ উৎসাহে এখন মাঠে নেমেছেন। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
ডিএই সিলেট সূত্রে আরও জানায়, এবার সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৪ লাখ ৩ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছিল। উফশী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ধান আবাদের লক্ষ্য ৪৬ হাজার ৪৯০ হেক্টর এবং হাইব্রিড ৩০৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করার কথা। এরই মধ্যে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩০১ হেক্টর জমিতে উফশী, ৪১ হাজার ৩৮৯ হেক্টর জমিতে স্থানীয় এবং ৮৫৬ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতীয় ধান আবাদ হয়েছে। প্রতিদিন কৃষকরা জমি আবাদে ব্যস্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আগ্রহের কমতি নেই।
সিলেট জেলায় মোট আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর মধ্যে উফশী ১ লাখ ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর, স্থানীয় ২৯ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে উফশী জাতের ধান আবাদের লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে। ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত আমন ধানের চারা রোপন করা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৩ হেক্টর জমিতে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক কাজী মুজিবুর রহমান জানান, এ বছর আমন ধানের ভালো ফলনের আশা দেখছেন তারা। এবার নিয়মিত বৃষ্টি থাকায় ও বন্যামুক্ত হওয়ায় কৃষকরা ভালোভাবে ধান রোপণের সুযোগ পেয়েছেন। পোকা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি না হলে এবার অনেক বেশি উৎপাদন আশা করা হচ্ছে।