May 25, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, March 30th, 2022, 9:17 pm

সুতা তৈরির তুলা আমদানিতে বহুমুখী সমস্যার মুখোমুখি স্পিনিং মিলগুলো

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তুলা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তায় সঙ্কটে দেশের স্পিনিং মিলগুলোর সুতা উৎপাদন। মিলগুলো আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দুই প্রেক্ষাপটেই সুতা উৎপাদনে তুলা সঙ্কটের মুখে পড়ছে। ফলে সুতা উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭৫ লাখ বেল তুলা আমদানি হয়েছে। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি ৭৬ লাখ বেল ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছর শেষে আমদানি ৯০ লাখ বেল ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে। কিন্তু আমদানি তুলার প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পিনিং মিল বিপাকে পড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তুলা আমদানি বর্তমানে একদিকে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ও কনটেইনার সঙ্কট, অন্যদিকে আমদানিকৃত তুলা চট্টগ্রামে বন্ধরে এসে জটে পড়তে হয়। ওসব কারণে শিপিং কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আমদানি পণ্যের চালান নিয়ে আসতে আগ্রহী হয় না। ফলে দেশের রফতানিমুখী সুতা উৎপাদনকারী স্পিনিং মিলগুলোর তুলা আমদানি সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। আবার কাঁচা তুলা যখন বন্দরে পৌঁছাচ্ছে, তখন তা পরিশোধন বা ফিউমিগেশন প্রক্রিয়ায় চালান ছাড় করতে আরো বেশি দেরি হচ্ছে। এককথায় স্পিনিং মিলগুলোকে তুলা আমদানিতে বহুমুখী সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ৪৩০টিরও বেশি বিটিএমএ সদস্য স্পিনিং মিল রয়েছে। ওই মিলগুলোর কেনা তুলাসহ অন্যান্য কাঁচামাল দেশে আমদানিতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫/৬ মাস সময় লাগছে। ক্রয় করা তুলা যথাসময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারার কারণে মিলগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ মূলত মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, সিআইএসভুক্ত দেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে কাঁচা তুলা আমদানি করে। স্পিনিং মিলগুলোর কারিগরি প্রেক্ষিত বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হয়। সেক্ষেত্রে উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে মিলগুলোয় কাঁচা তুলার নিরবচ্ছিন্ন জোগান অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প থাকে না। তাছাড়া উৎপাদিত সুতা তৈরি পোশাক খাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্যেও স্পিনিং মিলগুলোকে অব্যাহতভাবে কাঁচা তুলা আমদানি করতে হয়। অন্য কোনো দেশের কাঁচা তুলার জন্য প্রযোজ্য না হলেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা ও আইনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা বন্দর থেকে খালাসের আগে পরিশোধন বা ফিউমিগেশন করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা জাহাজ থেকে নামার পর ফিউমিগেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে ফলাফল পেতে ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ফলাফল প্রাপ্তিসাপেক্ষে সার্টিফিকেট ইস্যুর পর শুল্ক কর্তৃপক্ষ কাঁচা তুলার মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। কাঁচা তুলা আমদানিতে দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি আমদানি অনুমতি (আইপি) নিয়েও জটিলতা রয়েছে। বিটিএমএর স্পিনিং মিলগুলোকে কাঁচা তুলা আমদানির আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং থেকে আইপি সংগ্রহ করতে হয়। সেক্ষেত্রে সাধারণত ৪ মাস আইপির মেয়াদ নির্ধারণ করে দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কোনো কারণে সংশ্লিষ্ট মিলগুলো আইপির বিপরীতে তুলা আমদানি করতে সক্ষম না হলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করে আইপির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি করা মেয়াদের মধ্যেও তুলা আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। চলমান পরিস্থিতিতে বর্তমানে তুলা আমদানিতে মিলগুলোর ৬/৭ মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। আর ট্রানজিট ও চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জটের কারণে আমদানি করা তুলা বাংলাদেশে পৌঁছতে ৯-১০ মাস সময় লাগছে।
সূত্র আরো জানায়, বৃদ্ধি করা আইপির মেয়াদেও তুলা আমদানি সম্পন্ন না হওয়ায় মিলগুলোকে আমদানীকৃত তুলা বিশেষ আদেশ গ্রহণের মাধ্যমে ছাড় করতে হয়। প্রায় ক্ষেত্রেই ওই ধরনের বিশেষ আদেশপ্রাপ্তি সময়সাপেক্ষ হয়ে থাকে। যার কারণে বন্দরে ড্যামারেজ, হয়রানি, উচ্চমূল্যে স্থানীয় বাজার থেকে তুলা কেনার কারণে সুতার উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষতি, ব্যবসার খরচসহ তুলা খালাসে অতিরিক্ত সময়ে মিলগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিটিএমএ সভাপতি মোহম্মদ আলী খোকন জানান, বর্তমানে তুলা আমদানিতে শিপিং সমস্যার কারণে সদস্য মিলগুলো কাঁচামাল আমদানিতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ক্রয় করা তুলা যথাসময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারার কারণে মিলগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আবার মিলে গ্যাস সংকটের কারণেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এখন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।