June 25, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Thursday, June 23rd, 2022, 9:13 pm

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে পানি কমছে খাবার সংকট তীব্র

বন্যায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সীমান্ত এলাকায় চরম খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। তবে পানি কিছুটা কমছে। ফলে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা কেউ কেউ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় বসতঘর থেকে পানি নিচে নামলেও, বাড়ির উঠানে এখনও হাঁটু পানি বিরাজ করছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সামান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও সব ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তাহিরপুর সীমান্তের বীরেন্দ্রনগর থেকে লামাকাটা, জঙ্গলবাড়ী, কলাগাঁও, চারাগাঁও, বাসতলা, লালঘাট, ট্যাকেরঘাট, বড়ছড়া, রজনী লাইন, চাঁনপুরসহ লাউড়েরগড় পর্যন্ত প্রায় ১৭টি পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। ওপারে মেঘালয় পাহাড়। বৃষ্টি হলেই এসব পাহাড়ি চড়া দিয়ে প্রবল বেগে পানি এসে সীমান্তের বাড়ি ঘরে তাণ্ডব শুরু করে। ঢলের সঙ্গে চড়া দিয়ে বালি এসে ফসলি জমি, পুকুর ও বাড়িঘর ভরে গেছে। সীমান্তের রাস্তাঘাট ক্ষণে ক্ষণে ভেঙে খালে পরিণত হয়েছে।

গত দুইদিনে বন্যার পানি একটু কমলেও এখনও উজান থেকে প্রবল ঢল আসছে। যাদুকাটা, পাটলাই ও রক্তি নদীর তীরবর্তী এলাকার বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। হুমকিতে পড়েছে লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্প, স্কুল, মাদরাসা, বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও পুরো উপজেলা গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই।

সীমান্তবর্তী লালঘাট গ্রামের সরাফত আলী জানায়, বন্যায় শত শত পুকুরের মাছ ভেসে হাওরে চলে গেছে। পানি একটু কমলেও দুর্ভোগ কমছে না। সীমান্ত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, ও সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যাসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।

চারাগাঁও গ্রামের সাবেক মেম্বার হাসান মিয়া জানান, একদিকে ভয়াবহ বন্যা, অপরদিকে পাহাড়ি ঢলে সীমান্তের লোকজনকে শেষ করে দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী কিছু বিতরণ করা হলেও বন্যায় আক্রান্ত সীমান্তের লোকজন বঞ্চিত হচ্ছেন।

লাকমা গ্রামের সাফিল মেম্বার জানান, বন্যায় পুকুর ডুবে মাছ চলে গেছে এবং পুকুরগুলো বালিতে ভরে গেছে। ট্যাকেরঘাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে বন্যা কবলিত, লাকমা, দুধের আউটা, পুটিয়া, জামালপুর, ভোরাঘাট, মদনপুরসহ বেশ কয়েকটি বন্যা কবলিত গ্রামের আটশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তারা এক কাপড়ে কোনরকম এখানে এসে জীবন বাঁচিয়েছেন। তারা এখন খাবার সংকট ভোগছেন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্রেসহ উপজেলাজুড়ে পাঁচটি টিম খাবার বিতরণ করছে। সরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণ আসতে শুরু করেছে। পর্যায়েক্রমে সীমান্ত এলাকাসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণসামগ্রী দেয়া হবে। তিনি এই দুর্যোগে মুহূর্তে দেশ বিদেশের সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

—-ইউএনবি