September 25, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, January 31st, 2022, 8:33 pm

সেচ মৌসুমে দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটের আশঙ্কা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সেচ মৌসুমে দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেশে সেচ মৌসুম শুরু হবে। ওই সময়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা করছে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশে সেচ মৌসুম চালু থাকে। গত মে মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৯৭ মেগাওয়াট। আর ২০২০ সালে ছিল ১১ হাজার ৯৭৭ মেগাওয়াট। চলতি সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। তার মধ্যে শুধু সেচের জন্যই ২০২১ সালে ২ হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লেগেছে। যা ২০২২ সালের জন্য টও্ক্কলন করা হয়েছে ২ হাজার ৩৭৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু জ্বালনি সংকট ও বিতরণ-সঞ্চালন সীমাবদ্ধতার কারণে সক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎই উৎপাদন করা যায় না। এখন পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৩ হাজার ৭৯২ মেগাওয়াট। গত বছরের ২৭ এপ্রিল ওই রেকর্ড হয়।
সূত্র জানায়, এবারের সেচ মৌসুমে চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দৈনিক ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস, ৭০ হাজার ৫০০ টন ফার্নেস অয়েল এবং ৩০ হাজার ৭০০ টন ডিজেল প্রয়োজন হবে। গত বছর ২৭ এপ্রিল রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ১৩১ দশমিক ৪ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলা বিদ্যুতের জন্য দৈনিক গড়ে ১১০ থেকে ১১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। গত বছর সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিন দেশে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ৩২৬ দশমিক ৩ কোটি ঘনফুট। তার মধ্যে দেশীয় ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হয়েছিল ২৪৪ দশমিক ৩৫ কোটি ঘনফুট। আর আমদানি করা এলএনজি থেকে মিলেছে প্রায় ৮২ কেটি ঘনফুট। কিন্তু গত রোববার গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২৭৩ দশমিক ৪৭ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ গত এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ৫৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে। তার মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে ২৩১ দশমিক ৩৭ কেটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৪২ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট। ফলে সেচ মৌসুমে ১৬০ কোটি ঘনফুট চাহিদা থাকলেও কতোটুকু পাওয়া যাবে তা নিয়ে চিন্তিত পিডিবি।
এদিকে সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সঙ্কটের বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক ভার্চুয়াল আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার আয়োজন করে। তাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের জোগান অব্যাহত রাখতে হবে। সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্যাসভিত্তিক বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ। জ্বালানি পরিবহনে ঝামেলা এড়াতে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পিডিবি যোগাযোগ রাখবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং কয়লার সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপিসি, পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিড উপকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন, বিতরণ লাইন এবং উপকেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ ও মেরামত কাজ জরুরি ভিত্তিতে শেষ করতে হবে। ওভারলোডেড সাবস্টেশন ও সঞ্চালন লাইন আপগ্রেডেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ন্যূনতম দুই মাসের জ্বালানি তেলের মজুত রাখতে হবে।