November 28, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, November 5th, 2021, 9:39 pm

সেতু ও অ্যাপ্রোচ রোডে ভাঙন, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ৪০ গ্রামের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক :

রাজাপুর সেতু। জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাতায়াতের পথেই এই সেতু। এ ছাড়া আশপাশের ৩০-৪০টি গ্রামের মানুষেরও নিত্য যাতায়াত এই সেতু দিয়ে। কিন্তু সেতুর সামনের দিকে জামালগঞ্জ-সাচনা বাজার-বেহেলী সড়কের সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডটির অবস্থা বেহাল। রাস্তাটি ভেঙে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে শত শত যানবাহন। জানমালের ঝুঁকি থাকলেও অ্যাপ্রোচ রোড সংস্কারের কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত নেই। সাচনা বাজার-বেহেলী সংযোগ সড়ক দিয়ে দুই উপজেলার অন্তত ৩০-৪০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করে থাকেন। কিন্তু ভেঙে যাওয়া অ্যাপ্রোচ রোড সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় গ্রামবাসীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন। অন্যদিকে এই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের বেশ কয়েকটি নির্দেশিকা বোর্ড ভেঙে পড়েছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নজর নেই সেদিকেও। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাচনা বাজার-বেহেলী সড়কের রাজাপুর সেতুর বেহেলীমুখের অ্যাপ্রোচ অংশটি একেবারেই ভেঙে হেলে পড়েছে। সেতু থেকে সড়কে নামার খাড়া অংশটুকু পাড়ি দিতে গিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে যানবাহনকে এবং চলাচলরত সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় চালক ও যাত্রীরা বলছেন, সড়কের দশা এমনÑ যেকোনো সময় গাড়ি উল্টে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আবার এ ছাড়া সেতুর দক্ষিণ অংশে এখনো ভাঙন দেখা না দিলেও ভাঙনের লক্ষণ দেখছেন তারা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংযোগ সড়কটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী, বেহেলী আলীপুর, মশালঘাট, তিলকই, ইসলামপুর, চন্ডীপুর, প্রকাশনগর, রাধানগর, রহমতপুর, হরিনগর, পুটিয়া, বাগানী, কুমড়িয়া, রাজাপুর, চিনামারা, শলাচূড়া, বাগহাঁটি, রহিমাপুর, রহিমাপুর গুচ্ছগ্রাম, আরশিনগর, গোপালপুর, নিতাইপুর, বদরপুর, ইনাতনগর, জামালগড়, টেকাটুকিয়া, বীননগর, লক্ষ্মীপুর, উজান তাহিরপুর, ভাটি তাহিরপুরসহ অন্তত ৪০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন সাচনা বাজার-বেহেলী সংযোগ সড়কের রাজাপুর সেতু দিয়ে। এই সংযোগ সড়কের অবস্থা যেমন বেহাল, তেমনি সেতুর এক পাশের অংশেও ভাঙন দেখা দিতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ সেতুর ভঙ্গুর অংশটুকু দ্রুত মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন। বেহেলী ইউনিয়নের মশালঘাট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা পরেশ চন্দ্র তালুকদার বলেন, রাজাপুর সেতুর উত্তর অংশে কিছুটা ভাঙন দেখা যাচ্ছে। জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে। জরুরিভিত্তিতে ভাঙন ঠিক করা না হলে এলাকাবাসীর জন্য পথটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেতুর এ অবস্থার কারণে এর আগেও দুয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তেমনই এক দুর্ঘটনার শিকার রহিমাপুর গুচ্ছ গ্রামের টমটমচালক ফজলুল করিম। তিনি বলেন, সেতুতে উঠতে গিয়ে একবার গাড়ি উল্টে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো, ওই সময় গাড়িতে কোনো যাত্রী ছিল না। আমি নিজে কোনোমতে বেঁচে গেছি। যাত্রী থাকলে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত। জানতে চাইলে বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অসীম চন্দ্র তালুকদার বলেন, এই ব্রিজের অ্যাপ্রোচের দুই অংশ ঠিক রাখতে হলে প্রোটেক্টিভ ওয়াল দিয়ে কাজ করতে হবে। তা না করতে পারলে বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই কিছুকিছু অংশ করে ভাঙতে থাকবে। তিনি বলেন, রাজাপুরের এই সেতু ও অ্যাপ্রোচ রোড ছাড়াও গুচ্ছগ্রাম-আলীপুর অংশের সেতুতেও কিছু সমস্যা আছে। সেটিও সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। আমি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে দ্রুতই। জানতে চাইলে ইউএনও বিশ্বজিত দেব বলেন, সেতু ও অ্যাপ্রোচ রোডের ভাঙনের বিষয়টি জেনেছি। ভাঙনের অংশটুকু দেখেও এসেছি। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি)। আমরা এলজিইডি’র সঙ্গে কথা বলেছি বিষয়টি দেখছি। তবে এ বিষয়ে এলজিইডি’র দায়িত্বশীল কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।