December 2, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, November 19th, 2021, 7:56 pm

সোনা জয় করতে ব্যর্থ রুবেল-দিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রিকার্ভ মিশ্র দ্বৈতের ফাইনালে উঠেই দুজন দারুণ কীর্ত গড়েছিলেন। হাতছানি ছিল আরও বড় কিছু অর্জনের; বাংলাদেশের প্রথম আর্চার হিসেবে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপসে সোনা জয়ের। কিন্তু পারেননি মোহাম্মদ হাকিম আহমেদ রুবেল ও দিয়া সিদ্দিকী। শুরুর দুই সেটে হারানো ছন্দ শেষ সেটে ফিরে পেয়েছিলেন বটে, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ বেরিয়ে গেছে মুঠো থেকে। স্বপ্ন ভাঙার কারণ হিসেবে দুজনেই পরে বললেন ওই শুরুর ভুলের কথা। আর্মি স্টেডিয়ামে শুক্রবার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জুটির কাছে ৫-১ সেট পয়েন্টে হেরে যান রুবেল-দিয়া। প্রথম সেটে ৩৮-৩২ ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় সেটেও বিবর্ণ দুজনের পারফরম্যান্স, হেরে যান ৩৯-৩৩ পয়েন্টে। তৃতীয় সেটে দুজনেই দারুণ খেলেন, ৩৮-৩৮ টাইও করেন, কিন্তু চতুর্থ সেটে খেলা টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। সোনা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও এ আসরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কম নয়। সেই ২০০৩ সাল থেকে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই প্রথম মিলল পদকের দেখা। দলগত দুটি ব্রোঞ্জ ও রিকার্ভ মিশ্রর রুপা পেয়েছে বাংলাদেশ। দিয়া আশাবাদী আগামীতে সোনার আক্ষেপ ঘুচবে তাদের। এজন্য সরকারের সহযোগিতাও চাইলেন তিনি। “আমি মনে করি, আমাদের সবারই উন্নতি হচ্ছে। এই প্রথম বাংলাদেশ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসের কোনো ইভেন্টে ফাইনালে খেলল। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। রুপা এসেছে, এর আগে ব্রোঞ্জ এসেছে দুটো, এরপর আমরা সোনাও জিতব ইনশাল্লাহ।” “আমাদের যে সুযোগ-সুবিধাগুলো দিচ্ছে, সেটা যথেষ্ট। তবে হ্যাঁ, আমাদের দিকে আরেকটু নজর দেওয়া উচিত। স্কুল বা কোথাও যদি আর্চারির কথা বলি, তাহলে আজকে একটু চিনবে, এরপর চিনবে না, আর্চারির প্রতি গুরুত্বটা আরও বেশি দেওয়া উচিত এবং চাই সরকার যেন আর্চারিকে সেভাবে সাপোর্ট করে। শুধু আর্চারি নয়, যেসব খেলা উঠছে, সেদিকে সরকারের আরেকটু নজর দেওয়া উচিত। আমাদের কিন্তু সরকার থেকে তেমন একটা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় না, সাধারণত যেটা ক্রিকেট, ফুটবলকে দেওয়া হয়।” রুপা জয়ের তৃপ্তি থাকলেও সোনা হারানোর আক্ষেপ যে একেবারেই দিয়ার নেই, তা নয়। এবারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান ১৭ বছর বয়সী এই আর্চার। “শুরুর দিকে আমাদের দুজনেরই প্রত্যাশিত স্কোর হয়নি, শেষের দিকে হয়েছিল। প্রথম থেকে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কিন্তু আমার দ্বিতীয় শটটা খারাপ হয়েছিল। কিন্তু যেটাই হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ্; পরেরবার যেন সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারি। সবকিছু আমি ইতিবাচকভাবে নিই। সবসময় যেটা বলিৃযদি জিতে যাই, তাহলে সেটা অভিজ্ঞতা আর যদি হেরে যাই, সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এই হার থেকেই শিক্ষা নিচ্ছি আমি।” “এমন না যে প্রতিপক্ষকে আমরা কঠিন ভেবে নিয়েছিলাম, আপনারাও দেখেছেন ওদের স্কোর খুব ভালো, ৩৮, ৩৯ এমন। শেষ দিকে গিয়ে আমরা একটু ভালো করেছিলাম। ওদের একটা ব্যাপার হচ্ছে, ওরা সবসময় একই লেভেলে থাকে। ওরা নিচে নামে না। আমাদেরকে ওরকম একটা পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে, দিনকে দিন উন্নতি করতে হবে, ইনশাল্লাহ আমরা উন্নতি করব।” দিয়ার মতো রুবেলও বললেন হার থেকে শিখছেন। ফাইনালে সেরাটা দিতে না পারার পেছনে বাতাসের দায়ও দেখছেন তিনি। “আমরা যেখানে অনুশীলন করেছি, সেখানে এতটা বাতাস ছিল না। এখানে বাতাস বেশি ছিল এবং সেটা বুঝতে আমাদের অনেক সময় লেগে গেছে। লড়াই শুরু করতে করতেই ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেল। ইনশাল্লাহ আমরা পরবর্তীতে আরও ভালোভাবে চেষ্টা করব। এই হার থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। নিজেদের কিছুকিছু ভুল ছিল, যেগুলো বুঝতে পেরেছি। পরবর্তীতে সেগুলো শুধরে নিব ইনশাল্লাহ।” “নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি খুশি। যতগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলেছি, সেগুলোর মধ্যে এবার সেরা স্কোর করেছি। কিছুকিছু বিষয়ে এখনও ভুল হচ্ছে, কোচ সেগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন, পরবর্তীতে ঠিক করে নিতে বলেছেন, ইনশাল্লাহ সেটা করে নিতে পারব।” রিকার্ভ পুরুষ এককের এলিমিনেশন রাউন্ডে দেশের তারকা আর্চার রোমান সানাকে বিদায় করে রুবেলের পথচলা থামে সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে হেরে। রিকার্ভ মিক্সড ইভেন্টের শেষ ধাপে এসে পারলেন না বাজিমাত করতে। তবে হাল না ছেড়ে সামনের দিকে তাকাতে চান এই ১৯ বছর বয়সী এই আর্চার। “রোমান ভাইকে হারানোৃআসলে বিষয়গুলো আমি ওভাবে দেখি না। অনুশীলনে আমরা একে অপরকে হারায়। চেষ্টা করব এই লেভেল ধরে রাখার। আরও ভালো করার। এর আগেও রোমান ভাইকে হারিয়েছি, তিনিও আমাকে হারিয়েছেন; খেলাধুলায় হার-জিত আছে।” “চেষ্টা ছিল দেশকে কিছু একটা উপহার দেওয়ার। যেহেতু বাংলাদেশে আর্চারি অতটা প্রচলিত নয়। আমি চেষ্টা করেছি, আমারও আক্ষেপ আছে সোনাটা হাতের কাছ থেকে মিস হয়ে গেল। ভবিষ্যতেও চেষ্টা করব, সেরা সাফল্য এনে দেওয়ার। টোকিও অলিম্পিকসে আমরা পারিনি, আশা করি ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকসে আমরা ভালো করতে পারব। সরাসরি যেন প্যারিসের আসরে কোয়ালিফাই করতে পারি, দোয়া করবেন।”