September 28, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Friday, December 17th, 2021, 2:57 pm

হলুদে ছেয়ে গেছে মাঠ, সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক

ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ে দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহ। দু’চোখ যেদিকে যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। আঁকাবাঁকা রাস্তার দু’পাশে প্রকৃতি যেন সেজেছে আপন মহিমায়। এমন নয়নাভিরাম সরিষা ফুলের দৃশ্য, ফুলের গন্ধ, পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর মৌমাছির গুঞ্জন মনকে বিমোহিত করে।

প্রকৃতি যেনো হলুদের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠে মাঠে। খেতের পর খেত সরিষা আর সরিষা। হলদে সাজের সমাহার ইঙ্গিত করছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা, বিরাশি, রাতোর, নন্দুয়ার ,ভরনিয়া , ধর্মগড়ে বিস্তীর্ণ মাঠে এখন সরিষার হলুদ রঙের ফুলের সমারোহ। যেন হলুদ রঙের সুষমা শোভা পাচ্ছে দিকে দিকে। গুনগুন শব্দে মধুলোভী মৌমাছিরা এখন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বসে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি রবিশস্য মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সরিষাখেতে রোগবালাই কম হওয়ায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার কৃষককে বিনামূল্য সরিষা বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। রাণীশংকৈল উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে ১৬০০ জন কৃষককে। এই উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নে এবারই প্রথম একসাথে ৫০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে সরিষার অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু চলতি মৌসুমে উপজেলায় এবার চার হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে পাচঁ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ চলতি মৌসুমে গত বছরের চেয়ে ১৭০ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে।

উপজেলার লেহেম্বা গ্রামের সরিষাচাষি আব্দুল মতিন জানান, তিনি এ বছর ৪০ শতাংশ জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। আবাদ ভালো হওয়ায় ভালো ফলনও আশা করছেন।

একই গ্রামের সরিষাচাষি হাফিজুর রহমান বলেন, গত বছর সরিষার চাষ না করলেও তিনি এ বছর চাষ করেছেন। কারণ, বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেশি। তাই তিনি এবার ৩৩ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, সরিষা আবাদের পরই কৃষকরা দুটি ধানের আবাদ করতে পারছে । যা থেকে বেশি আয় করা সম্ভব । গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এর প্রধান কারণের মধ্যে আছে, বাজারে সরিষা এবং ভোজ্য তেলের দাম বেশি।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত মৌসুমে আলু চাষ করে অনেকের লোকসান হয়েছে। এবার তাঁরা আলুর আবাদ কমিয়ে দিয়ে জমিতে সরিষার চাষ করছেন। তবে আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

—ইউএনবি