May 18, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Tuesday, March 14th, 2023, 7:29 pm

১৫ মার্চের পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ

ফাইল ছবি

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই রমজান মাস। কিন্তু তার আগেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে অনুমতি (আইপি) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে রমজানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা জানান, সরকার কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৫ মার্চের পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে নতুন করে কোনও অনুমতি দিবে না। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া আসন্ন রমজানে দেশে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টি হবে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বেড়ে গেলে ভোক্তাদের বেশি দামে কিনতে হবে।

অন্যদিকে সোমবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সিনিয়র সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম জানান, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। যার প্রভাব ফেলে সরকার ও ভোক্তাদের ওপর। কিন্তু এবার রমজানে দাম বাড়ার কোন আশঙ্কা নেই। কারণ ভারতে এবার পেঁয়াজের ফলন বেশি হওয়ায় সেখানে দাম তুলনামূলক অনেক কম।

তিনি বলেন, দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসতে এখনও ১৫-২০ দিন সময় লাগবে এবং দেশি পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, রমজানে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এখন থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। ঠিক এই সময়েই সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় রমজানে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে আমদানিকারকদের ভারতে ১০ হাজার পেঁয়াজের এলসি করা আছে।

এছাড়া, ১৫ মার্চের পর আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং ভোক্তাদেরও রমজানে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হবে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দেশের ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় রমজান মাসে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা দরকার। আর যদি আমদানির অনুমতি বন্ধ করতে হয় ঈদের পর বন্ধ করা যেতে পারে। তাহলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত থেকে রেহাই পাবে।

এদিকে হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব অনুমতি পত্র (আইপি) দিয়েছে এবং যেসব আইপি দেয়া হচ্ছে সেগুলোর মেয়াদ ১৫ মার্চ পর্যন্ত।

যদি নতুন করে আইপি সংক্রান্ত কোনও নির্দেশনা না আসে তাহলে এরপর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরের মোকামে প্রতি কেজি ভালো মানের আমদানি করা পেঁয়াজ ২৪ টাকা আর দেশিয় পেঁয়াজ ২৬ টাকায় খুচরা বিক্রি হচ্ছে।

—-ইউএনবি