December 4, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, September 6th, 2021, 9:06 pm

২৯ বছর পালিয়ে ছিলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

অনলাইন ডেস্ক :

২৯ বছর আগে ১৯৯২ সালের ২৪ জুন রাতে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার গুটিবাড়ী সরকারপাড়া এলাকায় জায়গা-জমির বিরোধে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে খুন হন ইব্রাহিম ওরফে ইব্রা। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আবুল কালাম আজাদ। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়ি ছাড়েন। বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সর্বশেষ তিনি রাজধানীর মিরপুরের আহম্মেদনগরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, বদলে ফেলেন নিজের নাম-পরিচয়। রংপুর থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসার পর নিজেকে আড়াল করার জন্য আজাদ মিয়া নাম পাল্টে মিরপুর থানার আহম্মেদনগরকে বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন তিনি। তবে ২৯ বছর পালিয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি ধরা পড়েছেন র‌্যাবের হাতে। আবুল কালাম আজাদকে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ২৯ বছর আগে ১৯৯২ সালের ২৪ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাজার থেকে ফেরার পথে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার গুটিবাড়ী সরকারপাড়া এলাকায় খুন হন ভিকটিম মো. ইব্রাহিম ওরফে ইব্রা। জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন মিলে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতরভাবে আঘাত করে মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান ইব্রাহিম। ইব্রাহিমের বড় ভাই মফিজ উদ্দিন মিঠাপুকুর থানায় আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদসহ এজহারনামীয় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে একই বছর ডিসেম্বর মাসে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ও এজাহারনামীয় বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেন। পরবর্তী অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে রংপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ইব্রাহিম হত্যাকা-ে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে চার্জশিটে অভিযুক্ত তিনজনকে ২০০৩ সালের ১৩ এপ্রিল যাবজ্জীবন সাজা দেন। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফারাজ উদ্দিন (৫০) গ্রেপ্তার থাকলেও সাজাপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি আবু ডাকাত ও আবুল কালাম আজাদ পলাতক ছিলেন। পরে আবু ওরফে আবু ডাকাত গ্রেপ্তার হলেও আবুল কালাম আজাদ ছিলেন অধরা। আজাদকে গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট থানা চিঠি পাঠালে র‌্যাব-৪ আজাদকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। সর্বশেষ সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে মিরপুর পাইকপাড়া আহম্মেদনগর এলাকা থেকে আজাদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, আবুল কালাম আজাদ মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তিনি ১৯৮৭ সালে দাখিল, ১৯৮৯ সালে আলিম, ১৯৯১ ফাজিল পাস করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় টানা ২৯ বছর পালিয়ে কাটিয়ে দেন। ২০০৭ সালে আসামি নাম-পরিচয় গোপন করে তার পার্শ্ববর্তী বদরগঞ্জ থানার বাতাসন গ্রামে সাবানা (১৯) নামে একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জানায় স্ত্রীর সঙ্গেও তার ছয় মাস পরেই বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯২ সালে মামলা হওয়ার পর থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরিচিত লোকজন থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখতে ২০০১ সালে ঢাকায় আসেন। ২০০১ সাল থেকে গ্রেপ্তারের আগে তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেন। বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সর্বশেষ তিনি মিরপুরের আহম্মেদনগরের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন। নিজেকে আড়াল করার জন্য আজাদ মিয়া নাম ধারণ করে মিরপুর থানাধীন আহম্মেদনগরকে বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে রংপুর, মিঠাপুকুর ও গ্রাম গুটিবাড়ী কবিরাজ পাড়া ব্যবহার করেন।