August 11, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, July 25th, 2022, 9:19 pm

৯৯ কোটি টাকার রাজাপুর সেতু’র সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরমে

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কে মনু নদের ওপর ‘রাজাপুর সেতু’ নির্মাণের কাজ বছরখানেক আগে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এখনো হয়নি। যার কারণে দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন এতদ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। এ অবস্থায় উঁচু সেতুর দুই পাশে বাঁশের মই স্থাপন করে স্থানীয় লোকজন জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সরকারের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনাটি লাল ফিতায় বন্দি রয়েছে। যার কারণে সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হচ্ছে না।

সওজ অধিদপ্তর ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় মনু নদের পাড়ে একটি খেয়াঘাট ছিল। নদের বিপরীত পাশে হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়ন পড়েছে। এসব এলাকার লোকজন রাজাপুরের খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন নৌকায় করে নদ পার হয়ে পৃথিমপাশাসহ উপজেলা সদরে বিভিন্ন কাজে আসা-যাওয়া করতেন। এতে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। উপজেলার পৃথিমপাশা এবং হাজীপুর ইউনিয়নের মানুষ লাগাতার কয়েক বছর নদের তীরে মানববন্ধন ও আন্দোলন শুরু করে। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে রাজাপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন হলে সওজ অধিদপ্তর মনু নদের ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পে ‘কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কের ১৪ তম কিলোমিটারে ২শত ৩২ দশমিক ৯৪ মিটার পিসি গার্ডার সেতু, সাড়ে সাত কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও জমি অধিগ্রহণ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ১৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ৩৪ কোটি টাকায় ব্যয়ে ‘জন্মভূমি-ওয়াহিদুজ্জামান-নির্মিতি’ নামের সিলেটের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ এর জুন পর্যন্ত ছিল। ২০২১ সালের জুন মাসের দিকে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যায়। প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর দুই পাশে সাড়ে সাত কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ পায় ‘জামিল-ইকবাল’ নামের সিলেটের আরেকটি যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের মেয়াদ চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নব-নির্মিত সেতুটি বেশ উঁচু। এটির পূর্ব পাশে প্রায় ৪০-৪৫ ফুট এবং পশ্চিম পাশে প্রায় ৩০-৩৫ ফুট উঁচু বাঁশের মই লাগানো। মইয়ের দুই পাশে বাঁশ দিয়ে রেলিং দেওয়া হয়েছে। লোকজন মই বেয়ে সেতুতে ওঠা-নামা করছেন। দুই পাশের মই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী লোকজন বলেন, মনু নদের ওপর সেতুর অভাবে শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের লোকজন প্রতিদিন উপজেলা সদরে আসতে হলে অতিরিক্ত প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। এখন সেতু নির্মাণ হওয়ায় ওই দুই ইউনিয়নের মানুষ সেতু পারাপারের সুবিধার্থে সেতুর দুই পাশে বাঁশের মই স্থাপন করেন।

সওজ অধিদপ্তরের কুলাউড়া সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার মুঠোফোনে বলেন, রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়কে ২০টি কালভার্টের মধ্যে আটটি ইতিমধ্যে নির্মাণ হয়ে গেছে। জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

মৌলভীবাজার জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার মো: বেলায়েত হোসেন জানান, রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কমিটির সভা হবে। ওই সভায় অধিগ্রহণের বিষয়টি অনুমোদন হলে দ্রুত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ (মৌলভীবাজার) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়া উদ্দিন বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৫০ শতাংশ প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। এটির প্রাক্কলন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রস্তুত হচ্ছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত হওয়ার পর খুব শীঘ্রই অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। বাকি ৫০ শতাংশের অনুমোদনের জন্য আগস্ট মাসে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, সওজ অধিদপ্তর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠাতে অনেক সময়ক্ষেপণ করেছে। যার কারণে অধিগ্রহণ কাজ শুরু করতে একটু দেরি হচ্ছে। এখন বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।