May 18, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, February 19th, 2024, 8:40 pm

টানা ৬ ম্যাচে হয়লুনের গোল, ইউনাইটেডের টানা ৪ জয়

অনলাইন ডেস্ক :

প্রথম মিনিটেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোল উদযাপন। ছয় মিনিট পর আরও একবার। লুটন টাউনও কম যায় না, কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি গোল শোধ করে দেয় তারা। ম্যাচজুড়ে এমন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চললেও শুরুর এই গোল উৎসব পরে যদিও আর দেখা যায়নি। ব্যবধান ধরে রেখে প্রিমিয়ার লিগে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে এরিক টেন হাগের দল। গাসমুস হয়লুনের জোড়া গোলে প্রতিপক্ষের মাঠে রোববার ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ইউনাইটেড। এবারের প্রিমিয়ার লিগে এই প্রথম টানা চার ম্যাচে জিতল ম্যানচেস্টারের দলটি। দুর্দান্ত এই জয়ের পথে দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন হয়লুন। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। ২১ বছর ১৪ দিন বয়সে রেকর্ডটি গড়লেন হয়লুন; আগের রেকর্ড ছিল নিউক্যাসলের মিডফিল্ডার জো উইলকের, ২১ বছর ২৭২ দিন বয়সে।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণ শাণায় লুটন টাউন। বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে তা প্রতিরোধ করে পাল্টা-আক্রমণে ওঠে ইউনাইটেড। তাতে হয়তো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় লুটনের রক্ষণভাগ, ডিফেন্ডার আমারি বেল বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তুলে দেন হয়লুনের পায়ে। প্রতিপক্ষের এমন উপহার পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বক্সে ঢুকে বল জালে পাঠান তরুণ ডেনিশ ফরোযার্ড। ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন ৩৭ সেকেন্ড! চলতি প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের যা দ্রুততম গোল। সপ্তম মিনিটে আবারও ইউনাইটেডের গোল এবং উদযাপনের মধ্যমণি হয়লুন। এই গোলে অবশ্য অনেক বড় কৃতিত্ব আরেক তরুণ ফরোয়ার্ড আলেহান্দ্রো গারনাচোর। ডি-বক্সের মুখ থেকে জোরাল ভলি করেন এই আর্জেন্টাইন, আর কাছের পোস্টে দারুণ ভঙ্গিতে একেবারে ঠিক সময়ে শরীরটাকে একটু বাঁকা করেন হয়লুন, বল তার বুকে লেগে গোললাইন পেরিয়ে যায়। প্রিমিয়ার লিগে এই প্রথম কোনো ম্যাচে জোড়া গোল করলেন হয়লুন।

লুটনও শুরু থেকে প্রতিপক্ষের চোখে-চোখ রেখে লড়াই করতে থাকে। তাতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। চতুর্দশ মিনিটে গোলও পেয়ে যায় দলটি। কাছ থেকে হেডে ব্যবধান কমান ইংলিশ ফরোয়ার্ড কার্লটন মরিস। বিরতির আগে অল্পের জন্য বেঁচে যায় ইউনাইটেড। ইংলিশ মিডফিল্ডার অ্যালফি ডাউটির নিচু শট পোস্টের পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম ১৫ মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করে ইউনাইটেড, কিন্তু জালের দেখা মেলেনি। ৫৭তম মিনিটে মার্কাস র‌্যাশফোর্ডের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর ব্রুনো ফের্নান্দেস গোলরক্ষককে কাটিয়ে কোণাকুণি শট নেন; কিন্তু দারুণ স্লাইডে রুখে দেন লুটনের মিডফিল্ডার সাম্বি লোকোঙ্গা। ৬৬তম মিনিটে ফের প্রতি-আক্রমণে ওঠে ইউনাইটেড।

সতীর্থের থ্রু পাস ধরে গারনাচো ঢুকে পড়েন ডি-বক্সে, আগুয়ান গোলরক্ষককে কাটাতে গিয়ে একটু গড়মিল হয়ে যায়, তারপরও বল নিয়ন্ত্রণেই ছিল, কিন্তু পরে আর ঠিকমতো শট নিতে পারেননি তিনি। ৭৭তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণের ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হয়লুন। গারনাচোর কাটব্যাক ধরে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন তিনি। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে পয়েন্ট তালিকার ১৭ নম্বর দল লুটন। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ভাগ্য বিরূপ না হলে গোল পেয়েও যেত তারা, রস বার্কলির হেড ক্রসবারের ওপরের অংশে লাগে। তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।

মৌসুমের প্রথমভাগে খারাপ সময়ে ঘুরপাক খাওয়া দলটি এখন শীর্ষ চার থেকে ৫ পয়েন্ট দূরে। ২৫ ম্যাচে ১৪ জয় ও ২ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৪৪। তাদের ওপরে টটেনহ্যাম হটস্পারের পয়েন্ট ৪৭। আর চার নম্বরে অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ৪৯। টেবিলের চূড়ায় লিভারপুলের পয়েন্ট ৫৭। ২ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আর্সেনাল। ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ম্যানচেস্টার সিটি, শিরোপাধারীরা অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছে।