September 22, 2024

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, July 13th, 2022, 9:27 pm

মেয়াদে শেষ না হওয়া পাঁচ প্রকল্পে ব্যয় বাড়বে ৮ হাজার কোটিরও বেশি টাকা

এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক। -ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়নি। এখন সময়ের সঙ্গে ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে প্রকল্পগুলোর মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ৮ হাজার ২১৭ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হবে। প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৩২৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে সংশোধনীর মাধ্যমে ২১ হাজার ৫৪৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই অঙ্ক আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মেয়াদকালে শেষ না হওয়া চলমান ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প। সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ : এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ। উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ (এলবিসি)। জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান চত্বরে ১টি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ। কিন্তু ওই প্রকল্পগুলোর মেয়াদকালে শেষ না হওয়ায় ক্রমাগত বাড়ছে ব্যয়।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় ছিল ৭১৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। পরে তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বাড়তি খরচ বেড়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ছিল। কিন্তু ৪ দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। আর সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ : এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। কিন্তু প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৪ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আর প্রকল্পের শুরু থেকে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর্থিক অগ্রগতির হার ৩৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ দুটি প্রকল্পের অনুমোদন ও সংশোধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
সূত্র আরো জানায়, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ (এলবিসি) শীর্ষক প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৬২৮ কোটি টাকা। পরে তিনবার সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ২৮৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা করা হয়। ফলে মূল ব্যয়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৬৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। তাছাড়া অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু বারবার সংশোধন করে তা ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাড়তি সময় বেড়েছে ১৪২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। শুরু থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ২ হাজার ১৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি প্রতিষ্ঠা শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল ব্যয় ছিল ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। দুবার সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটির ব্যয় ২৩৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৫৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ছিল ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত ছিল। কিন্তু চারবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। গত মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৫০ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৭০ শতাংশ। তাছাড়া শুধু ভবনের ৮০ শতাংশ বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে। তাঝাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান চত্বরে একটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৬৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। পরে ১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়। গত মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির অনুকূলে ৬০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ১২ শতাংশ। আর বাস্তব অগ্রগতি শতভাগ দেখানো হয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদ জানান, প্রকল্প দুটির গতি বৃদ্ধির জন্য অনেকবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। মূলত শুরুতেই বেশ কিছু জটিলতা থাকায় তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে দেরি হয়েছে।
অন্যদিকে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, অনেক সময় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিক কিছু কারণ থাকে। তবে এাঁও সত্য যে কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়নে দেরি হয়। তাতে ব্যয় বাড়বেই। কারণ মেয়াদ বাড়লে আনুষঙ্গিক অনেক খাতে ব্যয় বাড়বেই। আর সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না হলে তার থেকে যে সুবিধা পাওয়ার কথা তা যথাসময়ে পাওয়া যায় না। ওই রকম আরো নানা সমস্যা হতে পারে।