November 30, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Wednesday, August 18th, 2021, 1:16 pm

করোনাকালে চিকিৎসা সঙ্কটে বাড়ছে নবজাতক ও মাতৃমৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চলমান করোনা মহামারীর সময়ে দেশের বেশিরভাগ হাসপাতালেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। ফলে গর্ভধারণ করলেও সংক্রমণের ভয়ে সন্তানসম্ভবা মায়েরা হাসপাতালে যেতে পারছে না। তাতে কোন কোন ক্ষেত্রে মায়ের গর্ভের শিশু যেমন শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম হচ্ছে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে মা ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। করোনাকালে সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রসবপূর্ব সেবা সন্তানসম্ভবা মায়েরা আগের বছরের তুলনায় কম নিয়েছে। বিগত ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে প্রসবপূর্ব ন্যূনতম ৪ বার সেবা নেয়ার হার এক-চতুর্থাংশেরও কম ছিল। আর ওই সময়ে মাতৃ মৃত্যু ১৭ শতাংশ বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০১৯ সালে ৯৬৭ জন এবং ২০২০ সালে ১ হাজার ১৩৩ জন মায়ের প্রসবকালীন মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৪৮২ জন মায়ের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মাতৃ মৃত্যুর যতো ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এপ্রিলে ২২৮ জন মারা গেছে। একই সময়ে প্রসবপূর্ব প্রথমবার সেবা নিতে যাওয়া মায়েদের হার ২৬ শতাংশ কম ছিল। দ্বিতীয়বার ২৫ শতাংশ, তৃতীয়বার ২৬ শতাংশ এবং চতুর্থবার ছিল ২৪ শতাংশ কম। স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, করোনা মহামারী প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। গর্ভধারণের পর থেকে সন্তান প্রসব পর্যন্ত একজন মাকে অন্তত চারবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সন্তানসম্ভবা মাকে ৮বার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার নির্দেশনা আছে। কিন্তু এদেশে সন্তানসম্ভবা মায়েদের চারবার সেবা নেয়ার হার আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালে এক-চতুর্থাংশ কম ছিল। সংখ্যা হিসাবে ধরলে তা এক থেকে আড়াই লাখ। বিশেষ করে গর্ভধারণের পর প্রথম দফায় সেবা নেয়াটা সবচেয়ে জরুরি। তখন চিকিৎসকরা মাকে পুরো গর্ভকালের একটি পরিকল্পনা দেয়। যদিও স্বাভাবিক সময়েও মায়েরা চারবার চিকিৎসকদের কারছে আসতে চায় না। তাদের বেশিরভাগই কোন জটিল সমস্যা তৈরি না হলে আসে না। আর করোনাকালে তো সংক্রমণের ভয়ে অনেক সন্তানসম্ভবা মা হাসপাতালে আসছে না। ফলে মা ও নবজাতকের শরীরে জটিলতা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
সূত্র জানায়, দেশে আজ যে শিশুটি জন্ম নেবে সেই আগামী দিনের ভবিষ্যত। আর নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে একটি সুস্থ সবল শিশুর জন্ম হলেই আগামীর পৃথিবী সুন্দর হবে। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালের গাইনি বিভাগ ওভারলোডেড। তাদের মধ্যে কোভিড-১৯ পজিটিভ যেমন আছে, তেমনি নেগটিভ রোগীও আছে। করোনা চিকিৎসায় ডেডিকেটেড অন্যান্য হাসপাতালে সার্জারির অপশন নেই। ঢাকা মেডিক্যাল বা মুগদা মেডিক্যালে তা রয়েছে। তবে মুগদার চাইতে ঢাকা মেডিক্যালেই চাপ বেশি। প্রতিদিন ৮০ জন থেকে ৯০ জন ভর্তি হচ্ছে। তারপর রয়েছে আইসিইউ সঙ্কট। ওসব সঙ্কট কাটিয়ে উঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র আরো জানায়, গত দেড় বছরের মধ্যে দেশে গত এপ্রিলে মাতৃমুত্যু সবচেয়ে বেশি। করোনাকালে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের জন্য স্পষ্ট কিছু গাইডলাইন দেয়া আছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের জন্য আলাদা সেবা কেন্দ্র রয়েছে। একজন মা ও তার সন্তানের সুস্থতা নিশ্চিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তারা যেন করোনায় সংক্রমিত না হয় সেটা দেখাও জরুরি। সেজন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গর্ভের শুরু থেকেই মাকে যে কোন হাসপাতালে চিকিৎসকের নিয়মিত তদারকিতে থাকা প্রয়োজন। ওই ব্যাপারে পরিবারকেও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বারডেম হাসপাতালের প্রসূতিবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক এবং অবসটেট্রিক্যাল এ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ ফেরদৌসী বেগম এক সাক্ষাৎকারে জানান, বিগত ২০০১ থেকে ২০১০ সালে মাতৃমৃত্যু প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ৩২২ থেকে ১৯৪-এ নেমে আসে। যদিও মাতৃমৃত্যু ২০-এ নামিয়ে আনতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে এদেশে মাতৃমৃত্যু প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ৭০-এ নামিয়ে আনা দরকার। সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশে বছরে গড়ে ২২ লাখ প্রসবের ঘটনা ঘটে। তার অর্ধেক বাড়িতেই হয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের তথ্যানুসারে বাকি অর্ধেক বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রে হয়। তাছাড়া ১৫ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ৮৫ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হয়।