February 9, 2023

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, January 8th, 2023, 8:39 pm

কয়লা সংকটসহ নানা সমস্যায় হুমকির মুখে পাথরঘাটার ইটভাটা শিল্প-কর্মহীন হতেপারে ৮ হাজার শ্রমজীবি

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা (পাথরঘাটা) :

কয়লা সংকট ও দাম বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যায় হুমকির মুখে পাথরঘাটার ইটভাটা শিল্প। এতে কর্মহীন হতেপারে ৮ হাজার শ্রমজীবি- বৃদ্ধি পেতে পারে অনাকাঙ্খিত বিভিন্ন অপরাধ। জানা গেছে পাথরঘাটার ৭ টি ইটভাটায় প্রায় ৮ হাজার বেকার সাধারণ মানুষ খুঁজে পেয়েছে কর্মের সন্ধান। কর্মের মাধ্যমে হয়েছে তাদের রুটিরুজি জোগার। তবে বর্তমান বছরের অধিকাংশ সময় এলসি বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে কয়লা আমদানিতে ব্যাপক সমস্যাসহ আর্ন্তজাতিক বাজারে কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়া ও কয়লা আমদানি কারকদের সিন্ডিকেটের কারনে বিগত বছরের তুলনায় বর্তমান বছর চারগুন বৃদ্ধি পেয়েছে কয়লার দাম। এছাড়া সময় অসময় বিভিন্ন কারনে ইটভাটার উপর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা এবং ইটভাটা বন্ধ করে দেয়ায় চরমভাবে হতাশ ও হুমকির মুখে ইটভাটা।
জানা গেছে ইট তৈরীর সৃজন নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাকি চার মাস সকল ইটভাটা বন্ধ থাকে। পাথরঘাটা ইটভাটা কর্তৃপক্ষের মতে প্রশাসনের উচিৎ ভাটা বন্ধ থাকা কালিন সরেজমিন পরিদর্শণ করে ভাটা চালু করার জন্য যেসকল নিয়ম থাকার কথা সেই সকল বিষয়ে যাচাই করে ভাটা চালুর অনুমতি প্রদান করা। কারন ৪ মাস বন্ধ থাকার পরে পূনরায় একটি ভাটা চালু করতে বিপুল পরিমান টাকা ব্যয় হয়। তাই ভাটা চালু করার পরে প্রশাসন ভাটা বন্ধ করে দিলে ভাটা মালিকদের অপুরনীয় ক্ষতি হলেও প্রশাসন মাঝে মাঝে সেটাই করেন। যা অর্থনৌতীকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। সূত্র বলেন এসব কারনে ইতোমধ্যে অনেক ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাকি ইটভাটাগুলোও একসময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বৃহৎ একটি জনগুষ্ঠির জন্য ব্যাপক ক্ষতি বয়ে আনবে।

পাথরঘাটা ইটভাটা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে অবর্ণনীয় সমস্যা থাকার পরেও স্থানীয় দিনমজুরদের কাছে প্রায় কোটি টাকা অগ্রীম দেওয়া এবং তাদের বেকারত্বের কথা চিন্তা করেই বর্তমান বছর কোনভাবে চালু রেখেছেন ইটভাটা। সূত্র জানায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে প্রতি টন কয়লার মূল্য ছিল ৮ হাজার টাকা যার বর্তমান বছর প্রতিটন কয়লার মূল্য ৩২ হাজার টাকা। এছাড়া ইট তৈরী করার মাটির সংকটসহ নানা সমস্যায় চরম ভাবে হুমকির মুখে পাথরঘাটার ইটভাটা। পাথরঘাটায় আরএসবিসহ ৭টি ইটভাটায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮ হাজার বেকার যুবক যুবতি কাজ করে আসছেন।

উল্লেখিত সমস্যার সমাধান না হলে উক্ত ৮ হাজার সাধারণ মানুষ বেকার হবে ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে সমাজের সকল স্তরে। বাড়তে পারে চুরি ডাকাতি সহ নানা অপরাধ। এছাড়াও মানুষ নিরুপায় হয়ে দেশের বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী সুন্দর বন থেকে সুন্দরী কাঠসহ নানা কাঠ পাচার ও হরিণ শিকারে লিপ্ত হতে পারে। সুশীল সমাজের মতে উন্নয়নের মুল অবকাঠামো ইটভাটা বাচিয়ে রাখাসহ বেকারত্ব দূর করতে যেমন করেই হোক ইটভাটা বাচিয়ে রাখা জরুরী। তাদের মতে কয়লা আমাদানী সিন্ডিকেটদের ব্যাপারে সরকারের কঠর হস্তক্ষেপ করে কয়লার দাম নিয়ন্ত্রনে আনাসহ ইটভাটা মালিকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা উচিৎ।

আরএসবি ইটভাটার শ্রমিক মো. লিটন, মো. নাসির সরদার, মো. মিরাজসহ একাধিক শ্রমিক বলেন আমাদের রুটিরুজি জোগারের একমাত্র ভরসাই হল ইটভাটা। তারা বলেন ইটভাটা বন্ধ হলে আমরা বেকার হয়ে যাব, আমাদের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাবে এবং আমাদের অনাহারে থাকতে হবে। যেমন করেই হোক পাথরঘাটার ইটভাটা শিল্পকে বাচিয়ে রাখার দাবি জানান তারা।

জানতে চাইলে আর এস বি ইটভাটার মালিক ও পাথরঘাটা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক কিসলু বলেন আমার ভাটায় প্রায় ২ হাজার বেকার যুবক যুবতি কর্মকরে তাদের রুটিরুজি জোগার করে আসছে। এভাবে পাথরঘাটার ৭টি ইটভাটায় প্রায় ৮ হাজার বেকারদের কর্মের ব্যবস্থা হয়েছে।
আমরা বর্তমানে নিজেদের কথা না ভেবে ওই সকল সাধারণ মানুষদের জীবিকা সংগ্রহ করার কথা ভাবি কারন তাদের একমাত্র ভরসাই আমাদের ইটভাটা। তিনি বলেন এতদিন ভাটা চালু রাখা সম্ভব হলেও কয়লার দাম চারগুন বৃদ্ধি পাওয়া এবং কয়লা আমদানি মাঝে মাঝে বন্ধ থাকাসহ নানা সমস্যায় বর্তমানে বাটা চালু রেখে ইট তৈরী করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কিসলু বলেন কয়লা ক্রয় করার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েও কয়লা পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি বলেন ইটভাটা বাচিয়ে রাখতে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ।