December 3, 2022

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Sunday, November 20th, 2022, 9:13 pm

রংপুরে ১০ হাজার ইভিএমের কিছু খেয়েছে উইপোকায়, কোনোটি ভাঙা, সচল করতে তড়িঘড়ি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর :

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অচল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনগুলো (ইভিএম) সচল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। হঠাৎ তড়িঘড়ি করে রংপুর আঞ্চলিক সার্ভার স্টেশনে পড়ে থাকা দুই হাজারেরও বেশি ইভিএম ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসব মেশিনে সময় ও তারিখসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকায় সেগুলো এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে শুধু রংপুর আঞ্চলিক সার্ভার স্টেশনে পড়ে থাকা ইভিএমই নয়, এমন অবস্থা রংপুর অঞ্চলে সংরক্ষিত ১০ হাজার ইভিএমের। অধিকাংশ ইভিএমের প্যাকেট কেটে উইপোকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে আবার কোনটি ভাঙা পড়েছে। অকেজোর তালিকায় রয়েছে চুরি বা যন্ত্রাংশ হারানো অসংখ্য ইভিএম।
রসিক নির্বাচন সামনে রেখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এই অঞ্চলে সংরক্ষিত ইভিএমগুলোর কিউসি পরীক্ষা করা হয়। রংপুর অঞ্চলে সংরক্ষিত ১০ হাজার ৭৫৯টি ইভিএমের মধ্যে ৬ হাজার ৩৫টি ত্রুটিপূর্ণ। আর এক হাজার ১২৩টি ইভিএমের মধ্যে কোনোটির যন্ত্রাংশ চুরি গেছে, অনেকগুলোর হদিসই নেই।
রংপুরের ইভিএম পর্যবেক্ষণ শেষে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। সেই চিঠিতে জানানো হয়, অধিকাংশ ইভিএমের প্যাকেট কেটে উইপোকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সব যন্ত্রপাতি। অযতœ আর অবহেলায় স্পর্শকাতর ইভিএমের যন্ত্রপাতির অধিকাংশই অকেজো হয়ে গেছে। রক্ষণাবেক্ষণের আগে এসব যন্ত্র আর ব্যবহার করা যাবে না। অতি স্পর্শকাতর এই ইভিএম সংরক্ষণে আরও ৮ দফা সুপারিশ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।
এদিকে রংপুর আঞ্চলিক সার্ভার স্টেশন সূত্রে জানা যায়, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে থাকা ইভিএম মেশিনগুলো দিয়ে ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবার রংপুর সিটি নির্বাচনেও ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। যেহেতু জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএমগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেহেতু রসিক নির্বাচনে যাতে কোনো ত্রুটি না হয় সেজন্য ইভিএমগুলো চেকিং ও সফটওয়্যার আপডেটের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে দুই হাজার ৯৬টি ইভিএম মেশিন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর থেকে মেশিনগুলো চেকআপ ও সফটওয়্যার আপডেট করার জন্য পর্যায়ক্রমে পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে এক হাজারের মতো ইভিএম মেশিন চলেও এসেছে।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন নির্বাচনে সেগুলো ব্যবহারের পর সারাদেশের ইসির আঞ্চলিক অফিসগুলোতে তা সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে সংরক্ষণ করা হয়েছিল ১০ হাজার ৭৫৯টি ইভিএম।
এদিকে কয়েক দিন ধরে ইভিএম মেশিন ঢাকায় পাঠানোর খবরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সাধারণ মানুষ, সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। ইভিএম মেশিন নষ্ট থাকলে সেগুলো দিয়ে পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো সঠিক হয়েছে কিনা তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। রসিক নির্বাচনে কি নিখুঁত ইভিএম মেশিন ব্যবহার হবে- এমন প্রশ্ন এখন ভোটার থেকে শুরু করে প্রার্থীদের মুখে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, সঠিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিখুঁত ইভিএম প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের দাবি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন প্রবেশ করানোর আগে আমাদের এজেন্টদের ওপেন করে দেখাতে হবে। এজেন্টদের ইভিএম মেশিন চালু করে শূন্য রেডিং দেখাতে হবে।
প্রসঙ্গত, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের সঙ্গে বর্ধিত এলাকার (সাবেক সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে) আরও ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত করে ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। এরপর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু প্রথম নগরপিতা হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে এই সিটির জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। আর ভোটার রয়েছে চার লাখেরও বেশি। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় নির্বাচনের সময় ভোটার ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। এতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মেয়র নির্বাচিত হন।
এবার তৃতীয় বারের মতো রসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরের দিন ৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা ১৭ দিন প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাবেন। ২৭ ডিসেম্বর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এক টানা ভোটগ্রহণ চলবে।