December 2, 2021

The New Nation | Bangla Version

Bangladesh’s oldest English daily newspaper bangla online version

Monday, October 18th, 2021, 9:52 pm

রংপুর মেডিকেল রোগাক্রান্ত, শুশ্রূষা কি নেই

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুর বিভাগের দুই কোটি মানুষের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’ এর অন্তরে ও বাহিরে নানা রোগ দানা বেঁধেছে। সম্প্রতি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ৫ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে সোয়া ৩ কোটি টাকাই লোপাট করা হয়েছে। এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. আবদুর রউফসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামি হলেন, থ্রি আই মার্চেন্ডাইজারের মালিক মো. মোকছেদুল ইসলাম।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দরপত্রের ক্রয়নীতি অনুসরণ না করে ওই কলেজের ডেন্টাল বিভাগের জন্য চেয়ার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, রংপুর মেডিকেল কলেজে ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার কেনার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাংক গ্যারান্টি (পারফরমেন্স সিকিউরিটি) নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া এসব চেয়ার কেনায় বাজার দর যাচাই ছাড়াই দরপত্র ওপেনিং কমিটি ও কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি গঠনে ২০০৮ এর ক্রয়বিধি লংঘন করে দুই কোটি ৮২ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে ডা. মো. আবদুর রউফ মেডিকেল কলেজটির অধ্যক্ষ থাকাকালীন এসব চেয়ার কেনা হয়। তখন ডেন্টাল বিভাগের জন্য কেনা পাঁচটি চেয়ার ও সরঞ্জামাদির দাম বেশি দেখিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও অধ্যক্ষ যোগসাজশে এক কোটি ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।
হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য অবর্ণনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে এই দালালদের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন হরহামেশা। হাসপাতালে ভর্তি ফি ৩০ টাকা হলেও জোর করে অনেকের কাছ থেকে জরুরি বিভাগ ১০০ টাকা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে জরুরি বিভাগের কর্মচারীদের দ্বারা অনেকে নির্মম মারধরের শিকার হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এতো গেলো মেডিক্যালের ভেতরের অনেকগুলো রোগের মধ্যে দুটি, এবার মেডিক্যালের বাইরের রোগের কিছু নমুনা দেখা যাক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়। শৌচাগারে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না। অনেক বাথরুমে লাইট নেই। মশার অত্যাচারে ঘুমাতে পারেন না রোগীরা। সিসিইউয়ে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) অবস্থা তো ভয়াবহ। ১০ শয্যাবিশিষ্ট বড় কক্ষ। সার্বক্ষণিক শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে কক্ষটিতে কোনো জানালা রাখা হয়নি। পাঁচটি বড় বড় এসির একটিও চলছে না। একটি দরজার অর্ধেক বন্ধ। প্রচ- দাবদাহের দিনেও বাইরের বাতাস আসার কোনো উপায় নেই, নেই ফ্যান কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা। সোজা কথায় একটি গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে এই সিসিইউ। জানা যায়, এক বছর ধরে সেগুলো নষ্ট হয়ে আছে। হৃদ্রোগের চিকিৎসাকেন্দ্রেরই বেহাল অবস্থা।
হাসপাতালের রুইকাতলারা যখন কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে তখন করোনাকালীন প্রণোদনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সরা। নার্স অ্যাসোসিয়েশনের এ কর্মসূচিতে হাসপাতালের পরিচালককে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রণোদনার টাকা দেওয়া না হলে নার্সরা কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, করোনাকালে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, শুধু সে নার্সরাই প্রণোদনা পাবেন, সবাই নন।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টার এ কর্মসূচি পালন করেন নার্সরা। এর আগেও একই দাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন নার্সরা।
হাসপাতালের বিক্ষোভকারী নার্সদের দাবি, সরকার নার্সদের দুই বেসিক পরিমাণ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে। চিকিৎসক-কর্মচারী সবাই সে প্রণোদনা পেয়েছেন। কিন্তু নার্সরা এখনো তা পাননি। সবশেষ ২২ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ করে একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফোরকান আলী বলেন, হাসপাতালের পরিচালক তাঁদের কথা শুনতে চান না। চিকিৎসক-কর্মচারীরা প্রণোদনা পেলে তাঁরা কেন পাচ্ছেন না, এর উত্তর নেই। তাই আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রণোদনা দেওয়া না হলে তাঁরা কর্মবিরতি ও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, রংপুর মেডিকেলে ২৩১ নার্সের মধ্যে যাঁরা করোনাকালে দায়িত্বরত ছিলেন, তাঁরাই প্রণোদনা পাবেন। কিন্তু নার্স অ্যাসোসিয়েশন হাসপাতালের এক হাজার কর্মরত নার্সের জন্য প্রণোদনার দাবি করছে। তাই প্রণোদনার বিষয় নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।